চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

৩০ ডিসেম্বর, ২০২০ | ২:২৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের দুই তরুণ: সময়ের আগেই পরিপক্ক ফলন!

নির্ধারিত সময়ের আগেই ফলন পাওয়ার প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে চট্টগ্রামের দুই তরুণ বিজ্ঞানী। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ায় অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সায়েন্স এন্ড ইনভেশন ফেয়ারে (আই এস আই এফ) গবেষণাটি উপস্থাপন করে হয়েছেন বিজয়ীও। যারা দীর্ঘ ছয়মাস মরিচ গাছের মধ্যে ‘ব্যাসিলাস সাবটিলিস’ নামে একটি ব্যাকটেরিয়া তথা অণুজীবের উপস্থিতিতে মরিচের বৃদ্ধি বেড়ে যাওয়া এবং দ্রুত সময়ে তার পরিপক্কতা কীভাবে পাওয়া যায় তা নিয়ে গবেষণা করেন।

তরুণ গবেষকরা জানান, যে কোন শস্যের মধ্যে এ ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে তার ফল। একই সাথে গুণাগুণ অক্ষত রেখে দ্বিগুণ ফলনও উৎপাদন করা সম্ভব এ প্রযুক্তি ব্যবহার করে। এদিকে এ দুই স্কুল শিক্ষার্থীর এমন চমৎকার চিন্তাধারা ও উদ্ভাবন দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে পারে বলে মত সংশ্লিষ্টদের। তাদের মতে, একদিকে চাষীরা যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশের অর্থনীতিও চাঙ্গা হবে।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রাক বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনভিত্তিক এই প্রতিযোগিতাটি বিশ্বের সবচেয়ে নামকরা বিজ্ঞান প্রদর্শনীর অন্যতম। এবার চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ৩৩০ দলের মধ্যে চার ধাপের প্রতিযোগিতা শেষে দ্বিতীয় রানার আপ হয় বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ দলের দুই সদস্য ছিল আনাস আহমেদ ও তালহা জুবায়ের। দুইজনই চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল থেকে এসএসসি সমাপ্ত করে সম্প্রতি ভর্তি হয়েছে ঢাকার নটরডেম কলেজে। এতে চ্যাম্পিয়ন হয় যুক্তরাষ্ট্র ও নেদারল্যান্ডের প্রতিযোগীরা এবং প্রথম রানার আপ হয় চীন। পদার্থবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও পরিবেশবিজ্ঞান এ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় এ প্রতিযোগিতা। এতে বিশ্বে বিরাজমান কোন সমস্যা সমাধানের উপায় বের করা কিংবা প্রচলিত পদ্ধতির চেয়ে অধিকতর কার্যকর কোন পদ্ধতিতে কাজ করার উপায় বের করতে হয় বিজ্ঞানীদের।

আনাস আহমেদ পূর্বকোণকে বলেন, ‘ব্যাসিলাস সাবটিলিস’ নামের একটি ব্যাকটেরিয়া তথা অণুজীবের ব্যবহার করে কীভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই শস্য থেকে ফলন পাওয়া যায় তা নিয়ে গবেষণা করা হয়। দীর্ঘ ছয় মাস ধরে নিজেদের বাসার বারান্দায় ও ছাদের মধ্যে এ গবেষণার কাজ চালিয়ে যাওয়া হয়। তাতে দেখা যায় ব্যাসিলাস সাবটিলিস নামের এ ব্যাকটেরিয়া ব্যবহারে মরিচের বৃদ্ধি বেড়ে যাওয়া এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ফল পাওয়ার দৃশ্যটি দেখা যায়। অর্থাৎ একটি মরিচ গাছ স্বাভাবিকভাবে চার সপ্তাহে ফলন দিলেও এ ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহারের ফলে দুই সপ্তাহের মধ্যেই গুণগতমান অক্ষত রেখে উৎপাদন বা ফলন করা সম্ভব। ’

গবেষণার বিষয়ে এ দুই শিক্ষার্থী জানান, মাটিতে বসবাসকারী ব্যাকটেরিয়ার মধ্যে ব্যাসিলাস সাবটিলিস ব্যাকটেরিয়া অন্যতম। এ প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া কীভাবে বীজের অঙ্কুরোদগম সময়, অঙ্কুরোদগম হার এবং চারার বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে সেটাই ছিল প্রজেক্টের মূল বিষয়। পরীক্ষণটি করা হয়েছিল মরিচ বীজের ও বীজ অঙ্কুরিত হয়ে উৎপন্ন চারার উপর। সাধারণভাবে বৃদ্ধির সাথে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে বৃদ্ধির তুলনা করে দেখা যায় এ ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতিতে চারার বৃদ্ধি খুব দ্রুত হয়। অঙ্কুরোদগমের সময় ও হ্রাস পায় এবং অঙ্কুরোদগম হার বৃদ্ধি পায়।

এদিকে, ক্ষুদে দুই বিজ্ঞানীর গবেষণাকে স্বাগত জানিয়ে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও গবেষক ড. আদনান মান্নান পূর্বকোণকে বলেন, ‘স্কুলের বাচ্চাদের মাথায় এত চমৎকার চিন্তাধারা অবশ্যই দেশের জন্য গর্বের। যারা বিশে^র অন্যান্য দেশের সাথে লড়ে জয় হওয়া আমাদের আনন্দের। আইডিয়া ছোট হতে পারে, তবে তা দেশের অর্থনীতিতে অবশ্যই বিশাল অবদান রাখবে। একদিকে যেমন চাষ বৃদ্ধি পাবে অন্যদিকে চাষীদেরও আয় বাড়বে এ উদ্ভাবন। হয়তো এ চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে অন্যান্য গাছের ক্ষেত্রেও সুফল মিলতে পারে’।

উল্লেখ্য, আনাস নগরীর চান্দগাঁও আবাসিকের মো. আনোয়ার হোসাইন ও নাসরিন খানম এর সন্তান। ইতিপুর্বে তিনি অর্জন করেছেন জাতীয় ফিজিক্স অলিম্পিয়াডের চ্যাম্পিয়ন পদক ও জুনিয়র সায়েন্স অলিম্পিয়াডে রানার আপ পুরস্কার। আর তালহা মো. ছিদ্দিকুর রহমান ও তাসলিমা বেগমের সন্তান ইতিপূর্বে বিজয়ী হয়েছেন বায়োলজি অলিম্পিয়াডে। তারা দুজনই ভবিষ্যতে বিজ্ঞানী হতে চান আর পড়তে যেতে চান হার্ভার্ড বা ক্যামব্রিজের মত প্রতিষ্ঠানে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 312 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট