চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

৯ ডিসেম্বর, ২০২০ | ১:৫৫ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী

করোনার ধাক্কা সামলে বেড়েছে কাজের গতি

ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প: ঠিকাদার নিয়োগ জানুয়ারিতে

করোনার ধাক্কা সামলে নিয়ে কাজের গতি পেয়েছে ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্প। জানুয়ারিতে নিয়োগ হবে ঠিকাদার। এরপর শুরু হবে নগরীতে প্রথমবারের মতো স্যুয়ারেজের কাজ। এর আগে করোনার কারণে প্রকল্পের কাজ পিছিয়ে যায়। কারিগরি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মালয়েশিয়ান এরিঙ্কো কোম্পানি গত মার্চে দেশে ফিরে যায়।

পরবর্তীতে মালয়েশিয়া সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসেন এরিঙ্কো কোম্পানির বিশেষজ্ঞরা। শুরু করেন প্রকল্পের কাজ। এরপর গত অক্টোবরে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। জানুয়ারিতে ঠিকাদার চূড়ান্ত করা হবে।

ওয়াসা সূত্র জানায়, ৩ হাজার ৮০৮ কোটি ৫৮ লাখ ৭৭ হাজার টাকা ব্যয়ে স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন শেষ হলে চট্টগ্রাম শহরে এটিই হবে স্যুয়ারেজের ওপর ওয়াসার প্রথম প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকার ও ওয়াসা যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

এ প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক ও ওয়াসার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, নগরীর পয়ঃনিষ্কাষণ ব্যবস্থা স্থাপনের প্রথম পর্যায় চট্টগ্রাম ওয়াসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এটির পরামর্শক প্রতিষ্ঠান হচ্ছে মালয়েশিয়ান এরিঙ্কো কোম্পানি। প্রতিষ্ঠানটি কাজ শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যে করোনা সংক্রমণ দেখা দেয়। পরবর্তীতে মালয়েশিয়া সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশে আসেন এরিঙ্কো কোম্পানির বিশেষজ্ঞরা। শুরু করেন প্রকল্পের কাজ। এরপর গত অক্টোবরে প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। জানুয়ারিতে ঠিকাদার চূড়ান্ত করা হবে।’

ওয়াসা সূত্র জানায়, নগরীর হালিশহরে চট্টগ্রাম ওয়াসার ১৬৫ একর জায়গাতে পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প স্থাপন করা হচ্ছে। প্রকল্পের অধীনে মোট ২০০ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপন, ১৫টি পাম্প স্টেশন, ১৪৪ কিলোমিটার সার্ভিস লাইন করা হবে। ২০২১ সালের শুরুতে পাইপলাইন বসানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। যার মাধ্যমে বাসাবাড়ির পয়ঃবর্জ্য সংগ্রহ করে পরিশোধনের পর তার পানি সাগরে ফেলে দেওয়া হবে। অবশিষ্ট কঠিন বর্জ্য দিয়ে কম্পোস্ট সার তৈরি হবে। এর জন্য তৈরি হবে দিনে ৮০ হাজার ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি পয়ঃশোধনাগার এবং দৈনিক ৪৫০ ঘনমিটার ধারণ ক্ষমতার একটি ফিকেল স্লাজ শোধনাগার।

সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠার ৫৮ বছর পর স্যুয়ারেজের ওপর প্রথম প্রকল্প তৈরি করে চট্টগ্রাম ওয়াসা। এর আগে ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত দুই বছর ধরে নগরীর ড্রেনেজ ও স্যুয়ারেজ নিয়ে একটি মাস্টার প্ল্যান তৈরি করে সেবা সংস্থাটি। এর মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং স্যুয়ারেজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ওয়াসা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে নগরীর ২০ লাখ মানুষ স্যুয়ারেজের আওতায় আসবে বলে জানিয়েছেন ওয়াসার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা। ১৯৬৩ সালে প্রতিষ্ঠিত চট্টগ্রাম পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সি-ওয়াসা) এর আগে নগরীতে শুধু পানি সরবরাহ করেছে। স্যুয়ারেজ বা পয়ঃনিষ্কাশন প্রকল্প গ্রহণ করতে পারেনি।

 

 

পূর্বকোণ/পি-আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 96 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট