চট্টগ্রাম সোমবার, ০৮ মার্চ, ২০২১

সর্বশেষ:

২২ জানুয়ারি, ২০২১ | ৩:৩০ অপরাহ্ণ

তাসনীম হাসান/মরিয়ম জাহান মুন্নী

মেয়রকে হতে হবে সম্মুখসারির নেতা

চট্টগ্রামের সমস্যা সমাধানে সম্মুখসারীর নেতা হয়ে নেতৃত্ব দিতে পারবেন এমন একজনকেই মেয়র হিসেবে দেখতে চান তরুণেরা। তাঁদের প্রত্যাশা নতুন মেয়র হিসেবে যিনি দায়িত্ব নেবেন তিনি নিজের স্বার্থকে তুচ্ছ করে মানুষের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখবেন। নিজের ওপর সব দায়িত্ব তুলে না নিয়ে কাউন্সিলরদের ক্ষমতায়নে তাঁকে উদ্যোগ নিতে হবে। আর দুর্নীতির গন্ধ যেন কখনো মেয়র ও তাঁর অধীনস্তদের গায়ে না লাগে সেটিও তাঁদের চাওয়া।

 

সুমাইয়া ইয়াসমিন তারিন

 

শিক্ষক

মেয়রকে হতে হবে ফ্রন্টলাইন নেতা

চট্টগ্রামের মতো বড় শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা বাড়াতে ফ্রন্টলাইন নেতা হয়ে কাজ করবেন এমন একজনকেই আমি মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। সাধারণ মানুষের জীবিকা সম্পর্কে যার কিছু দর্শন ও মিশন থাকবে।

মেয়রের কাছে আমার আপাতত পাঁচটি প্রত্যাশা আছে। প্রথমেই চাইব তিনি যেন দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন নিশ্চিত করতে পারেন। তিনি ও তাঁর অধীনস্তদের গায়ে যেন দুর্নীতি শব্দটা এঁটে না বসে। শহরের প্রধান সমস্যা-জলাবদ্ধতা নিরসনে তিনি যেন কার্যকর পদক্ষেপ নেন। আজকাল সড়ক এত প্রশস্ত করা হচ্ছে, কিন্তু যানজটের সমস্যা আগের মতোই রয়ে গেছে। নতুন মেয়র যেন ফুটপাট ও সড়ক দখলমুক্ত করে যানজট নিরসনে উদ্যোগী হন। চট্টগ্রামকে সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পনা হাতে নেন। আর সরকারের কাছে তিনি যেন আরও স্বতন্ত্র দাবি উত্থাপন করেন, যাতে সরকার এই শহরের উন্নয়নের প্রতি আরও আগ্রহী হয়ে উঠে।

 

নোমান উল্লাহ বাহার

 

সভাপতি এসডিজি ইয়ুথ ফোরাম

কাউন্সিলরদের ক্ষমতায়নে যেন মেয়র উদ্যোগী হন

আমি এমন একজনকে মেয়র হিসেবে দেখতে চাই যিনি হবেন দূরদর্শী। যিনি কথার ফুলঝুরিতে নয়, কার্যকর অর্থে পরিকল্পিত ও সমৃদ্ধ নগর গড়তেই নিজের সবটুকু ঢেলে দেবেন।

নতুন যিনি মেয়র হবেন তাঁর কাছে আমার প্রত্যাশাও অনেক। তবে তা সুনির্দিষ্ট। মেয়র যেন সব কাজ নিজের কাঁধের ওপর তুলে না নিয়ে সিটি করপোরেশনকে ওয়ার্ডকেন্দ্রীক বিকেন্দ্রীকরণ করেন; কাউন্সিলরদের ক্ষমতায়নে উদ্যোগী হন। এতে নগরবাসীকে সেবার জন্য সিটি করপোরেশনের কার্যালয়ে দৌঁড়তে হবে না। মেয়রকে হতে হবে সৎ ও যোগ্য এবং জনকল্যাণে নিবেদিত প্রাণ। নিজের কাজের বাইরে গিয়ে চট্টগ্রামের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নতিতেও তিনি যেন এগিয়ে আসেন।

আজকাল বাসা থেকে বেরিয়ে সড়কে নামলেই সেবা সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার উদাহরণ চোখে পড়ে। সদ্য যে সড়কটি সংস্কার করা হলো, তার ওপরেই পড়ে খোঁড়াখুঁড়ির দাগ। তাই মেয়র যেন সব সংস্থার সঙ্গে ইতিবাচক সুসম্পর্ক গড়ে তুলে নগরবাসীর ভোগান্তি দূর করেন।

জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রার টেকসই নগর বাস্তবায়নের দিকেও নতুন মেয়র যেন চোখ দেন সেটাও আমার চাওয়া।

 

সানজিদা সুলতানা নিশি

 

শিক্ষার্থী

নাগরিক স্বার্থটাই যেন মেয়র বড় করে দেখেন

 

যিনি নিজের স্বার্থকে তুচ্ছ করে মানুষের স্বার্থটাকেই বড় করে দেখবেন এমন কাউকেই আমি মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। তাঁকে হতে হবে সৎ। মানুষের জন্য শতভাগ দেওয়ার তাড়নাও থাকতে হবে।

যিনি এই শহরের মেয়র হবেন তাঁর কাছে আমার একগুচ্ছ প্রত্যাশা আছে। তার মধ্যে প্রথমটা হলো তিনি যেন সড়কের দিকে একটু বেশি করে মনোনিবেশ করেন। সড়ক সংস্কারের পাশাপাশি সংরক্ষণেও যেন উদ্যোহী হন। নগরীর পথে পথে অনেক গরিব মানুষের দেখা মেলে। এই মানুষদের জন্য তিনি একটু ভাবেন। তাদের তিনবেলা খাবারের ব্যবস্থা করেন, যারা কর্মক্ষমতাদের জন্য চাকরির ব্যবস্থা করেন। শিশুশ্রম বন্ধে যেন কার্যকর পদক্ষেপ নেন।

চট্টগ্রামকে বলা হয় হেলদি সিটি। কিন্তু বাস্তবে তার কতটুকু দেখি আমরা। তাই নতুন মেয়র যেন পরিচ্ছন্নতার দিকে বেশি করে নজর রাখেন।

চট্টগ্রামের অনেক মানুষ এখনো সুপেয় পানি পায় না। যদিও এটি ওয়াসার কাজ। তবুও মেয়রের কাছে প্রত্যাশা থাকবেÑতিনি যেন সেবা সংস্থাটির সঙ্গে কথা বলে পানির সমস্যা নিরসনে যেন এগিয়ে আসেন।

 

আহমেদ শাহিনুর হাসান ভুঁইয়া

 

ব্যাংক কর্মকর্তা

 

মেয়র যেন জনদুর্ভোগ লাঘবে সক্রিয় হন

যার কথায় ও কাজে মিল থাকবে এমন একজনকে আমি মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। যিনি মুখে যা বলবেন, তা বাস্তবে করে দেখাবেন নাগরিক হিসেবে এমন কাউকেই মেয়র হবেন এমনটাই আমার চাওয়া।

যিনি নতুন মেয়র হবেন তাঁর কাছে আমার প্রত্যাশা থাকবে তিনি যেন সবকিছুর প্রতিশ্রুতি না দেন। কারণ তাঁরও সীমাবদ্ধতা আছে। তাই সুনির্দিষ্ট কিছু প্রতিশ্রুতি যেন দেন। আর সেগুলো বাস্তবায়ন করেন। এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমবে ও প্রার্থীর ওপর আস্থা জন্মাবে। আমরা মেগা সিটি চাইনা, আমরা চাই জলাবদ্ধতা, ধুলাবালি ও হানাহানিমুক্ত একটা মানববান্ধব শহর।

শহরের এখানে ওখানে আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়, ভাঙা সড়ক আর এক সড়কে বারবার খোঁড়াখুড়ির যন্ত্রণাও আছে। নতুন মেয়র যেন জনদুর্ভোগ লাগবে এসব বিষয় ভালোভাবে দেখেন এমনটাই আমার প্রত্যাশা।

 

মো. আরিফুর রহমান

 

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা

যা বলবেন তা করবেন এমন মেয়র চাই

 

যিনি কোনো ছলচাতুরির আশ্রয় নেবেন না, যা বলবেন তা করে দেখাবেন তাঁকেই আমি মেয়র হিসেবে দেখতে চাই। সবার মতো মেয়রের কাছে আমারও অনেক প্রত্যাশা আছে। সেই প্রত্যাশার তালিকার চূড়ায় থাকবে অবশ্যই জলাবদ্ধতার কথা। কারণ এই শহরের মানুষ বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যায় ভুগছেন। নতুন যিনি মেয়র হবেন তিনি যেন এই বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেন।

এর বাইরে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সমস্যা তো আছেই। তার মধ্যে সড়কের বেহাল দশা, মশার উপদ্রুপ, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা পড়ে থাকা উল্লেখযোগ্য। নতুন যিনি মেয়র হবেন তিনি যেন এই সমস্যা নিরসনে উদ্যোগী হন। যিনি মেয়র নির্বাচিত হবেন তিনি যেন দায়িত্ব নিয়েই এই বৃহৎ সমস্যাগুলো সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে কাজগুলো শেষ করেন।

 

রাসেল মজুমদার

 

শিক্ষার্থী

তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এমন মেয়র চাই

আমাদের পরিবার বা ধর্মীয় দিক থেকে আমরা হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রায় ৯৯ ভাগ মানুষ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। আমি ও আমার পরিবার বর্তমান সরকারের সমর্থক। আমরা ভোট দেওয়ার সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে ভোট দিই। আমি ২০১৭ সালে নতুন ভোটার হয়েছি। তবে এখনো পর্যন্ত ভোট দিতে পারিনি। ভোট একজন নাগরিকের রাজনৈতিক অধিকার। তাই দেশের নাগরিক হিসেবে ভোটা আমারও অধিকার। কিন্ত এখনতো কোনো ভোটাধিকার নেই। বর্তমান সময়ে দেশের একজন নাগরিক যে দলেরই হোক না কেন কারোই ভোটাধিকার নেই, আমাদেরও নেই। এবারও যে পারবো তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। তাই ভোট নিয়ে আমার কোনো আনন্দ বা পরিকল্পনা নেই। কিন্তু জীবনে একবার হলেও ভোট দেয়ার অধিকার পেতে চাই। না হয় এ পরিচয়পত্রের কি আর মূল্য রইলো। এছাড়া নতুন নগর পিতার কাছে আমার চাওয়া আমরা যারা শিক্ষিত বেকার তরুণ আছি তাদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করবে। এতে আমরা উপকৃত হবো।

 

রাকিবুল হাসান

 

এলাকাবাসী

 

২০১৪ সালে আমি ভোটার আইডি কার্ড পাই। এরমধ্যে জাতীয় নির্বাচন একটা শেষ হয়েছে। আশা ছিল আমিও এবার ভোট দিবো। কিন্তু স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে গেছে, ভোট দেয়া হলো না। ভোটকেন্দ্রের আশপাশেই যাওয়া যায়নি। দেশের নাগরিক হিসেবে ভোট আমার অধিকার। আমিও ভোট দিতে চাই। কিন্তু জানি এবারও ভোট দিতে পারবো না। তবে এখনতো আমার মন চাইছে আমি চট্টগ্রামের বাসিন্দা না হয়ে নোয়াখালীর বাসিন্দা হওয়াই ভালো ছিল। কারণ কিছুদিন আগে আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই বলেছে সবাই সবার ভোট নিজে দিবে। এখানো কোনো ভোটারের উপরে জোর করে ভোটাধিকার নষ্ট করা যাবে না। তাই যদি পারতাম ওনার এলাকার ভোটার হয়ে ওনাকেই ভোট দিতাম।

 

জান্নাতুল ফাহিম মুক্তা

 

শিক্ষার্থী

২০১৮ সালের ভোটার আমি। মন চাইছে ভোট দিতে। জানি কোনো প্রার্থীর আমাদের ভোট লাগবে না। তাই বলে কি আমরা কোনো দিন ভোট দিতে পারবো না? সরকারের কাছে আকুতি থাকবে আমাদের শখও যেন পূরণ হয়।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 501 People

সম্পর্কিত পোস্ট