চট্টগ্রাম বুধবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২১

৪ জুন, ২০১৯ | ১:৪১ পূর্বাহ্ণ

জাহেদুল আলম, রাউজান

বিদেশি কাপড়ের পাশাপাশি দেশীয় পোশাকের চাহিদাও কম নয়

রাউজানে জমজমাট ঈদবাজার

ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাউজানে জমে উঠেছে ঈদের বাজার। তরুণীদের চাহিদা অনুযায়ী ভারতীয় গাউন, তরুণ-যুবকদের চাহিদা মোতাবেক প্যান্ট, শার্ট, পাঞ্জাবি, মহিলাদের চাহিদা শাড়ি, থ্রিপিস, সেলোয়ার কামিজ, শিশুদের পোশাকসহ সবকিছুই মানসম্মত পাওয়া যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন মার্কেটে।
ঈদের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ভিড় বাড়ছে উপজেলা সদর, গহিরা, পাহাড়তলী-চৌমুহনীতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন পরিচিত মার্কেটগুলোতে। এসব মার্কেটে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে চলছে বেচাকেনা। কাপড়ের দোকানের পাশাপাশি জুতা, কসমেটিকসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্নধর্মী দোকানেও ভিড় দেখা যাচ্ছে একইভাবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত ১৫ রজমান থেকে বেচাকেনা বাড়ায় তাদের দম ফেলার ফুরসত নেই। রাউজানের মার্কেটগুলো সরেজমিনে পরিদর্শনকালে দেখা যায় তরুণীদের চাহিদা ভারতীয় পোশাক গাউনে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যেসব এলাকার মার্কেট ও বড় দোকানে ঈদের বাজার সরগরম, সেগুলো হলো পৌরসভা সদরের ফকির হাট ও তৎ সংলগ্ন এলাকায় গড়ে ওঠা আলো শাড়িজ, আলম সেন্টার, ডিউ বি.জি শপিং সেন্টারের মার্কেটের মায়া শাড়িজ, দুবাই সুজ, তাহের প্লাজা, চৌধুরী মার্কেট, ফকির হাট বাজারের সত্তার মার্কেট, মা মনি শপিং মার্কেট, ফকিরহাট বাজারের প্রগতি ফ্যাশন, রাউজান থানা রোড, জলিল নগর বাস স্টেশনের হাজী আবছার মার্কেট, গহিরা চৌমুহনীর বিভিন্ন মার্কেট, পাহাড়তলী চৌমুহনীর ইব্রাহিম টাওয়ার, মকবুল টাওয়ার, রহমান প্লাজা, মরিয়াম মার্কেট, নোয়াপাড়ার আমীর মার্কেট, ভারতশ্বরী প্লাজা, খায়েজ মার্কেট, সতীশ মার্কেট, স্কুল মার্কেট, হলদিয়া আমির হাট, রমজান আলী হাট, কাগতিয়া হাট, গহিরা চৌমুহনী, নোয়াজিশপুর নতুন হাটসহ উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট। তবে ফকিরহাট সংলগ্ন ‘মায়াপরী’ নামক একটি এসি সমৃদ্ধ বিশাল দোকানে সাধারণ ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত মূল্য নিচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গহিরা ১ নং আলিফ মার্কেটের বিশাল নাবিলা ফ্যাশন এন্ড আজকাল ফ্যাশনের প্রোপ্রাইটর এম. মোজাম্মেল হক খোকন বলেন, ‘এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী এমপির সহযোগিতায় এবার বিদ্যুৎ ও সার্বিক পরিস্থিতি খুবই ভালো। রমজানের মাঝামাঝি থেকে ক্রেতা সমাগম বেড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার দোকানে পোশাক, কসমেটিক থেকে শুরু করে প্রায় আইটেম পাওয়া যাচ্ছে।’ তিনি জানান, এবার ঈদের বাজারে যেসব পোশাক ক্রেতা আকৃষ্ট করেছে সেগুলো হলো, বাংলাদেশি সুতি জামদানি, তাঁতের শাড়ি, রাজশাহীর রেশমী, কাতান, পাবনা শাড়ি, ভারতীয় বেনারসী, কাতান, রাজগুরু, চান্দেরী, লুগাদে, গাদোয়ান, শান্তিপুরী তাঁতসহ বিভিন্ন ডিজাইনের শাড়ি। থ্রিপিসের মধ্যে বিনয়, গড়িলাসহ ভারতীয় থ্রিপিসের কদর বেশি। এছাড়া পোড়ক, জিন্স প্যান্ট, থাই প্যান্ট, শার্ট, লুঙ্গি, বেবি সেট, লেহেঙ্গা, জুতো, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন প্রসাধনীর বেচাকেনা চলছে বেশি।
রাউজান পৌরসভার কাপড় ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সৈয়দ কামাল উদ্দিন ও কর্মকর্তা সাদিকুজ্জামান শফি, ওসমান গনি রানাসহ অনেকে বলেন, ‘ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছে। তবে ফকিরহাটসহ পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে দোকানের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতা ভাগ হয়ে গেছে।’
থানার ওসি কেপায়েত উল্লাহ বলেন, ‘রমজান মাসে ঈদের কেনাকাটা করতে হাটবাজার-মার্কেটগুলোতে ব্যবসায়ী ও ক্রেতারা নিরাপদে কেনাকাটা করার জন্য পুলিশের টইল জোরদার করা হয়েছে।’

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 301 People

সম্পর্কিত পোস্ট