চট্টগ্রাম বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ২:৩০ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘বাঁশের সঠিক ব্যবহারে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে’

বিএফআরআই’র কর্মশালা

বাঁশের সঠিক ব্যবহারে দেশ হতে পারে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ। বাঁশ প্রকৃতির এক আশীর্বাদ। এটি পরিবেশ বান্ধব উদ্ভিদ। যা মাত্র ৩ বছরে পরিপক্ক ও ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠে। কিন্তু বর্তমানে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে বাঁশকে আসবাবপত্র হিসেবে ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলা সম্ভব। এতে বৃক্ষের উপর চাপ অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব ও পরিবেশ রক্ষা হবে। বাঁশের তৈরি আসবাবপত্র যেমন পরিবেশ বান্ধব তেমনি টেকসইও। তাই বাঁশের আসবাবপত্র তৈরিতে কারিগরদের প্রযুক্তি নির্ভরশীল ও দক্ষতা অর্জন করা দরকার। ‘বাঁশের যোজিত পণ্য তৈরির কৌশল’ বিষয়ক কর্মশালায় বিএফআরআই এর সাবেক পরিচালক ড. খুরশীদ আকতার এ কথা বলেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিএফআরআই মিলনায়তনে ‘বাঁশের যোজিত পণ্য তৈরির কৌশল’ নিয়ে এক কর্মশালার আয়োজন করে বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউট। কর্মশালায় বাংলাদেশ বন গবেষণা

ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিএফআরআই এর সাবেক পরিচালক ড. খুরশীদ আকতার। বিভাগীয় হস্তান্তর ইউনিটের সদস্য সচিব মো. জহিরুল আলমের সঞ্চালনায় কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইউনিটের আহ্বায়ক মো. আনিসুর রহমান ও একে খান গ্রুপের ডিরেক্টর শামসুদ্দিন খান। এছাড়া কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ফার্নিচার মালিক সমিতি চট্টগ্রামের নেতৃবৃন্দ, কাঠের যোজিত পণ্য তৈরির শিল্প প্রতিষ্ঠানের সদস্য ও সাংবাদিকগণ। কর্মশালায় বক্তারা বাঁশের তৈরি ফার্নিচারের বিষয় স্লাইডের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্য প্রদান করেন। বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মো. মাসুদুর রহমান বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বাঁশের তৈরি পণ্যের কারণে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন করছে। চীনে বাঁশকে উদ্ভিদ হিসেবে আশীর্বাদ মনে করে। বাংলাদেশে যে পরিমাণ বাঁশ জন্মায় এটি যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায় তবে বাংলাদেশ বছরে ১ কোটি টাকার বেশি অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করবে। এমনিতেই বাংলাদেশে আয়তনের তুলনায় গাছ-পালা ও বনভূমির পরিমাণ কম। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে দিন দিন ধ্বংস হচ্ছে বনভূমি। তাই দ্রুতবর্ধনশীল বৃক্ষ ও বাঁশ দ্বারা বনায়ন করা প্রয়োজন। একটি গাছ পরিপক্ক হতে অনেক দিন সময় লাগে। কিন্তু বাঁশ অল্প সময়ে পরিপক্ক হয়ে ব্যবহারের উপযুক্ত হয়ে উঠে। আধুনিক প্রযুক্তিতে বাঁশকে যোজিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুন্দর ডেজাইনেবল আসবাবপত্র তৈরি করা সম্ভব। বাঁশের আসবাবপত্রগুলো দেখে বুঝার উপায় নেই যে এটি সেগুন কাঠের নাকি বাঁশের তৈরি। এগুলো টেকসই ও ৩০ থেকে ৪০ বছরের বেশি স্থায়ী হয়। দামেও কাঠের ফার্নিচারের চেয়ে অনেক কম। বাঁশ দিয়ে তৈরি করা যায় সোফা, ডাইনিং টেবিল, খাট-পালং, আলমিরা, ওয়ারড্রপ, ড্রেসিং টেবিল, পার্টিকেল বোর্ড, প্যানেল বোর্ড, দরজাসহ গাড়ির সিট, স্টিয়ারিং, মেয়েদের নানারকম গহনা, ব্যাগ, পাটি ও রান্নাঘরের টুকরি। এসময় তিনি আরো বলেন আগামী বাজেটে গ্রিন বাজেট করার জন্য সরকারের কাছে আমরা আবেদন করেবো। এতে বাঁশ নিয়ে কাজ করা শিল্পীরা অনেক বেশি উন্নত হবে।

The Post Viewed By: 39 People

সম্পর্কিত পোস্ট