চট্টগ্রাম রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই

১০ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

হারুনুর রশিদ ছিদ্দিকী

মুক্তিযোদ্ধা ছালামত উল্লাহ মল্ল

বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই

ছালামত উল্লাহ মল্ল মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে ভারতীয় তালিকায়, মুক্তিবার্তার চূড়ান্ত তালিকায় ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের গেজেটে ৪১৫১ নাম্বারে তার নাম রয়েছে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আমি ৯ম শ্রেণির ছাত্র। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ শুনে মুক্তিযুদ্ধে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। জুনের শেষের দিকে বোয়ালখালী উপজেলার সরোয়াতলী ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা মুনসুর ছিদ্দিকী (মৃত) মাধ্যমে ধলঘাটের কমান্ডার প্রফেসর শামসুল ইসলাম (মৃত) এর গ্রুপে বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা লিচু বাগান এলাকায় একবাড়িতে মিলিত হই। সাথে ছিলেন চাচাতো ভাই আবু ছিদ্দিকী মল্ল। সেখানে ইপিআর বাহিনীর ১০/১৫ জন সৈনিক ছিলেন। সন্ধ্যায় প্রফেসর শামসুল ইসলাম, মুনসুর ছিদ্দিকী, ছিদ্দিক আহমদসহ বোয়ালখালীর জ্যোষ্টপুরা সেনের বাড়িতে মূল ক্যাম্পে যাই।

ক্যাপ্টেন করিম ও ইপিআর সুবেদার টিএম আলী গ্রুপের ২০ জনের সৈনিকসহ বোয়ালখালীর কমান্ডার মো. সোলাইমানসহ মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্পে ছিলেন। সেখানে থেকে করলডেঙ্গা লিচু বাগান এলাকায় ক্যাপ্টেন করিম ও প্রফেসর শামসুল ইসলাম, ইপিআর সুবেদা টিএম আলী গ্রুপের সৈনিক আবদুল বারেকের নেতৃত্বে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি।

বিজ্ঞাপন

আবু ছিদ্দিক মল্ল বোয়ালখালীর সামশুদ্দিন আহমদ, শিকলবাহার আবদুল কুদ্দুস, সরোয়াতলীর সাখাওয়াত হোসেন ছিলেন। ১৫ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ গ্রহণ করি। আগস্টের শেষে মুনসুর ছিদ্দিকীর নেতৃত্বে বোয়ালখালীর রাজাকার জাকেরকে ধরার জন্য তার বাড়িতে অপারেশন চালালে সে পালিয়ে যায়। সেপ্টেম্বরে ধলঘাটের হাসপাতালের ডাক্তার বদিউল আলমকে রাজাকারেরা ধরে নিয়ে যায়। খবর পেয়ে ক্যাপ্টেন করিম ও প্রফেসর শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ধলঘাট হাসপাতালে গিয়ে বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে ধলঘাট রেলস্টেশনের পাশে অবস্থান নিই। আমাদের উপস্থিতি টের পটিয়া থেকে রেল ইঞ্জিনের দু’টি বগি নিয়ে একদল পাকিস্তানি সৈনিক ধলঘাট রেলস্টেশনে নেমে করলডেঙ্গা পাহাড়ে দিকে রকেট লেঞ্চার ছোড়ে। আমি ও আমার গ্রুপের ৫/৬ জন ধলঘাট আর্বান সমবায় সমিতির বাউন্ডারি ওয়ালের ভেতর থেকে পাল্টা গুলি চালাই। পাকিস্তানিদের গুলিতে ক’জন নিহত হয়।

সেপ্টেম্বরের শেষে ধলঘাট রেলস্টেশনে চট্টগ্রাম থেকে দোহাজারীগামী ট্রেনে করে জিআরপি পুলিশ যাচ্ছিল। খবর পেয়ে প্রফেসর শাসমুল ইসলামের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা স্টেশনের দু’পাশে অবস্থান গ্রহণ করে। সুবেদার নুরুল আলম (গৈড়লা) রেলের ইঞ্জিনে মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে ইঞ্জিল উড়িয়ে দেয়। বগিতে থাকা ২২জন জিআরপি (বাঙালি) পুলিশকে ১১টি রাইফেলসহ আমরা আটক করি। ধৃত জিআরপি পুলিশসহ আমরা ভারতে দেমাগ্রীরি যাওয়ার জন্য রাঙ্গুনিয়া পদুয়া রাজাখালি বাজারের পূর্বে পাহাড়ি টিলায় এক ফরেস্ট অফিসে মুনসুর ছিদ্দিকীর সঙ্গে দেখা করি। ক্যাপ্টেন করিম, আহমদ শরীফ মনির ও শহীদ ইব্রাহিম মিয়া ওখানে ছিলেন।

ভারতে যাওয়ার জন্য কাপ্তাই লেকের করোয়া নামের ফরেস্ট অফিসে পৌঁছি। সেখানে পাকিস্তানি সৈন্যরা আমাদেরকে ঘিরে গুলি করতে থাকে। তাদের আক্রমণে শিকলবাহার কুদ্দুস, বোয়ালখালীর সামশুদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয় এবং পটিয়ার ্এয়াকুবদন্ডীর হারুন শহীদ হয়। আমরা ৪ জন ও ১৩ জন জিআরপি পুলিশকে পাকিস্তানি সৈন্যরা আটক করে প্রহার করে এবং মুক্তিযোদ্ধাদের সম্পর্কে জানতে চায়।

প্রহারের এক পর্যায়ে আমরা তাদেরকে জানাই এলাকার রাজাকারের অত্যাচারে ভারতে পালিয়ে যাচ্ছি । পরে তারা আমাদেরকে চট্টগ্রাম জেলা কারাগারে প্রেরণ করে। দেশ স্বাধীন হলে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মুক্তিযোদ্ধা এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে চট্টগ্রাম জেলা কারাগার ভেঙে আমাদেরকে মুক্ত করে।

পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা ছালামত উল্লাহ মল্ল ১৯৫৫ সালের ধলঘাট ইউনিয়নে উত্তর সমুরা গ্রামের মল্লবাড়ি এলাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা মৃত আবদুল আজিজ মল্ল। তিনি ১৯৭৩ সালে এসএসসি পাশের পর পরবর্তীতে বি.কম পাশ করেন।

 

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 116 People

সম্পর্কিত পোস্ট