চট্টগ্রাম বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

সর্বশেষ:

৩০ মে, ২০১৯ | ২:০৩ পূর্বাহ্ণ

মোর্শেদ নয়ন, কর্ণফুলী

প্রশাসনের নজরদারি নেই

ভেজাল সেই ৫২ পণ্যে সয়লাব কর্ণফুলীর হাট বাজার

বাংলাদেশে বিএসটিআই এর পরীক্ষায় মানহীন ও ভেজাল বলে প্রমাণিত ৫২টি ভোগ্যপণ্যে কর্ণফুলী উপজেলার হাট বাজার সয়লাব হয়ে গেছে। গত ১২ মে হাইকোর্ট ওই সব পণ্য বাজার থেকে ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে নেয়ার আদেশ দেন। ৫২টি পণ্যের মধ্যে বহুল বিক্রিত কয়েকটি ব্রান্ডের লাচ্ছা সেমাই, লবণ, মসলা এবং তেলও রয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে ভেজাল রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তৎপরতার কারণে ওই সব মানহীন ও ভেজাল পণ্য বিক্রিতে বেকায়দায় পড়েন বিক্রেতারা। কিন্তু শহরে বসবাসরত মানুষের তুলনায় গ্রামের মানুষের মধ্যে সচেতনতা কিছুটা কম থাকা ও উপজেলায় প্রশাসনের নজরদারি না থাকার সুযোগে অতি মুনাফা লোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা ওই সব পণ্য বিক্রির জন্য শহরতলীর কর্ণফুলী উপজেলাকে নিরাপদ স্থান হিসেবে বেছে নিয়েছে। ফলে কর্ণফুলী উপজেলার হাট বাজার ওই মানহীন ও ভেজাল ৫২টি পণ্য ছাড়াও অখ্যাত কোম্পানীর নকল ও নি¤œমানের ভোগ্যপণ্যে ছেয়ে গেছে। ভেজাল রোধে কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতাকে ’দুর্ভাগ্যজনক’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রমজান শুরুর পর থেকে কর্ণফুলী উপজেলায় মানহীন, ভেজাল, নকল পণ্য বিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের কোন অভিযান পরিচালিত হয়নি। ফলে পাইকারি ও খুচরা দোকানগুলাতে ওই ৫২ পণ্য ছাড়াও নকল ও নিম্ন মানের পণ্যের রমরমা বাণিজ্য চলছেই। মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর, সেমাই, ক্ষতিকর কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি ঘি ও ক্ষতিকর রং ও পচা নষ্ট তেল দিয়ে ইফতারসামগ্রী তৈরি করে সর্বত্র বিক্রি হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে পুরো কর্ণফুলী উপজেলাতে মানহীন, ভেজাল, নকল পণ্যের রমরমা বাণিজ্য চলছে।
জানা যায়, গত ১২ মে ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য নিয়ে শুনানিতে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ৫২টি মানহীন ও ভেজাল পণ্য ১০ দিনের মধ্যে প্রত্যাহার করে সেগুলো ধ্বংস করে ফেলার আদেশ দেন।
সরেজমিন উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে মুদি দোকানগুলোর সামনে স্তুপ করে রাখা আছে বস্তা বস্তা লাচ্ছা সেমাই। ৫২টি পণ্যের তালিকায় থাকা বহুল বিক্রিত কয়েকটি ব্রান্ডের লবণ, মসলা, ঘি এবং তেলও রয়েছে থরে থরে দোকানের তাকে সাজানো আছে। এছাড়াও বিভিন্ন নকল ও অখ্যাত কোম্পানির নি¤œমানের পণ্য দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশুদের নানা মুখরোচক খাবারে ভেজাল বেশি। পটেটো, আচার, বিস্কুট ইত্যাদি শিশু খাবারগুলো একেবারেই নিম্নমানের। উপজেলার বাজারগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালিত না হওয়ায় অনেকটা নিরাপদেই ব্যবসায়ীরা তাদের লাভজনক এই ভেজাল পণ্যের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
খোয়াজনগর আজিমপাড়ার বাসিন্দা হাফেজ আহমদ বলেন, উপজেলা প্রশাসনের নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভেজালবিরোধী অভিযান না থাকায় কর্ণফুলী উপজেলার হাট বাজরগুলো ভেজাল পণ্যের নিরাপদ ব্যবসা কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
জানতে চাইলে কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহ-সভাপতি এস এম নাজির হোসাইন পূর্বকোণকে বলেন, ভেজাল রোধে উপজেলা প্রশাসনের উদাসীনতার খুবই দুর্ভাগ্যজনক। রমজান শুরুর আগেই খাদ্যে ভেজাল রোধে প্রধানমন্ত্রী ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করে নগর-উপজেলায় সর্বত্র ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার করতে নির্দেশনা দিয়েছেন। কিন্তু কর্ণফুলী উপজেলা প্রশাসন ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা না করে প্রধানমন্ত্রীর নিদের্শনাকে অমান্য করেছেন’।
এ ব্যাপারে কর্ণফুলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ শাসমুল তাবরীজ দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, বিভিন্ন কাজের ব্যস্ততা ও লোকবলের অভাবে রমজানে ভেজাল বিরোধী ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হয়নি। শীঘ্রই ভেজাল বিরোধী অভিযান জোরদার করা হবে।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 340 People

সম্পর্কিত পোস্ট