চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২৩ মে, ২০১৯ | ২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

আদালত প্রতিবেদক

ঠিকাদারকে প্রহার, টাকা আদায়ের অভিযোগ

পাঁচলাইশ থানার ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মালামাল সরবরাহকারীর পক্ষ নিয়ে সমঝোতার নামে থানায় ডেকে ঠিকাদারকে প্রহার ও টাকা আদায়ের অভিযোগে পাঁচলাইশ থানার ওসিসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গতকাল বুধবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিউদ্দিন-এর আদালতে অভিযোগটি দায়ের করেন মিজানুর রহমান (৩২) নামের এক ঠিকাদার।
চাঁদাদাবি, হত্যাপ্রচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগে দায়ের করা নালিশি মামলাটি তদন্ত করার জন্য নগর গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
অভিযুক্তরা হলেন, পাঁচলাইশ থানার ওসি আবুল কাশেম ভুইয়া, প্লাইউড ব্যবসায়ী দামপাড়া ওয়াসার মোড় এলাকার পার্টিক্যাল পয়েন্টের মালিক মো. রোকন উদ্দিন (৩০), ইয়াসিন আরাফাত (৩০) এবং তাদের সহযোগী রোকন (৩৫), নুরুল ইসলাম (৩৩), সোহেল (৩৫) ও ফুয়াদ (৩৫)।
অভিযোগে বলা হয়, নগরীর জিইসির মোড় এলাকায় বাদির ড্রিমি আর্ট্রিিস্ট্র নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ওই অফিস থেকে নৌবাহিনীতে প্লাইউডসহ অন্যান্য মালামাল সরবরাহ করেন। অভিযুক্ত রোকন উদ্দিন ও ইয়াসিন আরাফাতের কাছ থেকে এসব প্লাইউড নিয়মিত ক্রয় করতেন তিনি। প্রতিবার প্লাইউড সরবরাহের সময় অভিযুক্ত রোকন বাদির পরিশোধিত মূল্যের বিপরীতে কম প্লাইউড সরবরাহ করতো। এ ব্যাপারে অভিযুক্তকে জানানো হলে তিনি প্রতিবারই ভুল হয়েছে উল্লেখ করে পরেরবার তা পুষিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু পরবর্তীতে পরিমাণে কম দেয়া প্লাইউড আর সরবরাহ দিতেন না। অতিষ্ঠ হয়ে বাদি পরে অভিযুক্তের কাছ থেকে প্লাইউড কেনা বন্ধ করে দিয়ে অন্য সরবরাহকারীর থেকে ক্রয় করা শুরু করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ২৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় অস্ত্রের মুখে বাদিকে রোকনসহ অপর ৬ অভিযুক্ত জিইসির মোড় থেকে ধরে নিয়ে ট্রাস্ট ব্যাংকের বুথ থেকে ৫০ হাজার টাকা তুলে দিতে বাধ্য করে। এরপর তাকে মেট্রোপলিটন হাসপাতালের পাশের গলিতে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক বিকাশ রোকনের মার্চেন্ট বিকাশ নম্বরে আরো ২৯ হাজার টাকা দিতে বাধ্য করে। এরপর জোরপূর্বক তার মানিব্যাগ থেকে ব্যাংকের চেক বই ছিনিয়ে নিয়ে ১ লাখ টাকার চেক লিখে দিতে বাধ্য করে। এ ঘটনায় ওইদিন বাদি পাঁচলাইশ থানায় মামলা করতে গেলেও থানা মামলা নেয়নি। ১৪ মে বিকেলে বাদিকে সমঝোতার কথা বলে পাঁচলাইশ থানায় ডেকে নেয়া হয়। সেখানে অন্য অভিযুক্তদের পক্ষাবলম্বন করে তাদের উপস্থিতিতে বাদিকে মারধর করেন ওসি। এরপর ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে সাদাকাগজে বাদির স্বাক্ষর নিয়ে বাদিকে ছেড়ে দেয়া হয়। বাদিপক্ষে অভিযোগ শুনানি করেন এডভোকেট হাসান মাহমুদ চৌধুরী।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাঁচলাইশ থানার ওসি বাদিকে মারধর ও হুমকির দেয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, উভয়পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করে আসছেন। তাদের মধ্যে দেনা-পাওনাকে কেন্দ্র করে বিরোধ হলে উভয়পক্ষ বিরোধ মীমাংসা করে। বাদি মিথ্যে অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে উল্লেখ করেন ওসি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 562 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট