চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২১ জানুয়ারি, ২০২১

২৩ মে, ২০১৯ | ২:৫৩ পূর্বাহ্ণ

এম জাহেদ চৌধুরী , চকরিয়া-পেকুয়া

চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম তদন্তে দুদকের অভিযান

পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগ দেখিয়ে ২ বছরে ১২ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ

বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অভিযান পরিচালনা করেছে দুদক (দুর্নীতি দমন কমিশন)। গতকাল বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার এ অভিযানে হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম খুঁজে পান দুদকের কর্মকর্তারা।
চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয় দুদকের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ রিয়াজ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি টিম এ অভিযান পরিচালনা করেন।
অভিযান শেষে বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়নের কথা তিনি সাংবাদিকদের কাছে তুলে ধরে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিসংখ্যানবিদ আমির হামজা ২০০৬ সালে হাসপাতালে যোগদান করে ১৩ বছর ধরে এখনো বহাল তবিয়তে আছেন। তিনি একচ্ছত্রভাবে পরিসংখ্যানবিদ, হিসাবরক্ষক ও ক্যাশিয়ারের দায়িত্ব পালন করছেন। ছৈয়দ আহমদ নামের একজন হিসাবরক্ষক থাকলেও তাকে কোন কাজ করতে দিচ্ছেন না তিনি।
অনিয়মের বিষয়ে তিন বলেন, হাসপাতালের জেনারেটর বিগত ১০ বছর যাবত বিকল থাকলেও ২০১৬ সাল পর্যন্ত ভাল দেখিয়ে তৈল ক্রয় বাবদ অনেক টাকা লুটপাট করা হয়েছে। কিন্তু ২০১৬ সাল থেকে কোন ধরনের লগবুক তৈরি না করে প্রতি বছর ২০ হাজার টাকা করে খরচ দেখিয়েছেন তিনি। হাসপাতালের কর্মচারীদের ডরমেটরিতে বাড়ি ভাড়া কম দিতে এমএলএসএস এর নামে বরাদ্দ দেখিয়ে আমির হামজা ও সিনিয়র স্টাফ নার্স লাকী ঘোষ সরকারি বাসা ব্যবহার করছেন।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালের আশপাশ পরিষ্কার করার নাম দিয়ে নামে-বেনামে মাস্টার রোলে কর্মচারী নিয়োগ দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচারের মাধ্যমে ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৫লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা ও ১ জুলাই ২০১৮ থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৬ লক্ষ টাকাসহ মোট ১১ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এমনকি যাদের নামে টাকা উঠানো হয়েছে তাদের কাউকে উপস্থিত করতে পারেনি।
২০১৮-১৯ আর্থিক সালে ১০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের নির্মানাধীন ভবন এলাকার বিভিন্ন প্রজাতির গাছ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করা হলেও হাসপাতাল এলাকার সব গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। এতে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ বিপর্যয় হয়ে পড়েছে। এ বিষয়েও দুদক কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি আরো বলেন, হাসপাতালে ১২ জন চিকিৎসক কর্মরত থাকলেও ট্রেনিং ও অনুপস্থিতি ছাড়া বুধবার দ্ইুজন ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা কর্যক্রম ব্যহত হচ্ছে।
সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দুদকের হটলাইন ১০৬ নাম্বারে এক ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনিয়মের সব কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। এসব কাগজপত্র পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।
এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহবাজ অফিসিয়াল কাজে চট্টগ্রাম শহরে ব্যস্ত থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 500 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট