চট্টগ্রাম সোমবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২০ মে, ২০১৯ | ২:৫০ পূর্বাহ্ণ

নাজিম মুহাম্মদ

গ্রেপ্তার কিশোরের স্বীকারোক্তি নিয়ে রহস্য

বেঁচে আছেন দিলীপ পোড়া লাশটি কার?

কিশোরকে পুড়িয়ে হত্যা হালিশহরে

হালিশহরে কিশোরকে পুড়িয়ে হত্যা করার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এমনকি তার পরিচয়ও শনাক্ত হয়নি। লাশ উদ্ধারের চারদিনের মাথায় পুলিশ জীবন চক্রবর্তী (১৬) ও দুর্জয় আচার্য্য (১৬) নামের দুই কিশোরকে গ্রেপ্তার করে দাবি করেছিলো নিহত ব্যক্তির নাম দিলীপ (১৮)। গ্রেপ্তার দুই কিশোরের একজন জীবন চক্রবর্তী ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেয়। কিন্তু জবানবন্দিতে যে দিলীপকে হত্যা করার কথা বলা হয়েছে খোঁজ নিয়ে জানা যায় সেই দিলীপ বেঁচে আছেন। তিনি একজন দিনমজুর। ফটিকছড়িতে তাঁর বাড়ি। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। প্রশ্ন উঠেছে তাহলে পোড়া লাশটি কার? দুই কিশোরই বা কেন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে? এসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।
গত ২১ এপ্রিল সন্ধ্যায় নগরীর হালিশহর ফইল্ল্যাতলি বাজারের খালপাড় এলাকার একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে পোড়া ও গলিত অবস্থায় এক তরুণের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আনুমানিক ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরের শরীরের ৯০ শতাংশ পোড়া ছিল। প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় ময়নাতদন্ত শেষে বেওয়ারিশ হিসাবে আঞ্জুমানে মফিদুল ইসলাম মৃতদেহটি দাফন করে। লাশ উদ্ধারের চারদিনের মাথায় গত ২৫ এপ্রিল জীবন ও দুর্জয় নামে দুই তরুণকে গ্রেপ্তার করে হালিশহর থানা পুলিশ। সেই সময় পুলিশ দাবি করেছিলো নিহত ‘দিলীপ’, গ্রেপ্তার জীবন ও দুর্জয় তিনজনই দিনমজুর। হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা জানিয়ে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে দুই কিশোর। পোড়া লাশের পাশে একটি সিমের প্যাকেটের সূত্র ধরে জীবন ও দুর্জয়কে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, পোড়া মৃতদেহটি দিলীপের। তিনজনই কুমিরা এলাকার জিপিএইচ ইস্পাত করাখানার শ্রমিক। তারা এক সাথেই বসবাস করতো। খুন হওয়ার কিছুদিন আগে জীবন ও দুর্জয়কে গালিগালাজ এবং মারধর করে দিলীপ। তার প্রতিশোধ নিতেই দু’জনে মিলে ১৮ এপ্রিল পরিকল্পনা করে দিলীপকে নাথপাড়া এলাকায় হত্যা করে। পরে ফইল্ল্যাতলি খালপাড় এলাকার পরিত্যক্ত ওই বাড়িতে আগুন দিয়ে মৃতদেহটি পুড়িয়ে দেয়। খুনের দায় স্বীকার করে দুই কিশোর আদালতে জবানবন্দি দিয়ে কারাভোগ করলেও খোঁজ নিতে গিয়ে দেখা যায়, যে দিলীপকে হত্যার পর পোড়ানোর কথা বলা হয়েছে সেই দিলীপ বেঁচে আছেন। তিনি দিন মজুরের কাজ করেন। দিলীপের বাবার নাম সন্তোষ চক্রবর্তী, মায়ের নাম শোভা রায়। ফটিকছড়ির কুতুকছড়ি চা বাগান এলাকায় তার বাড়ি।
গতকাল সন্ধ্যায় মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হালিশহর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম বদরুল কবির জানান, যে দিলীপকে হত্যা করা হয়েছে বলে দুই কিশোর জানিয়েছে সেই দিলীপ বেঁচে আছেন। তার বয়স আনুমানিক ৩০ বছর। তাকে আমরা আদালতে হাজির করেছি। বিজ্ঞ আদালত নিজ জিম্মায় তাকে ছেড়ে দেয়ার আদেশ দিয়েছেন। পোড়া লাশটি পরিচয় এখনো মেলেনি। মামলাটির শুরুতে যেভাবে ছিল এখনো সেভাবেই আছে। নতুন করে কিছুই পাওয় যায়নি।
খুনের দায় স্বীকার করে দুই কিশোরের আদালতে জবানবন্দি দেয়া প্রসঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা বদরুল কবির বলেন, কি কারণে তারা দিলীপের কথা বলেছে তা আমরা জানতে পারিনি।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 299 People

সম্পর্কিত পোস্ট