চট্টগ্রাম সোমবার, ২৫ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২৩ মে, ২০১৯ | ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

আল-আমিন সিকদার

প্রথম দিনেই যাত্রীদের পাহাড়সম অভিযোগ

রেলের আগাম টিকিট অনলাইন সার্ভারে ত্রুটি সার্ভার রুমে দুদক যাত্রীবেশে কালোবাজারি

ঈদ মানেই অনাবিল আনন্দ। আর এই আনন্দ পরিবারের সাথে ভাগ করে নিতে ঈদের ছুটিতে নাড়ির টানে বাড়ি ছুটে প্রায় সব শ্রেণি পেশার মানুষ। আর তাইতো ঈদ যাত্রায় নিরাপদ য়াতায়াত মাধ্যম ট্রেনে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে মরিয়া থাকে যাত্রীরা। আর যাত্রীদের এ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের মত এবারো আগাম টিকিট বিক্রি করেছে রেলওয়ে। গতকাল বুধবার সকাল ৯টা থেকে রেলের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয় নগরীর রেল স্টেশনে। আর এই আগাম টিকেট সংগ্রহে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে মধ্যরাত থেকেই স্টেশনে ভিড় জমতে শুরু করে যাত্রীরা। তবে টিকিট নামক সোনার হরিণটি হাতে পেয়েও রেলওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের কমতি ছিলো না সাধারণ যাত্রীদের। কাউন্টারে কালক্ষেপণ, টিকিট দিতে না দিতে শেষ বলা ও অনলাইন সার্ভারে ত্রুটিসহ একাধিক অভিযোগ করেন যাত্রীরা। টিকেট প্রত্যাশী নাসিম শাহা বলেন, ঠিক সময় টিকিট বিক্রির কার্যক্রম শুরু হলেও সার্ভার বিভ্রাটের কারণে টিকিট কনফার্ম করতে সময় নিচ্ছিলো অনেক। প্রথম ১৫ মিনিটে তারা কেবল মাত্র ৬টি টিকিট কনফার্ম করেছে। ফলে সময়ের সাথে সাথে টিকিটের জন্য আমাদের অপেক্ষার প্রহরও যেন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এভাবে চলতে থাকলে টিকিট নিয়ে আজ আর কেউ বাসায় ফিরতে পারবে না। বিকাল ৪টার দিকে রেল স্টেশনে ঢাকাগামী সোনার বাংলা ট্রেনের বেশ কয়েকজন টিকিট প্রত্যাশীরা পূর্বকোণকে বলেন, অনলাইন সার্ভারে টিকিট কনর্ফাম করা যাচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে এসেছি। তবে প্রতিদিন যে ১২ হাজার আগাম টিকিট দেয়ার কথা তার অর্ধেক টিকিটই দেয়া হচ্ছে অনলাইনের মাধ্যমে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, অনলাইন থেকে টিকিট সংগ্রহ করা না গেলে অনলাইনে থাকা ৬ হাজার টিকিটগুলোর কি হবে?। নাকি এগুলো কালোবাজারির উদ্দেশ্যে তুলে রাখা হচ্ছে বলে

জানান তারা। এ সময় আরো কয়েকজন টিকিট প্রত্যাশী বলেন, যাত্রীবেশে অনেক কালোবাজারিরা টিকিট সংগ্রহ করছে। যাদের জন্য আমরা টিকিট পাচ্ছি না। আর সার্ভারে এক এনআইডি দিয়ে প্রতিদিন টিকিট সংগ্রহ করলেও তাদের ধরার বা চিহ্নিত করার কোন উপায় নেই। তাই যাত্রীবেশে রেলের আগাম টিকিট সংগ্রহ করছে কালোবাজিরারা। যার ফলে জিম্মি হতে হয় আমাদের মত সাধারণ মানুষদের।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, প্রতিদিন ১২ হাজার অগ্রিম টিকিট সংগ্রহ করতে পারবে যাত্রীরা। তবে এর মধ্যে অর্ধেক টিকিট দেওয়া হবে রেলওয়ের অনলাইন সার্ভার থেকে। কিন্তু প্রথম দিনেই সর্ভার ত্রুটির কারণে অনলাইনে টিকিট সংগ্রহে ব্যর্থ হয় যাত্রীরা। যা নিয়ে যাত্রীরা পড়েছে চরম ভোগান্তিতে। যাত্রীদের সার্ভার ত্রুটি নিয়ে এ অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ঢাকা কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় অনলাইনে টিকিট বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান সিএনএস এর মহাপরিচালক শামীমুল আলমের সাথে কথা বলে দুদক টিম। অনলাইনে টিকিট কেটে রেখে যেন কোনো কালোবাজারির ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে পরামর্শও দেয় দুদক।
এদিকে রেলের টিকিট বিক্রি নিয়ে যারা অনিয়ম করছে তাদের বিরুদ্ধে গতকাল কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারি দেন রেলমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রথম দিনে মাত্র ৩ ঘন্টার মধ্যে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের টিকিট শেষ হয়ে যায় বলে জানানো হয় কাউন্টার থেকে। তবে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস, মহানগর এক্সপ্রেস, গোধূলী ও সোনার বাংলাসহ তূর্ণা নিশিতা এক্সপ্রেসের টিকিট বিকাল ৪টায় শেষ হয়নি বলে জানান রেলওয়ের বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মো. আনসার আলী।
তিনি পূর্বকোণকে বলেন, ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেসের সর্বমোট টিকিট সংখ্যা হচ্ছে ৮৭১টি। যার অর্ধেক দেয়া হবে অনলাইন সার্ভারের মাধ্যমে। তাই টিকিটের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় ৩ ঘণ্টার মধ্যেই বিজয় এক্সপ্রেসের টিকিট শেষ হয়ে যায়। তবে ঢাকাগামী সব ট্রেনের আগাম টিকিট প্রথম দিনে শেষ হয়নি।
সার্ভার ত্রুটির বিষয়ে আনসার আলীর আরো বলেন, ‘সার্ভারের বিষয়টি মন্ত্রণালয় থেকে পর্যবেক্ষণ করে। তবে সার্ভার ত্রুটির কারণে যারা টিকিট সংগ্রহ করতে পারেনি, তারা আরো পাঁচ দিন সময় পাবে সার্ভার থেকে নির্ধারিত দিনের টিকিট সংগ্রহ করার। যদি তারপরও সার্ভার থেকে টিকিট সংগ্রহ করা না যায়, তাহলে যাত্রার পাঁচ দিন আগে স্টেশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। কেননা, অ্যাপস-এ বিক্রি না হওয়া টিকিটগুলো স্বাভাবিকভাবেই স্টেশনে চলে আসে’।
প্রথম দিন গতকাল ২২মে দেয়া হয়েছে ৩১ মে’র অগ্রিম টিকেট, এরপর যথাক্রমে আজ ২৩, ২৪, ২৫ ও ২৬ মে দেয়া হবে ১, ২, ৩ ও ৪ জুনের অগ্রিম টিকেট। এছাড়া ২৯ মে থেকে ২জুন পর্যন্ত দেয়া হবে ৭ থেকে ১১ জুনের ট্রেনের অগ্রিম ফিরতি টিকেট। যা অনলাইনের পাশাপাশি স্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে পারবে যাত্রীরা।
রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সর্বমোট ১০০৯টি সিটের অগ্রিম টিকেট ক্রয় করতে পারবে যাত্রীরা। এভাবে যথাক্রমে ঢাকাগামী মহানগর গোধূলী ট্রেনের ৮৫৭টি, তূর্ণা নিশিতা ট্রেনের ৭৪৬টি, সোনার বাংলা ট্রেনের ৬৯৯টি, মহানগর এক্সপ্রেসের ৮১১টি, নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকূল ট্রেনের ৯৩৭টি, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহগামী বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেনের ৮৭১টি, চট্টগ্রাম থেকে চাঁদপুরগামী মেঘনা এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯৫৮টি, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ও পাহাড়িকা এক্সপ্রেসের ৬৮০টি করে ১৩৬০টি টিকেট অগ্রিম ক্রয় করতে পারবে যাত্রীরা।

বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 346 People

সম্পর্কিত পোস্ট