চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

২৩ নভেম্বর, ২০২০ | ১:২০ অপরাহ্ণ

মোহাম্মদ আলী 

চট্টগ্রামের ব্যাংকেও নজরদারি বৃদ্ধি

সাইবার হামলার আশঙ্কায় চট্টগ্রামেও সতর্কতা জারি করেছে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকসমূহ। প্রতিটি ব্যাংকের শাখায় এ ব্যাপারে  নিদের্শনাও দেওয়া হয়েছে। এর আগে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর ওপর নতুন করে সাইবার হামলার আশঙ্কায় সতর্কতা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। উত্তর কোরিয়ার একটি হ্যাকার গ্রুপ এই হামলা চালাতে পারে বলে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে অনলাইন লেনদেন ব্যবস্থা ও এটিএম বুথে নজরদারি বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। দুই-একটি ব্যাংক ইতোমধ্যে রাতের বেলায় তাদের এটিএম বুথগুলো বন্ধ রাখতে শুরু করেছে।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ এ নিয়ে ব্যাংকগুলোকে একটি চিঠি দিয়েছে। তাতে বলা হয়, উত্তর কোরিয়াভিত্তিক হ্যাকার গ্রুপ ‘বিগল বয়েজ’ ২০১৬ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল। তারা আবার বাংলাদেশের বিভিন্ন ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা উত্তোলন ও সুইফট নেটওয়ার্ক ‘হ্যাক’ করতে পারে। এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে বলা হয় চিঠিতে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থায় নিরাপত্তা বাড়িয়েছে ব্যাংকগুলো। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সোনালী ব্যাংক চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের জেনারেল ম্যানেজার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ১০৮টি শাখাকে এ ব্যাপারে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে এবং যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যাংকের যে সেব কম্পিউটারে গ্রাহক পর্যায়ে আর্থিক লেনদেন হয়, সেসব কম্পিউটারের গোপনীয় পাসওয়ার্ড সংরক্ষণে কঠোরভাবে সতর্ক থাকার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ব্যাংকের এটিএম বুথগুলোতে নজরজারি বাড়ানো হয়েছে’।

এদিকে, অনুরূপ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কৃষি ব্যাংকের চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের ১০৫টি শাখাতেও। এছাড়া চট্টগ্রামের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি ব্যাংকের শাখাসমূহকেও সাইবার হামলার ব্যাপারে স্ব স্ব ব্যাংক থেকে অনুরূপ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইবার হামলার আশঙ্কায় অনেক ব্যাংক অনলাইন ব্যাংকিং সেবা সীমিত করেছে। আবার কোনো কোনো ব্যাংক অন্য ব্যাংকের গ্রাহকদের এটিএম থেকে টাকা উত্তোলন করতে দিচ্ছে না। সবচেয়ে বড় এটিএম নেটওয়ার্ক সেবাদাতা ডাচ বাংলা ব্যাংক রাত ১১ টার পর এটিএম লেনদেন বন্ধ রেখেছে। সতর্কতা তুলে না নেওয়া পর্যন্ত এসব ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আগস্ট মাসের মাঝামাঝিতে তথ্য আসে, ‌‌‍‌উত্তর কোরিয়ার ‘বিগল বয়েজ’ নামে একটি হ্যাকার গ্রুপ ব্যাংকগুলোতে সাইবার হামলা চালাতে পারে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৭ আগস্ট ব্যাংকগুলোকে সতর্ক থাকার জন্য চিঠি দেয়। চিঠি পাওয়ার পর সব ব্যাংকই বিশেষ ব্যবস্থা নেয়। কেউ তদারকি জোরদার করে আবার কেউ গ্রাহকদেরও সচেতন থাকার জন্য খুদে বার্তা দেয়।

সূত্র আরো জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরিতেও (হ্যাকিং) উত্তর কোরিয়ার একটি চক্র জড়িত ছিল বলে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (এফবিআই) তদন্তে বেরিয়ে এসেছিলে। চক্রটি ম্যালওয়্যারের মাধ্যমেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুইফট নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত কম্পিউটারের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এরপরই ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৮ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (৬৮০ কোটি টাকা) চুরি হয়। সুইফট (সোসাইটি ফর ওয়ার্ল্ডওয়াইড ইন্টার ব্যাংক ফিন্যান্সিয়াল টেলিকমিউনিকেশন) হলো আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য আদান-প্রদানের নেটওয়ার্ক। এতে ভুয়া অনুরোধ পাঠিয়ে ওই অর্থ বের করে নেয় চক্রটি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 142 People

সম্পর্কিত পোস্ট