চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

২৬ জানুয়ারি, ২০২০ | ৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ

জহুরুল হক, খাগড়াছড়ি

স্বেচ্ছাশ্রমে ৫ কি.মি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ

দিঘিনালা

পার্বত্য খাগড়াছড়ির দুর্গম দিঘিনালার বগাপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে ৫ কি.মি রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তিন গ্রামের বাসিন্দারা।
স্বেচ্ছাশ্রমে একটি রাস্তা নির্মাণের জন্য সকাল-বিকাল প্রতিদিন জড়ো হন গ্রামের নারী-পুরুষ। রাস্তা নির্মাণের এই কাজে স্বেচ্ছায় শ্রম দিচ্ছে কিশোররাও। দীর্ঘদিনেও রাস্তা না থাকায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে তারা। ইটের সড়ক দূরে থাক পায়ে হাঁটার পথও নেই। পাহাড়ে চূড়া বেয়ে উঠতে হয় আবার নামতে হয়। দীর্ঘদিনেও সরকারি-বেসরকারি কোন সহযোগিতা না পাওয়ায় গ্রামের মানুষ এই উদ্যোগ নিয়েছে।

গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নিজেদের সময় শ্রম ও অর্থ দিয়ে এই সড়কটি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। গ্রামের ছেলে-বুড়োরা এখানে কাজ করছে। ঘর কিংবা জুমের কাজ বাদ দিলেও অনেকে সড়ক নির্মাণের কাজ করছে। জঙ্গলঘেরা এই পাহাড়ি রাস্তা বানাতে তাদের অন্তত একমাস সময় লাগতে পারে। খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে অন্তত ৪০ কিলোমিটার দূরের নিভৃত গ্রাম বগাপাড়া। সড়ক ছুঁয়ে পাড়াটি গড়ে উঠলেও গভীর অরণ্য পর্যন্ত বিস্তৃতি। বগাপাড়া পেরিয়ে উঁচু পাহাড়ের ঢালে রয়েছে আরো দুটো গ্রামÑ ছোট হাংড়াখাইয়া, বড় হাংড়াখাইয়া। তিন গ্রামে অন্তত ৫ শতাধিক পরিবার। এই তিন গ্রামের মানুষের যাতায়াতের কোন সড়ক না থাকায় নিজেরাই নেমে পড়েছে তারা। সরেজমিনে এমন দৃশ্য দেখা যায়। রাস্তা থেকে পায়ে হেঁটে পৌঁছাতে সময় লেগেছে প্রায় দুই ঘণ্টা। তবে সরল পথে গেলে পৌঁছানো যাবে ১ ঘণ্টায়। পাহাড়ি পথ পেরিয়ে যেতেই চোখে পড়ে গ্রামের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা বানানোর কাজ করছে। চলাচলের জন্য কেউ বনের জঙ্গল কাটছে। আবার কেউ পাহাড়ের খাড়া অংশ রাস্তা উপযোগী করছে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে গ্রামের মানুষ দিন রাত এই কাজ করছে।

গ্রামের ৫০ বছরের গৃহিণী তরুলতা চাকমা জানান, দুপুরের খাওয়া ছাড়া সারাদিন রাস্তা বানানোর কাজ করছি। আমাদের যাতায়াতের কোন রাস্তা নেই। কেউ এগিয়েও আসেনি। তাই নিজেরা মিলে কাজ করছি। এখন আমরা সহজে যাতায়াত করতে পারব। সরকার যদি স্বেচ্ছাশ্রমে বানানো কাঁচা রাস্তার ওপর ইট বিছানোর উদ্যোগ নেয় তাহলে রাস্তাটি স্থায়ী হবে।

বগাপাড়াসহ ৩ গ্রামের রাস্তার উন্নয়নে আশ্বাস দিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান মো. কাশেম জানান, উপজেলায় টিআর, কাবিখার বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন এলাকায় কাঁচা রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তবে অনেক সময় বরাদ্দের অভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী কাজ করা সম্ভব হয় না। তবে বগাপাড়ার তিন গ্রামের মানুষ যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। আগামী অর্থবছরে রাস্তার উন্নয়নে ইটের সলিন করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে।

The Post Viewed By: 137 People

সম্পর্কিত পোস্ট