চট্টগ্রাম সোমবার, ২৯ মে, ২০২৩

সর্বশেষ:

২৯ মে, ২০১৯ | ২:৪৮ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব সংবাদদাতা

পাসপোর্ট করানোর সময় বান্দরবানে রোহিঙ্গা নারীসহ আটক ৩

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের জামছড়ি এলাকার রোহিঙ্গা নারী রাজিয়া বেগম (১৬) । কয়েক মাস আগে মায়ানমারের বুচিদং এলাকা থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। তার স্বামী রোহিঙ্গা সৈয়দ হোসেন এর আগে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। স্ত্রীর ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে মালয়েশিয়া নেওয়ার জন্য পাসপোর্ট তৈরি সময় বান্দরবানে ধরা পরেন রাজিয়া বেগম। তার সাথে আটক হন শ^শুর পরিচয় দানকারী মোহাম্মদ জাকারিয়া (৫৫) ও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার আব্দুল মালেক। গত সোমবার বিকেলে বান্দরবান পাসপোর্ট অফিস থেকে তাদের আটক করা হয়। পরে তাদের সোপর্দ করা হয় পুলিশে। মঙ্গলবার আটককৃতদের আদালতে হাজির করা হয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে রাজিয়া বেগমের জাতীয়তা সনদ দিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী। এর আগে তার জন্ম সনদ দেন ঐ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সৈয়দ। স্থানীয় চৌকিদার আব্দুল মালেক এর সাথে ২ লক্ষ টাকার চুক্তিতে রাজিয়া বেগমের শশুর মোহাম্মদ জাকারিয়া ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে পাসপোর্ট করানোর সময় তাঁরা সবাই বান্দরবানে ধরা পড়েন। রাজিয়া বেগমের শ^শুর মোহাম্মদ জাকারিয়া, জানান ওই এলাকার সৈয়দ হোসাইন এর মেয়ে রাজিয়া বেগমের নাম ব্যবহার করে তার স্থলে ছবি পাল্টিয়ে মিয়ানমার থেকে আসা তার পুত্রবধূ রোহিঙ্গা রাজিয়া বেগমের নামে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম ও জাতীয়তা সনদ নেয়া হয়। পরে চৌকিদার ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে পাসপোর্ট করানোর জন্য বান্দরবানে আসেন তারা। বান্দরবান পাসপোর্ট অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান পাসপোর্ট করানোর সময় রাজিয়া বেগম বাংলায় কথা বলতে না পারায় তাদের সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানালে জেলা প্রশাসক তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। জেলা প্রশাসক দাউদুল ইসলাম জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধির সহায়তায় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে তারা পাসপোর্ট করাতে চেয়েছিলো। কিন্তু বিষয়টি নজরে আসায় তাদের আটক করা হয়। কিভাবে রোহিঙ্গা নাগরিক ইউনিয়ন পরিষদ থেকে জন্ম ও জাতীয়তা সনদ নিয়েছে এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির সদর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান তামিম ইকবাল চৌধুরীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান জামছড়ি এলাকার তার পরিচিত সৈয়দ হুসাইন তার মেয়ে রাজিয়া বেগমের জন্য সনদ নিতে আসলে সরল বিশ্বাসে দিয়ে দেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন এলাকার ইউপি মেম্বারদের সহায়তায় একটি চক্র মোটা অংকের টাকার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট করাতে সহায়তা করছে। এ বিষয়ে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, রোহিঙ্গা নারী রোজিনা বেগম ভুয়া কাগজপত্র তৈরির মাধ্যমে পাসপোর্ট বানানোর সময় ধরা পড়েন। তাকে সহায়তার অভিযোগে আরো দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট