চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

১৪ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১:০৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিনম্র শ্রদ্ধা সূর্য সন্তানদের প্রতি

আজ শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস

আজ ১৪ ডিসেম্বর, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১৯৭১ সালের এদিনে দখলদার পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তার দোসর রাজাকার আল-বদর, আল-শামস মিলিতভাবে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করে।

বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

দিবসটি উপলক্ষে জাতীয়ভাবে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দেবেন।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানের এদেশীয় দোসর আল-বদরের সাহায্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও বিভিন্ন স্থান থেকে শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, সংস্কৃতি কর্মীসহ বিভিন্ন পেশার বরেণ্য ব্যক্তিদের অপহরণ করা হয়। পরে রায়েরবাজার ও মিরপুরে তারের ব্রাশফায়ার করে, বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে, অনেককে লাইন ধরিয়ে গুলি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এ দুটি স্থান এখন বধ্যভূমি হিসেবে সংরক্ষিত। মুক্তিযুদ্ধের শেষলগ্নে ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে আল-বদর বাহিনী আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে ধরে নিয়ে মোহাম্মদপুর ফিজিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে স্থাপিত আল-বদর ঘাঁটিতে নির্যাতনের পর রায়েরবাজার বধ্যভূমি ও মিরপুর কবরস্থানে নিয়ে হত্যা করে। শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে রয়েছেন, অধ্যাপক মুনির চৌধুরী, ডা. আলিম চৌধুরী, অধ্যাপক মুনিরুজ্জামান, ড. ফজলে রাব্বী, সিরাজ উদ্দিন হোসেন, শহীদুল্লা কায়সার, অধ্যাপক জিসি দেব, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, সাংবাদিক খন্দকার আবু তাহের, নিজামউদ্দিন আহমেদ, এসএ মান্নান (লাডু ভাই), এএনএম গোলাম মোস্তফা, সৈয়দ নাজমুল হক, সেলিনা পারভীনসহ আরও অনেকে।

এছাড়া আরও অনেক বুদ্ধিজীবীকে তুলে নিয়ে যায় হানাদাররা। হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পরাজয় আসন্ন জেনে বাঙালি জাতিকে মেধাশূন্য করার লক্ষ্যে বুদ্ধিজীবী নিধনের এই পরিকল্পনা করে, যাদের অনেকের খোঁজ আজও জাতি পায়নি। দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করার পরিকল্পনা ছিল পাকিস্তানি বাহিনীর। তবে পরাজয়ে বাধ্য হওয়ায় তারা সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেনি। তাদের আত্মত্যাগে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, স্বাধীন মানচিত্র আর লাল-সবুজের পতাকা। পুরো জাতি শ্রদ্ধাবনত চিত্তে আজ স্মরণ করবে সেসব সূর্য সন্তানকে।

করোনার কারণে এবার স্বাস্থ্যবিধি মেনেই বুদ্ধিজীবী দিবসের কর্মসূচি পালিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও কালো পতাকা অর্ধনমিতকরণ, মিরপুরে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে ও রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে, বঙ্গবন্ধু ভবন ও দেশব্যাপী সংগঠনের কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ। সকাল ৯টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য নিবেদন। সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে বঙ্গবন্ধু ভবনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে এবং সকাল ১০ টায় রায়ের বাজার বধ্যভূমিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ।

চট্টগ্রামেও দিবসটি উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারিসহ বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসন : শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১১টায় জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। কোভিড-১৯ এর কারণে এবারের আলোচনা সভাটি জুমের মাধ্যম অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান সহকারী কমিশনারের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রাজিব হোসেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিতব্য সভায় প্রধান অতিথি থাকবে বিভাগীয় কমিশনার এ. বি. এম আজাদ।

চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগ : শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১০টায় সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্প অর্পণ, কালো পতাকা উত্তরণ, দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। দিবসটি উপলক্ষ্যে মহানগর আওয়ামীলীগের সকল কর্মকর্তা ও নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন।

উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ : শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে সংগঠনের উদ্যোগে সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে সংগঠনের দোস্তবিল্ডিংস্থ কার্যালয়ে।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব : শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে সকাল ১১টায় ক্লাবের পিএইচপি ভিআইপি লাউঞ্জে আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হবে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ : হাসপাতালের হৃদরোগ বিভাগে স্থাপিত অধ্যাপক ডা. মো. ফজলে রাব্বি মুক্তিযোদ্ধা ব্লকের দুই বছর পূর্তি ও শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা শিল্পকলা একাডেমি : শহীদ বুদ্ধিজীবী পালন ও মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে আজ থেকে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে তিন দিনের বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১১টায় স্মরণসভা, মুক্তিযুদ্ধের কবিতা ও শহীদ মুনির চৌধুরীর রচিত ‘কবর’ নাটকের অংশবিশেষ অভিনিত হবে। দিবসের স্মরণসভায় অতিথি থাকবেন চারুকলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রীতা দত্ত ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক  হোসাইন কবির।

মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সন্তান কমান্ড : চট্টগ্রাম মহানগর শহীদ বৃদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষ্যে দুপুর আড়াইটায় ফয়’স লেক বধ্যভূমির সামনে মৌলবাদের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করবে।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 151 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট