চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০২৫

সর্বশেষ:

আজ মনসা পূজা

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৭ আগস্ট, ২০২৪ | ১১:৫১ পূর্বাহ্ণ

আজ শনিবার মনসা পূজা। শ্রাবণ মাসের শেষ দিনে সনাতন ধর্মালম্বীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে মনসা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়। মনসা সাপের দেবী। তিনি মূলত লৌকিক দেবী। পরবর্তীকালে পৌরাণিক দেবী রূপে স্বীকৃত হন। প্রতি বছরের মত এবারও চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে মনসা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সকালে দেবীর সাদা পূজা সম্পন্ন করা হবে এবং পরে ভক্তদের মাঝে প্রদান করা হবে অঞ্জলি। এরপর শুরু হবে পাঁঠা বলি। মনসার উদ্দেশে পাঁঠাবলির মাধ্যমে মানুষের মনের পশুকে দমন করা হয়। সমাজে কী ভাবে এই পূজার চালু হল, তার পেছনে পুরাণের কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। পুরাণ অনুসারে মনসা হলেন শিবের মানসকন্যা ও জরৎকারুর পত্নী। জরৎকারু মনসাকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। মাতা পার্বতী প্রথমে তাকে ঘৃণা করলেও পরবর্তীকালে দেবী চণ্ডী মনসাকে নিজের মেয়ের স্বীকৃতি দিয়েছিলেন। তবে কোনও কোনও প্রাচীণ গ্রন্থ অনুসারে শিব নয়, ঋষি কাশ্যপ হলেন মনসার পিতা। মনসা এমনিতে ভক্তবৎসল হলেও তার পূজো করতে অস্বীকার করলে তিনি নির্দয় হয়ে থাকেন।

 

দেবী মনসার জন্ম সংক্রান্ত অনেক বিতর্ক রয়েছে। কোন কোন কবি বলেছেন মনসার জন্ম পদ্মবনে নয়, কেতকী অর্থাৎ কেয়াবনে। এজন্য তার নাম ‘কেতুকা’। আবার কেউ বলেছেন মনসা অযোনিসম্ভবা, শিববীর্যে পাতালে তার জন্ম। এই জন্য অনেকেই তাকে ‘পাতাল-কুমারী’ বলে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তার এই জন্মের ঘটনাটি আকস্মিক। একদিকে মনসা এবং চণ্ডী আবার অন্যদিকে চাঁদ সদাগর এবং মনসার দ্বন্দ্বের কাহিনী লোকমুখে বহুকাল থেকে প্রচলিত। হিন্দু লোককথা অনুযায়ী, চাঁদ সদাগর ছিলেন শিবের ভক্ত। মনসা চাঁদের পূজা কামনা করলে শিবভক্ত চাঁদ তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। কাহিনীর শেষে দেখা যায় চাঁদ সদাগর মনসার পূজা করতে বাধ্য হয়। সেই দিন থেকে এখনও পর্যন্ত হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রতিটি ঘরে ঘরে মনসা দেবীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

পূর্বকোণ/এসএ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট