চট্টগ্রাম বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৬:৩৩ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

বসন্তের রঙে রাঙা ভালোবাসার দিনও

‘বসন্ত বাতাসে সইগো বসন্ত বাতাসে/ বন্ধুর বাড়ির ফুলের গন্ধ আমার বাড়ি আসে, সইগো বসন্ত বাতাসে’। এমন গানে গতকাল শুক্রবার সারাদিন মুখরিত ছিল সিআরবির শিরীষতলা, আমবাগান শেখ রাসেল শিশুপার্ক ও জামালখান ডা. এমএ হাশেম চত্বর। এমন গানে জানান দেয় বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের কথাও।

গতকাল পহেলা ফাল্গুনের পাশাপাশি পালিত হয়েছে বিশ্ব ভালোবাসা দিবসও। তাই আনন্দটা দ্বিগুণ রূপে ধরা দিয়েছে তরুণ-তরুণীসহ সকল শ্রেণির মানুষের কাছে। একইসঙ্গে প্রকৃতির পালাবদলে এসেছে বসন্ত, সেই ফাগুনের মাতাল হাওয়ায় মাতোয়ারা প্রেমিকেরাও। তবে শুধু তরুণ-তরুণী নয়, সব বয়সের মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন এটি। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের,তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও। মা-বাবা, স্বামী-স্ত্রী, ভাইবোন, প্রিয় সন্তান এমনকি বন্ধুর জন্যও ভালোবাসায় আপ্লুত হতে পারে সবাই। চলবে উপহার দেওয়া-নেওয়া। সকাল থেকেই পরনে লাল, হলুদ আর বাসন্তী রঙের শাড়ি, খোপায় ফুল, কেউ বা আবার পুরো গায়ে গোলাপ, রজনীগন্ধা আর হলুদ গাঁদা ফুলে সেজেছে। নারীদের সাথে মিলিয়ে লাল, হলুদ রঙের পাঞ্জাবি পড়েছে ছেলেরাও। বসন্তের এ প্রহরে নারী-পুরুষের এমন বর্ণিল সাজে প্রকৃতিও যেন সেজেছে সবুজ পাতায়। সকাল ৮টা থেকেই ধীরে ধীরে লোকারণ্য হয়ে উঠে সিআরবির শিরীষতলা, আমবাগানের শেখ রাসেল শিশুপার্ক ও জামাল খান চত্বর। বেলা বাড়ার সাথে সাথে অনেকে আসতে থাকে বসন্ত উৎসবে। কেউ প্রিয় মানুষের হাত ধরে, বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে তরুণ-তরুণীরা কেউ আবার পরিবার নিয়ে আসতে দেখা যায়। শুধু তরুণ-তরুণীরাই নয়, উৎসবের আমেজ লেগেছে শিশুদের প্রাণেও। বাবা-মায়ের হাত ধরে আসে তারাও। আর সেজেছে ফুলে ফুলে। তরুণদের সাথে গানের সুরে নাচ করছে শিশুরাও।

সিআরবিতে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের আয়োজনে উৎসবে অংশ নিয়েছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা। দুই পর্বের এ আয়োজন সকাল ৮টায় শিল্পী প্রমা অবন্তীর নৃত্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়। এরপর দি ভায়োলিনিস্ট চিটাগংয়ের যন্ত্রসঙ্গীত, রক্তকরবীর সম্মেলক সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সকাল ৯টায় প্রমার সভাপতি রাশেদ হাসানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ পালের সঞ্চালনায় উৎসবের উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সংগঠক মফিজুর রহমান ও সহ-সভাপতি কংকন দাশ। অনুষ্ঠানের ১ম পর্বে ওডিসি এন্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টারের দলীয় নৃত্য দিয়ে শুরু হয়। প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের বৃন্দ আবৃত্তি, করবী দাশের একক সঙ্গীত, উদয় শংকর দাশের আবৃত্তি, লাকী গুপ্তার একক সঙ্গীত, উপলব্দির বৃন্দ আবৃত্তি, প্রীতিলতা সাংস্কৃতিক অঙ্গনের দলীয় নৃত্য, ইকবাল পিন্টু, দিদার, শাহরিয়ার খালেদের একক সঙ্গীত। অনুষ্ঠানের ২য় পর্বে প্রমা আবৃত্তি সংগঠনের

শিশুরা বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করে। এছাড়া ছিল আমন্ত্রিত আবৃত্তি শিল্পীদের একক আবৃত্তি।

উৎসবের সভাপতি রাশেদ হাসান বলেন, পল্ল­ী জীবনে মানুষ যতটা প্রকৃতির ছোঁয়া পায়, নাগরিক জীবনে সেটা পাওয়া যায় না। তাই বসন্তের এ দিনে সবার মনে সুষ্ঠু সংস্কৃতির মাধ্যমে প্রকৃতির বার্তা দিতে চাই। আমবাগান শেখ রাসেল শিশুপার্কে বোধনের বর্ণিল বসন্ত উৎসবে ঋতুরাজ বসন্তকে বরণ করে।
আমবাগান শেখ রাসেল শিশু পার্ক: শেখ রাসেল ‘নিবিড় অন্তরতর বসন্ত এল প্রাণে’ শিরোনামে বোধন বসন্ত উৎসবের আয়োজন করে। শুরুতে বোধনের সভাপতি আবৃত্তিশিল্পী সোহেল আনোয়ারের কবিতা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সকালের অধিবেশন শুরু হয়। সংগীতশিল্পী শ্রেয়সী রায়ের পরিচালনায় অভ্যুদয়ের শিল্পীরা সমবেত সংগীত পরিবেশন করে। অনুষ্ঠানে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যরূপ একাডেমি, ওডিসি এন্ড ট্যাগোর ড্যান্স মুভমেন্ট সেন্টার, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ ও স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্সের নৃত্য শিল্পীরা। একক সংগীত পরিবেশন করেন সংগীতশিল্পী শ্রেয়সী রায়, মোস্তফা কামাল, গীতা আচার্য, ইমন শীল ও করিম মানিক। বসন্ত উৎসবে মা মিতা দত্তের সাথে ঘুরতে আসে দেব¯িœতা দত্ত, সম্পূর্ণা দে। সারাদিন ঘোরাঘুরি করে আর উৎসবে গান করে তারা।

দুইজনেই সেজেছে ফুলের সাজে। নবধারা সঙ্গীতালয়ের পরিচালক সীমা দাশ বলেন, বসন্ত, পহেলা বৈশাখ এগুলো বাঙালির উৎসব। আমাদের ঐতিহ্য এখন তো হারিয়ে যেতেই বসেছে। কিন্তু এসব উৎসবে সেই বাঙালিয়ানার ছোঁয়া পাই।

জামাল খান: বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসকে বরণ করতে মোহন বীণার সুর ছড়িয়ে পড়ে জামাল খান চত্বরে। এসময় উৎসবের উদ্বোধন করেন সমাজবিজ্ঞানী ও প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. অনুপম সেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎসব পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান। এরপর রবীন্দ্র সংগীত পরিবেশন করেন রক্তকরবীর শিল্পীরা। রাত ৮টা পর্যন্ত দলীয় সংগীত পরিবেশন করবে সঙ্গীত ভবন, আনন্দধ্বনি, স্বরলিপি সঙ্গীত পরিষদ, অদিতি সঙ্গীত নিকেতন, শিল্পী সংসদ ও নটরাজ সঙ্গীত একাডেমি। একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সনজিত আচার্য, কল্পনা লালা, কল্যাণী ঘোষ, ইকবাল হায়দার, শঙ্কর দে, শুভ্রা চৌধুরী, ফাহমিদা রহমান, শ্রেয়সী রায়, ফরিদ বঙ্গবাসী, হাসান জাহাঙ্গীর, শীলা চৌধুরী, মিতালী রায়, দিদারুল ইসলাম, ইপ্সিতা মজুমদার, মধুলিকা ম-ল ও সঞ্জয় পাল। নৃত্য পরিবেশন করবে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল ডান্স, ঘুঙুর নৃত্যকলা একাডেমি, ওড়িশী এন্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, নটরাজ, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ ও সঞ্চারী নৃত্যকলা একাডেমি। আবৃত্তি করবেন সঞ্জীব বড়ুয়া, শুভ্রা বিশ্বাস, কংকন দাশ, মছরুর হোসেন, মিশফাক রাসেল, মাহবুবুর মাহফুজসহ অনেকে।

The Post Viewed By: 26 People

সম্পর্কিত পোস্ট