চট্টগ্রাম বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২০

সর্বশেষ:

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ | ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ

ড. মো.মনজুরুল কিবরীয়া

নিরাপদ পুষ্টির উৎস হিসেবে দেশীয় মাছের সংরক্ষণ সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলার পূর্বশর্ত

‘মাছে ভাতে বাঙালি’ এই প্রবাদের মাধ্যমে ঐতিহ্যগতভাবে এদেশের মানুষের সাথে মাছের নিবিড় সম্পর্কের ইঙ্গিত বহন করে। এমন একসময় ছিল যখন নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-ডোবা ও হাওড়-বাওড়ে ছিল মাছের অবাধ বিচরণ। এসব উৎস হতে প্রাপ্ত ছোট বড় সকল মাছই ছিল মানুষের পুষ্টির অন্যতম উৎস।
কিন্তু ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপ, মাছের আবাসস্থল ধ্বংস, প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও নানা কারণে জলাশয়গুলোতে মাছের প্রাপ্যতা দিন দিন কমে যাচ্ছে। একসময় গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য তালিকায় মলা, ঢেলা, মেনি, চাপিলা, চান্দা, টেংরা, কৈ, টাকি, বেলে, বাইম, গুলশা, শিং, মাগুর, শোল গজারসহ ইত্যাদি ছোট মাছ ছিল প্রতি দিনের খাদ্য তালিকার অংশ, যা আজ প্রায় সকল প্রাকৃতিক উৎসের মাছ বিলুপ্তির পথে।
আমাদের দেশে রয়েছে ১.০৩ মিলিয়ন হেক্টর আয়তন বিশিষ্ট প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ নদী ও মোহনা, ১১৪ হাজার হেক্টর বিল, ৬৮ হাজার হেক্টর আয়তনের কাপ্তাই লেক, ৫ হাজার হেক্টর জলায়তনের বাওড় বা মরা নদী, প্রায় ২ লাখ হেক্টর আয়তনের সুন্দরবনের খাড়ি অঞ্চল এবং ২৮.৩ লাখ হেক্টর আয়তনের প্লাবনভূমি। অতীতে এই বিশাল জলাভূমি প্রাকৃতিকভাবেই মৎস্য সম্পদে ভরপুর ছিল। ষাট ও সত্তর দশকে এদেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের শতকরা প্রায় ৭০ ভাগ আসতো এসব জলাভূমি থেকে। আহরিত মাছের যেমন ছিল প্রাচুর্য তেমনই ছিল তার প্রজাতি বৈচিত্র্য। বাংলাদেশে মিঠা পানির মাছের প্রজাতির সংখ্যা ২৬০ এবং চিংড়ির প্রজাতির সংখ্যা ২৪। এসব মাছের মধ্যে ১২টি চরম বিপন্ন, ২৮টি বিপন্ন এবং ১৪টি সংকটাপন্ন প্রজাতি হিসাবে চিহ্নিত হয়েছে। স্বাদুপানির বিপন্ন ৫৪ প্রজাতি মাছের মধ্যে ৩২ প্রজাতিই ছোট মাছ যার ৫টি চরম বিপন্ন, ১৮টি বিপন্ন ও ৯টি সঙ্কটাপন্ন বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
১। মাত্রাতিরিক্ত জনসংখ্যা বৃদ্ধিতে স্বাভাবিকভাবে মুক্ত জলাশয়ে ছোট মাছ আহরণের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে জলাশয়ে মাছের মজুদ হ্রাস পাওয়ায় জলাশয়গুলোতে মাছের আশানুরূপ উৎপাদন হচ্ছে না।
২। মৎস্যসম্পদের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব বিবেচনায় না এনে অপরিকল্পিতভাবে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, স্লুইস গেট, সেচ নালা, রাস্তা ও কালভার্ট ইত্যাদি নির্মাণের ফলে প্লাবনভূমির আয়তন এবং পানি অবস্থানের সময় কমে যাচ্ছে এবং মাছের প্রজনন ক্ষেত্রসমূহ ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। উপরন্তু অপরিকল্পিত এসব অবকাঠামো নির্মাণের ফলে নদীর সঙ্গে বিলের বা বিলের সঙ্গে নদীর সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মাছের প্রজনন অভিপ্রায়ন সীমিত হয়ে মাছের প্রজনন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সার্বিক উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে।
৩। বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকা- যেমন- বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, অপরিকল্পিত রাস্তা ও সেচ খাল নির্মাণ, যত্রতত্র নদ-নদী ভরাট করে অবকাঠামো নির্মাণ ইত্যাদি নানাবিধ কারণে মাছের আবাসস্থলের সংকোচনের ফলে মাছ তথা ছোট মাছের প্রজনন বিঘিœত হচ্ছে এবং উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। অধিকন্তু এসব মাছের প্রকৃত আবাসস্থল তথা প্রাকৃতিক জলাশয়ের ইকোসিস্টেমে মারাত্মক পরিবর্তন সাধন যেমন-জলজ উদ্ভিদ ধ্বংস হয়ে যাওয়া, জলাশয় সম্পূর্ণরূপে শুকিয়ে ফেলার ফলে বেনথোস ও অন্যান্য জীবের সংখ্যা হ্রাস পাওয়ায় ছোট মাছ দিন দিন কমে যাচ্ছে।
৪। প্রজনন মৌসুমে কারেন্ট জালসহ অন্যান্য অননুমোদিত ক্ষতিকর জাল ও ফাঁদের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বিভিন্ন মুক্ত জলাশয় থেকে ডিমওয়ালা ছোট মাছ প্রতিনিয়ত নিধনের ফলে মুক্ত জলাশয়ে ছোট মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
৫। ক্রমাগত শিল্পায়নের ফলে কল-কারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য প্রতিনিয়ত নির্গত হওয়ায় এর বিষক্রিয়ায় মুক্ত জলাশয়ের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। ফলে ব্যাপকভাবে মাছ রোগাক্রান্ত হচ্ছে এবং মারা যাচ্ছে।
৬। বর্তমানে কৃষিকাজে বিশেষ করে উচ্চ ফলনশীল ধান উৎপাদনে কীটনাশকের ব্যাপক ব্যবহার হচ্ছে। ছোট মাছ তথা মাছ চাষের ওপর কীটনাশকের বহুমাত্রিক ক্ষতিকর প্রভাব প্রমাণিত হয়েছে। কীটনাশকের প্রভাবে জলজ পরিবেশের ভারসাম্য ও গুণাবলী নষ্ট হয়। কীটনাশক দ্বারা জলজ পরিবেশ দূষিত হলে যে সকল প্রতিক্রিয়া পরিলক্ষিত হয় তা হচ্ছে-জলজ পরিবেশে বসবাসরত জীবের শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের আদান-প্রদান ব্যাহত হয়। প্রতিটি ভৌত-রাসায়নিক পরিবর্তনই মাছের বাঁচার হার, বৃদ্ধি ও প্রজনন ক্ষমতা সংরক্ষণের সাথে সম্পর্কিত। মাছের প্রাকৃতিক খাদ্য ধ্বংস এবং খাদ্য শিকল বিনষ্ট করে। মাছের ও অন্যান্য জলজ জীবের শারীরবৃত্ত্বীয় পরিবর্তন ঘটে এমনকি মাছের সরাসরি মৃত্যু ঘটায়। প্রজনন ও বিচরণ ক্ষেত্রের পরিবর্তন হয় এবং মাছের রোগ-বালাই বৃদ্ধি পায়।
অতিরিক্ত কীটনাশক বন্যা-বৃষ্টির পানি বাহিত হয়ে নদী-নালা ও পুকুরে ছড়িয়ে পড়ছে, মাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও প্রজনন ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে এবং ক্ষতরোগ সৃষ্টি করছে। এ মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে মানব দেহে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের পুকুরসমূহে ক্ষতিকর মাত্রায় অর্গানোফসফরাস, কার্বামেট, ফুরাডান, ম্যালাথিয়ন কীটনাশক বিদ্যমান। ১৯৯৭ সালে বুয়েটে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যায়, মানবদেহে বালাইনাশকের সহ্য ক্ষমতা যেখানে ০.০০৫ মিগ্রা/কেজি/দিন, সেখানে বাংলাদেশের পরিমাণ ০.০২ মিগ্রা/কেজি/দিন। তারা জলাশয়ের পানিতে সহ্যক্ষতার প্রায় ২০ গুন বেশি ডিডিটি ও হেপ্টাক্লোর এর অস্তিত্ব পায়। বিষাক্ত কীটনাশক একইভাবে মাটি ও ভূগর্ভস্থ পানিকে দূষিত করে জনস্বাস্থ্যকে বিপজ্জনক করে তুলছে। এই বিষাক্ত পানির মাছ খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করলে মানুষের স্নায়ুবিক দুর্বলতা এমনকি ক্যান্সারও হতে পারে। হেলথ রিসোর্স ইনস্টিটিউট বলছে, কৃষি খামার ও উন্নয়নশীল দেশে অধিকাংশ মৃত্যুর ঘটনা বিশেষ করে ক্যান্সার, সংক্রামক ব্যাধি ও অন্যান্য অসুস্থতা কীটনাশক থেকে ঘটছে। তাদের মতে, কীটনাশক শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাই নষ্ট করে ফেলে। কীটনাকের প্রতিক্রিয়ায় মানুষের বমি বমি ভাব, অন্ত্রে ব্যথা, শারীরিক দুর্বলতার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী মাংসপেশী সংকোচন ও শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ, মাথা ব্যথা, ডায়রিয়া প্রভৃতি অসুবিধা দেখা দেয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার শ্রেণিবিন্যসে ‘অত্যন্ত বিষাক্ত’ হিসেবে চিহ্নিত হেপ্টাক্লোর পাখি ও মানুষের জন্য অধিক ক্ষতিকর। এই কীটনাশকের সংস্পর্শে এলে মানুষ লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত হতে পারে। তাছাড়া গর্ভস্থ শিশুর মৃত্যু ও বিকলাংগ হওয়ার আশঙ্ককাও থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র মতে উন্নয়নশীল দেশসমূহে বিশ্বের ৩০ ভাগ বালাইনাশক ব্যবহার হলেও বালাইনাশক-জনিত কারণে সংঘঠিত মৃত্যুর ৯৫ ভাগই হয়ে থাকে এসব দেশে।
দেশীয় ছোট মাছ বিশেষ করে মলা, পুঁটি, ঢেলা ইত্যাদি পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ বিধায় রাতকানা, রক্তশূন্যতাসহ অপুষ্টিজনিত রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছোট মাছের কাটা ও মাথার অংশে এবং মাংসপেশীতে প্রয়োজনীয় ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও জিংক থাকে যা শিশুদের হাড় গঠনে খুবই প্রয়োজনীয়। সারা বিশ্বে সহজপাচ্য উন্নতমানের প্রাণিজ আমিষ হিসাবে মাছের অবস্থান সর্বাগ্রে। ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণ আমিষ এবং মানবদেহের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ১০টি এমাইনো এসিড আছে। মাছের আমিষ রক্তে কলেস্টারোলের মাত্রা কমায়। মাছের দেহের ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড রক্তের অনুচক্রিকাকে জমাট বাঁধতে বাঁধা দেয় এবং ফুসফুসের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। মাছের তেল কিডনীতে পাথর হওয়ার ঝুঁকি কমায়। মাছে কম-বেশি ৭২% পানি, ১৯% আমিষ, ৮% চর্বি, ০.১৫% ক্যালসিয়াম, ০.২৫% ফসফরাস এবং ০.১০% ভিটামিন এ বি সি ডি আছে। অনেকক্ষেত্রে বড় মাছের তুলনায় ছোট মাছের পুষ্টিমান বেশি হয়ে থাকে। ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, লৌহ ও আয়োডিনের মত খনিজ পদার্থ, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করে। ক্যালসিয়াম দাঁত ও হাড় গঠনে সহায়ক। ফসফরাস নতুন কোষ সৃষ্টিতে সহায়তা করে থাকে। লাইসিন ও সালফার সমৃদ্ধ অত্যাবশ্যকীয় অ্যামাইনো এসিড ছোট মাছে বেশি পরিমাণে থাকে। অন্ধত্ব, গলগন্ড ও রক্তশূন্যতা দূরীকরণে ছোট মাছের গুরুত্ব অপরিসীম। ছোট মাছে প্রচুর পরিমাণে অ্যামাইনো এসিডথাকে, যা শিশু, মহিলা ও বৃদ্ধ মানুষের চোখের দৃষ্টি শক্তি বৃদ্ধিসহ রাতকানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। এ ছাড়া গর্ভবতী মহিলা ও দুগ্ধদানকারী মায়েদের রক্তশূন্যতা থেকে রক্ষায় ছোট মাছ বিশেষ গুরুত্বপুর্ণ অবদান রাখে। গর্ববতী মহিলাদের ছোট মাছ খাওয়ালে বাচ্চার মস্তিষ্ক, ত্বক, চোখের গঠন এবং হাড় ও দাঁতের গঠন সঠিক ও স্বাভাবিক হয়।
বাংলাদেশের মানুষের পুষ্টি চাহিদা পূরণে দেশীয় ছোট মাছের অসামান্য ভূমিকা রয়েছে। ছোট মাছকে এ দেশে প্রকৃতির আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আমাদের প্রাণিজ প্রোটিনের প্রধান উৎস হিসেবে সুস্থ ও স্বাস্থ্যসম্মত ভবিষ্যত প্রজন্ম গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরাপদ মাছ গ্রহণ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। এ লক্ষ্যকে সামনে রেখে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
নিরাপদ খাদ্য হিসেবে দেশীয় ছোট মাছের প্রাপ্যতা বৃদ্ধি তথা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে দেশের নদ-নদী বা অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়সমুহকে দূষণমুক্ত রাখা, ক্ষতিকর কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ এবং ছোট মাছের অবৈধ ও অনিয়ন্ত্রিত আহরণ বন্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে বিভিন্ন নদ-নদী, হাওর-বাওড় ও বিলের নির্বাচিত অংশে নিয়ন্ত্রিতভাবে ছোট মাছের আহরণ বন্ধ ও তাদের বংশ বিস্তারের লক্ষ্যে মৎস্য অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ বা পোল্ডার এবং গ্রামাঞ্চলে অপরিকল্পিত কাঁচা-পাকা রাস্তা ইত্যাদি নির্মাণের ফলে প্লাবনভূমিতে ছোট মাছের অবাধ বিচরণ ও প্রজনন ক্ষেত্রসমূহ হুমকির সম্মুখীন। এসব অবকাঠামো নির্মাণের ফলে নদী থেকে বিলে বা বিল থেকে নদীতে মাছের প্রজনন তথা সার্বিক অভিপ্রায়ণ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় দেশে মৎস্য উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। ফিশ পাস বা ফিশ ফ্রেন্ডলি অবকাঠামো নির্মাণ করে মাছের অবাধ যাতায়াত ও প্রজনন ক্ষেত্রের উন্নয়ন ঘটাতে পারলে এ সমস্যা অনেকাংশে দূর করা সম্ভব হবে।
দূষণের উৎসসমুহ চিহ্নিত করে স্থায়ীভাবে জলজ দূষণ বন্ধ করা এখন সময়ের দাবি। দূষণমুক্ত জলাশয় নিরাপদ ও স্বাস্থসম্মত মাছ পাওয়ার অন্যতম শর্ত। দেশীয় ছোট মাছগুলোর মধ্যে মলা, ঢেলা, পাবদা, পুঁটি, চাপিলা, কৈ, শিং, মাগুর, খলিশা, টেংরা, গুলশা, মেনি ইত্যাদি খুবই সুস্বাদু ও অত্যন্ত জনপ্রিয়। অপূর্ব স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও উচ্চ বাজারমূল্য বিবেচনায় এসব মাছকে বাঁচাতে হলে, বাংলাদেশের মৎস্যজীববৈচিত্র্য রক্ষা করতে হলে, সর্বোপরি সুস্থ সবল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে হলে জলজ দূষণ বন্ধে দীর্ঘমেয়াদী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
তথ্যসূত্র
১। আবু নোমান ফারুক আহম্মেদ, ২০১৯। কৃষিতে বালাইনাশকের ব্যবহার : সংকটে মানবস্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র। যঃঃঢ়://িি.িশৎরংযরনধৎঃধ.ড়ৎম
২। মৎস্য অধিদপ্তর, ২০১৪। দৈশীয় প্রজাতির ছোট মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণ। যঃঃঢ়://িি.িভরংযবৎরবং.ঢ়ড়ৎঃধষ.মড়া.নফ

লেখক ঁ অধ্যাপক, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ-কোঅর্ডিনেটর, হালদা রিভার রিসার্চ ল্যাবরেটরি,
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

The Post Viewed By: 12 People

সম্পর্কিত পোস্ট