চট্টগ্রাম শনিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২১

১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ | ২:২৮ অপরাহ্ণ

তাসনীম হাসান 

বৈদ্যুতিক ১০ খুঁটির ‘সড়ক দখল’ !

নগরীর রহমত উল্লাহ চৌধুরী সড়কের ক্যান্টিন গেট থেকে আমবাগান এলাকা। সড়কের এই প্রায় এক কিলোমিটার অংশের ওপর দাঁড়িয়ে আছে অন্তত ১০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি। একটু পর পরেই সেসব খুঁটির অবস্থান। ফলে সড়ক প্রশস্ত হলেও সুফল মিলছে না। উল্টো খুঁটিগুলোর কারণে নতুন করে তৈরি হয়েছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। এই সড়ক দিয়ে নিয়মিত যাওয়া-আসা করা মানুষদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, খুঁটিগুলোর কারণে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটছে। বিশেষ করে রাতের দিকে আতঙ্ক বাড়ে। কারণ ওই সময়ে সড়কবাতি না জ্বললে বড় ধরণের বিপদ ঘটতে পারে।

গতকাল (শনিবার) বিকেলে সরেজমিনে ওই সড়কে দেখা যায়, উত্তরপাশে প্রায় ১৫ হাত সড়কটি প্রশস্ত করা হলেও কোনো কাজে আসছে না। একটু পর পর ছোটখাটো যানজট লেগে যাচ্ছিল। আবার খুঁটি রয়ে যাওয়ায় প্রশস্ত করা অংশটিকে অনেকেই পার্কিং বানিয়ে ফেলেছেন। সেখানে যখন ইচ্ছে তখন রাখছেন ট্রাক-টেম্পো কিংবা রিকশা। সবমিলিয়ে খুঁটির কারণে সড়কটির এক তৃতীয়াংশ অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন টেম্পো চালান আবদুর রহিম। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, রেলওয়ের নানা স্থাপনার কারণে এই সড়কটি সবসময় ব্যস্ত থাকে। অনেকদিন সড়কটি বেহাল ছিল। তাই সড়ক সংস্কার হতে দেখে আমরা খুশিই হয়েছিলাম। কিন্তু যে ‘লাউ সেই কদু’। বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে ভোগান্তিতো কমেইনি, উল্টো দুর্ঘটনায় পড়ার আতঙ্কে থাকতে হয় সবসময়।

ওই সড়কের পাশে বসা সালাহউদ্দিন নামের এক ভাসমান দোকানি পূর্বকোণকে তুলে ধরেন দুর্ঘটনার চিত্র। তিনি বলেন, খুঁটির কারণে প্রায় প্রতিদিনই একটা না একটু দুর্ঘটনা চোখে পড়ছে। হয় এক গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়ির ঠোকাঠুকি হয়, না হয় খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা। এভাবে একদিন মৃত্যুর ঘটনাও ঘটতে পারে। তখন হয়তো প্রশাসনের টনক নড়বে।

সিটি করপোরেশন ও রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রায় আড়াই কিলোমিটারের এই সড়কটি রেলওয়ের নিজস্ব সম্পত্তির ওপর গড়ে ওঠেছে। তবে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণ ও সম্প্রসারণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনকে হস্তান্তর করা হয়। এরপর গত বছরে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সড়কে সংস্কার ও প্রশস্তের কাজ শুরু হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাড়ানোয় সড়কটি কোথাও ৭০ ফুট পর্যন্ত প্রশস্ত হয়েছে। তবে সড়কটি প্রশস্ত করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। কারণ সড়কের পাশে রেলওয়ের অনেক পুরোনো পানির পাইপলাইন ছিল। আবার নানা স্থাপনাও ছিল। এত কষ্ট করে সড়ক প্রশস্ত করা হলেও বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরিয়ে পিচ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। এখন খুঁটিগুলো সরাতে গেলে নতুন করে সড়কটিতে কাটাকুটি করতে হবেই।

এই বিষয়ে জানতে চাইলে পাহাড়তলি ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মোহাম্মদ হোসেন হিরণ পূর্বকোণকে বলেন, ‘সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণ প্রকল্পে বৈদ্যুতিক খুঁটিগুলো সরানোর জন্যও অর্থ বরাদ্দ আছে। আশা করছি খুব শিগগির খুঁটিগুলো সড়কের মাঝখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে’।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 138 People

সম্পর্কিত পোস্ট