চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

৩০ মে, ২০১৯ | ৩:১৭ পূর্বাহ্ণ

হালদা পাড়ে রেণু বিকিকিনির মহোৎসব

বিশ্বের একমাত্র জোয়ার-ভাটার মিঠা পানির প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র চট্টগ্রামের হালদা নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় রুই জাতীয় (রুই, কাতাল, মৃগেল ও কালিবাইশ) মা-মাছ সংগৃহীত নিষিক্ত ডিম আহরণের তিন দিন পর আহরণকারীরা সংগৃহীত ডিমগুলো দুই পদ্ধতিতে পরিস্ফুটনের মাধ্যমে তা রেণুতে পরিণত করেছে। বুধবার (২৯ মে) থেকে হালদা পাড়ের জেলে পল্লিতে শুরু হয়েছে রেণু বিকিকিনির মহোৎসব। এতে করে জেলেদের আর্থসামাজিক অবস্থার কিছুটা পরিবর্তন আসবে বলে মনে করেন হালদা বিষয়ে বিজ্ঞমহল। হালদার তীরবর্তী জেলে পল্লিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেছে মৎস্য চাষী ও মৎস্য খামারীরা। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পালা শেষ, জেলে পল্লিতে এখন নেমে এসছে খুশির আমেজ। তবে এ খুশির আমেজে কিছু ভাটা ফেলেছে তীব্র তাপদাহ। আর এ নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্থ আহরণকারীরা।- জানা গেছে, গত শনিবার (২৫ মে) মধ্যরাত থেকে পরের দিন সকাল পর্যন্ত প্রায় ২৩০টি নৌকা নিয়ে ৫ শতাধিক জেলে হালদা নদীতে রুই জাতীয় মা-মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে। সংগৃহীত ডিম সনাতন পদ্ধতিতে ও আধুনিক পদ্ধতিতে হ্যাচারির মাধ্যমে পরিস্ফুটনের পর রেণুতে পরিণত করে। গতকাল বুধবার সকাল থেকে আহরণকারীদের এসব রেণু বিক্রির খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে শুরু করেছে খামার মালিক, মৎস্য চাষী ও রেণু ব্যবসায়ীরা। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার প্রহর শেষ জেলে পল্লিতে খুশির আমেজ নেমে এসেছে। বাধ ভাঁঙ্গা অনন্দের জোয়ারে ভাসছে জেলে পরিবারের সদস্যরা। তাই তারা এখন রেণু বিকিকিনিতে ব্যস্ত। প্রতি কেজি রেণু ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দুপুর ১টার দিকে সরেজমিনে উপজেলার উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের মাছুয়াঘোনা হ্যাচারি গেলে দেখা যায়, ওই এলাকার ডিম আহরণকারী মুহাম্মদ জামশেদ ও মো. শফি চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলা থেকে আগত মোহাম্মদ দিদারুল আলমের কাছে ৩৬ হাজার টাকায় ৪৫০ গ্রাম, মো. মাহাবুব ও মো. লোকমান নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা থেকে আগত মো.

মনিরের কাছে ৪৮ হাজার টাকায় ৬০০ গ্রাম, মুহাম্মদ খলিল ফেনি থেকে আগত আব্দুল কাদেরের কাছে ২৮ হাজার টাকায় ৩৫০ গ্রাম এবং মুহাম্মদ ইউসুফ ও ইব্রাহিম কুষ্টিয়া থেকে আগত হিমনের কাছে ১ লক্ষ টাকায় ১ কেজি ২৫০ গ্রাম রেণু বিক্রি করে।
হালদা থেকে সংগৃহীত রেণুগুলো কোনপ্রকার সমস্যা ছাড়াই পরিপূর্ণতা লাভ করার পর ৮০ হাজার টাকা কেজি দরে বাজারজাত তথা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পেরে মহাখুশি ডিম আহরণকারীরা। দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষার পালা শেষ জেলে পল্লিতে এখন নেমে এসেছে খুশির আমেজ ডিম আহরণকারীরা জানান, বিভিন্ন স্থান থেকে এসে রেণুগুলো কিনে নিচ্ছে মৎস্যচাষী, মৎস্য ব্যবসায়ী ও খামারীরা। তারা রেণুগুলো কিনে নিয়ে পোনায় পরিণত করে দফায় দফায় বিক্রি করে অনেক টাকা আয় করবে। আবার কেউ কেউ তাদের নিজস্ব পুকুর বা জলাশয়ে মাছ চাষ করবে।
এদিকে, খুশির আমেজে কিছুটা ভাটা ফেলেছে সম্প্রতি তীব্র তাপদাহ। দুশ্চিন্তাগ্রস্থ আহরণকারীরা। গত দুই দিনে বেশ কিছু মাটির কুয়ার রেণু মরে গেছে। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন তারা। এক্ষেত্রে তুলনামূলক সরকারি হ্যাচারিগুলোতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না।
নাম প্রকাশে অনিশ্চুক এ হাটহাজারী উপজেলার গড়দুয়ারা ইউনিয়নের এক ডিম আহরণকারী রেণু মরে যাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, বিগত কয়েক দিনের তীব্র গরমে এখানকার বেশ কিছু মাটির কুয়ার রেণু নষ্ট হয়ে গেছে। বিশেষ করে নয়াহাট, সিপাহীর ঘাট, পোড়াকপালি, খলিপার ঘোনা ও বাড়িয়াঘোনা মাটির কুয়ার রেণু মরে গেছে।
হালদা থেকে সংগৃহীত নিষিক্ত ডিম পরিস্ফুটনের জন্য রাখা মাটির কুয়ার রেণু কেন মারা যাচ্ছে জানতে চাইলে মুঠোফোনে হালদা গবেষক ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, সম্প্রতি দেশে চলতে তীব্র তাপদাহ। গরমের কারণে কুয়ার এসব রেণু অনাকাক্সিক্ষতভাবে মারা পড়ছে। এজন্য মাটির কুয়ার পানি দ্রুত পরিবর্তন করতে হবে এবং পানি সরবরাহ সর্বদা নিশ্চিত করা হচ্ছে। অন্যথায় এর ব্যত্যয় ঘটলে রেণু মরে যাবে।
সবকিছু ঠিকঠাক থাকায় তিন দিন পর থেকে হালদা পাড়ে চলছে খুশির মহোৎসব এমনটা দাবি করে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মাদ রুহুল আমীন বলেন, হাটহাজারী উপজেলার মদুনাঘাট, শাহ মাদারি ও মাছুয়াঘোনা হ্যাচারিগুলো সার্বিক নজরদারি রাখা হয়েছে। প্রতিদিন হ্যাচারিগুলো পরিদর্শন করছি। ডিম আহরণকারীদের সব রকমের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হচ্ছে। তীব্র গরম পড়লেও তুলনামূলক সরকারি হ্যাচারিগুলোতে তেমন সমস্যা হচ্ছে না।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 608 People

সম্পর্কিত পোস্ট