চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২০

আবাদযোগ্য জমি কমছে চন্দনাইশে

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ৬:৫৩ পূর্বাহ্ণ

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ

ধানি জমির টপসয়েল যাচ্ছে ইটভাটায়

আবাদযোগ্য জমি কমছে চন্দনাইশে

উপজেলার বিভিন্ন পাহাড়ের ও ধানি জমির টপসয়েল কেটে নিয়ে যাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। প্রশাসনের নজরে আনলেও নীরব থাকার অভিযোগ রয়েছে যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

উপজেলার দোহাজারী জামিজুরী, রায়জোয়ারা, লালুটিয়া, হিমছড়ি, মাস্টারঘোনা, কাঞ্চননগর, তারাবুনিয়া, জঙ্গল হাশিমপুর, ৪১ নং লট-এলাহাবাদ, কাঞ্চননগর চা বাগান এলাকায় পাহাড় কাটার মহোৎসব চলছে। তাছাড়া জোয়ারা, সাতবাড়িয়া, হারলা, বরমা, বরকল, চন্দনাইশ ও দোহাজারী পৌরসভা এলাকার ধানি জমি থেকে অবাধে পাচার হচ্ছে জমির উপরের অংশের মাটি। সমতল করার নামে পাহাড় কাটা হয়েছে কাঞ্চননগর ও হাশিমপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশে। এতে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাকবিত-ার কথা বিভিন্ন সংবাদপত্রে প্রকাশিত হওয়ার পরও পাহাড় কাটা বন্ধ হয়নি। এ কারণে ওইসব পাহাড়ের চিহ্নও এখন আর অবশিষ্ট নেই। স্থানীয়রা জানান, এসব পাহাড় কাটায় নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের পরিচয়ধারী কিছু নেতা ও পাহাড়খেকো সিন্ডিকেট। তারা ইতোমধ্যেই পাহাড়ের মাটি বিক্রি করে লক্ষ লক্ষ টাকার মালিক হয়েছে। এ সকল মাটি-দস্যুদের সাথে প্রশাসনের কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যার কারণে দিনে ও রাতে প্রকাশ্যে পাহাড় ও ধানি জমির উপরের অংশের মাটি (টপসয়েল) পিকআপ করে যাচ্ছে প্রধান সড়ক দিয়েই। তবে প্রশাসনের দাবি, পাহাড় নিধনকারীদের দমনে তারা সোচ্চার। মামলা দিয়েও তাদের ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। উপরন্তু সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও নিজেদের জীবন নিয়ে শঙ্কায় থাকেন। মাটিদস্যুদের রাজত্বে দিশেহারা সাধারণ মানুষ। এসব এলাকার পাহাড়গুলোতে দিন-রাত পিকআপ লাগিয়ে মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হলেও প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্তরা নীরবতা পালন করছেন বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। জমির মালিকদের অসচেতনতা এবং অভাবকে পুঁজি করে একশ্রেণির মাটিদস্যুরা জমির উপরিভাগের মাটি অতি স্বল্প মূল্যে কিনে নিয়ে যাচ্ছে বিনা বাধায়। এরপর মাটিদস্যু চক্রটি উচ্চমূল্যে মাটিগুলো উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে করে ৩ ফসলি জমিগুলো দ্রুত হারিয়ে ফেলছে উর্বরতা শক্তি।

একইসাথে প্রতিবছর জমির উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে জমি নিচু হয়ে যাওয়ায় আবাদযোগ্যতা হারাচ্ছে। মৃত্তিকা বিজ্ঞানীদের মতে, জমির মূল উর্বরতা শক্তি থাকে জমির উপরিভাগে। উপরিভাগের মাটি কেটে নিয়ে যাওয়ার কারণে জমি যে উর্বরতাশক্তি হারাচ্ছে তা পূরণ হতে কমপক্ষে ১৫ বছরের অধিককাল সময় লাগে। এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিবেদিতা চাকমা বলেছেন, আবাদি জমির টপসয়েল ও পাহাড় কাটার সংবাদ পেলে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করে জরিমানা করা হয়েছে। মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত স্কেভেটর ও ডাম্পার অকেজো ও জব্দ করা হয়েছে। তবে এসব অভিযানের পরও পুরোপুরিভাবে মাটি কাটা ও পাহাড় কাটা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

The Post Viewed By: 56 People

সম্পর্কিত পোস্ট