চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

বিষাদ-বেদনায় ভরা আষাঢ়স্য প্রথম দিবস
পাঁচলাইশ আবাসিক এলাকা থেকে ছবিটি তুলেছেন- শরীফ চৌধুরী।

১৫ জুন, ২০২০ | ৬:২৫ অপরাহ্ণ

ডেইজী মউদুদ

বিষাদ-বেদনায় ভরা আষাঢ়স্য প্রথম দিবস

গত কয়েকদিন ধরে প্রকৃতিতে চলছে হালকা বর্ষণ। নিদাঘের নীল মেঘমালারা আকাশের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে ছুটোছুটি করলেও এখনো গরমের দাপটে মানুষের জীবন ওষ্ঠাগত। আজ পহেলা আষাঢ়। বর্ষা ঋতুর সূচনা। মানবজীবন ও প্রকৃতির যাবতীয় রুক্ষ, জীর্ণতা ধুয়ে মুছে ধরণীকে সবুজে সবুজময় করে এই ঋতু আজ তার আবাহন করবে। কিন্ত বিশ্বজুড়ে আজ চলছে করোনার ভয়াল তা-ব। মানুষের স্বাভাবিক জীবন কোলাহল থেমে গেছে গত ৪ মাস আগে থেকে। মানুষ ঘর থেকে বেরুতে পারছে না। চোখের সামনে মুহূর্তেই চির বিদায় নিচ্ছে স্বজন, বন্ধু দূরের কাছের। বেঁচে থাকার আকুতি, স্বজনদের বাঁচিয়ে রাখার দুনির্বার প্রচেষ্টা, হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে স্বজন নিয়ে আহাজারি! এমন এক অবস্থায় ষড়ঋতুর সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও প্রকৃতিনির্ভর ঋতু বর্ষার সূচনাকালে মনে কোন কবিতার লাইন আসছে না। কোন গান বা গল্পের থিম চেতনাকে দোলা দিচ্ছে না, বরং ভয়ঙ্কর এক অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে চেতনাজুড়ে। মানুষের এই দুর্যোগে প্রকৃতি কিন্তু অনেক সতেজ ও সজীব হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির চিরায়ত রূপ ধ্বংসকারী মানুষ আজ গৃহবন্দী। জানালা বা করিডোর দিয়ে দেখছে কখনো হাল্কা বৃষ্টির মাদল, কখনো বা তুমুল বজ্রপাত আর আগাম বর্ষার হাতছানি। সতেজ আর সজীব গাছপালা, কচি পত্রপল্লব, পাখপাখালির সুর মুর্চ্ছনা, সুন্দর নির্মল আকাশ।

এই টুকুনই সামান্য স্বস্তি। ভেতরে তীব্র অন্তর্জ্বালা, প্রগাঢ় দহন আর গভীর মনোবেদনায় আজ আক্রান্ত মানবহৃদয়। চরম হতাশা আর দুশ্চিন্তায় মানুষ আজ জর্জরিত। কী করবে, কীভাবে বেঁচে থাকবে একটু স্বস্তিতে। গ্রীষ্মের দাবদাহে মানুষ যখন পুড়ছে তখন ব্যাপক আয়োজনে বর্ষার এই ঝুম ঝুম বৃষ্টির বরণডালা অনেক আগেই মনে করিয়ে দিয়েছে বর্ষাতো এসেই গেছে। বর্ষার সতেজ বাতাসে জুঁই, কামিনি, বেলি, রজনীগন্ধা, দোলনচাঁপা আরো কত ফুলের সুবাস। লেবু পাতার বনেও যেন অন্য আয়োজন। উপচে পড়া পদ্মপুকুর রঙিন হয়ে ফোটে বর্ষাকে পাওয়ার জন্য। কেয়ার বনেও কেতকীর মাতামাতি। বর্ষার প্রথম মাস আষাঢ়ের অগ্রদূত কদম ফুল। যেন কদম ফুল আষাঢ়কে স্বাগত জানায়। বর্ষার আগেই গাছে গাছে কদম ফুল ফুটেছে। বর্ষার নতুন জলে স্নান সেরে প্রকৃতির মনও যেন নেচে ওঠে। এই দুর্যোগকালে কেবল একটি আকুতি, আমরা যেন এই মহামারীর করাল থাবা থেকে মুক্তি পাই, আমরা যেন হতাশা আর মনোবেদনা কাটিয়ে আমাদের স্বাভাবিক জীবনধারা যেন আবার ফিরে পাই।

 

 

The Post Viewed By: 208 People

সম্পর্কিত পোস্ট