চট্টগ্রাম বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

১ অক্টোবর, ২০২০ | ৭:১৪ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

চান্দগাঁওয়ে যে কারণে জোড়া খুন

নগরের চান্দগাঁও থানাধীন পুরাতন চান্দগাঁও এলাকায় চাঞ্চল্যকর মা ও ছেলে খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ফারুককে আটক করেছে র‌্যাব। বৃহস্পতিবার (০১ অক্টোবর) ভোরে নগরের আকবরশাহ থানাধীন পাক্কার মাথা এলাকা র‌্যাব সদস্যদের হাতে আটকের পর গত ২৪ আগস্ট এই খুনের বর্ণনা দিয়েছে প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে। গত ২৪ আগস্ট পুরাতন চান্দগাঁও রমজান আলী সেরেস্তাদারের বাড়ি এলাকায় নিজ বাসায় খুন হন গুলনাহার বেগম (৩৩) ও তার ছেলে রিফাত (৯)। গুলনাহার বেগম তার মেয়ে ময়ুরী ও রিফাতকে নিয়ে এলাকাটিতে বসবাস করে আসছিলেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে র‌্যাব-৭ চান্দগাঁও কার্যালয়ে ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, ফারুক নিহত গুলনাহার বেগমের সাথে সিঙ্গারা, সমুচা, পিঠা বিরিয়ানীসহ নাস্তার ব্যবসা করতেন। ব্যবসার লেনদেন নিয়ে প্রায় ফারুকের সাথে গুলনাহারের ঝগড়াঝাটি হতো। তাছাড়া ফারুকের সাথে একাধিক মেয়ের সম্পর্ক আছে বলে সন্দেহ করতো গুলনাহার। গুলনাহার বাসা-বাড়িতে কাজ করতেন। তাঁর বাড়িতে ‘পেয়িং গেস্ট’ হিসেবে থাকতেন ফারুক, গুলনাহারকে বোন ডাকতেন তিনি। ফারুক নগরের বহদ্দারহাট এলাকায় তরকারির ব্যবসা করেন।। ব্যবসার লেনদেন নিয়ে ঝগড়া হলে সে প্রায় সময় ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সিনেমার কাহিনীর স্টাইলে খুন করার হুমকি দিত। বাস্তবেও সে তাই করেছে। পাঁচ বছর ধরে ফারুকের সঙ্গে তাদের পরিচয়।

সে প্রথমে গুলনাহার বেগমকে খুন করে। ওই হত্যাকান্ড দেখে ফেলায় ফারুকের হাত থেকে রক্ষা পায়নি গুলনাহারের ৯ বছরের নিষ্পাপ শিশু রিফাতও। রান্না ঘরেই জবাই করে শিশুটিকে হত্যা করে সে। হত্যাকাণ্ডের দিন গুলনাহার বেগমের মেয়ে ময়ুরী গার্মেন্টসে চাকরির সুবাধে বেঁচে যায়। পরিবারে সকলের মধ্যমণি ছিল শিশু রিফাত। মা ও ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে পরিবারে একটু স্বচ্ছলতার আশায় পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে গার্মেন্টসে যোগ দেয় ময়ুরী।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রথমে চকবাজার এলাকায় গিয়ে রক্তমাখা জামা নালায় ফেলে দেয়। মুঠোফোন বন্ধ করে এলাকা ছাড়েন। এ বিষয়গুলো তিনি টিভি সিরিয়াল ক্রাইম পেট্রল দেখে শিখেছেন বলেও র‍্যাবকে জানান। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে আত্মগোপন করে ফারুক। নিজেকে অসহায় পরিচয় দিয়ে এক ব্যক্তির মাধ্যমে খাগড়াছড়িতে গ্যারেজে কাজ নেয়। সেখানে কিছুদিন থাকার পর ফের চট্টগ্রামে এসে বিভিন্ন মাজারে ঘুরে আত্মগোপন করে। পরে আবার ঢাকায় গিয়ে একটি গ্যারেজে কাজ নেয়। সেখানেও নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করতে না পেরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার এলাকায় একটি মাজারে অবস্থান নেয়। তাকে ধরতে র‌্যাব পুলিশের যৌথ টিম চট্টগ্রাম শহরের আশেপাশে মাজারসহ বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে। গ্রেপ্তারের পর ভাইয়ের প্রসঙ্গ টেনে ময়ূরী আকতার বলেন, ফারুক আমার ভাই আর মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে। আমি ফারুকের ফাঁসি চাই।

অভিযুক্ত ফারুক বহদ্দারহাট খাজা রোডের কসাইপাড়া এলাকার মো. সিরাজের ছেলে। গ্রেপ্তারের পর তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, দুই রাউন্ড গুলি এবং একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 185 People

সম্পর্কিত পোস্ট