চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

পাহাড়ে মৌসুমী ফলের বাম্পার ফলন

৫ জুন, ২০২০ | ১১:২০ অপরাহ্ণ

রাঙামাটি সংবাদদাতা

পাহাড়ে মৌসুমী ফলের বাম্পার ফলন

পার্বত্য রাঙামাটিতে এবার আম, কাঁঠাল, লিচু ও আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রভাবে দাম নাগালে থাকায় স্থানীয় ক্রেতারাও বেশ খুশি। প্রতিবারের মতো জেলার চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে চালান হচ্ছে এসব মৌসুমী ফল।

ব্যতিক্রম হলো, করোনাভাইরাসের কারণে অন্য সময়ের মত ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে মৌসুমী ফল সংগ্রহ করেনি। চাষিরা বাগান থেকে ফল সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারে তোলার পর ব্যবসায়ীরা কিনে নিচ্ছে। এ কারণে শহরের কাঁচামালের ভাসমান হাট খ্যাত ট্রাক টার্মিনাল ও সমতা ঘাটে শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের আনাগোনা বেড়ে গেছে।
রাঙামাটির স্থানীয় লিচু ও আম বাগানের মালিক বৌদ্ধ রঞ্জন চাকমা জানিয়েছেন, গত মৌসুমের চেয়ে এবার লিচু ও আম অনেক ভাল ফলন হয়েছে। লকডাউনের জন্য যানবাহন ও নৌ-পথের লঞ্চ ও বোট না চলাতে এতদিন মৌসুমী ফলের দাম পাইনি। গত ১ জুন থেকে যানবাহন চালু হওয়াতে মৌসুমী ফলের দাম ভাল পাওয়া যাচ্ছে। এতে ফল চাষিরাও খুশি। দীর্ঘ দিন সাধারণ ছুটি থাকায় এবার আনারস বিক্রিতে চাষিদের আশানুরূপ লাভ হয়নি বলেও যোগ করেন তিনি।
স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ জেলার বাইরে থেকে আসা কিছু অসাধু ব্যবসায়ী রয়েছে তারা উপজাতিদের কাছ থেকে কম-দামে লিচু ও আম কিনে বনরুপা বাজার, রির্জাভ বাজার ও কলেজ গেট এলাকায় বেশি দামে বিক্রি করছে। হঠাৎ জুড়ে বসা এইসব ব্যবসায়ীর কারণে স্থানীয় ক্রেতারা যেমন ঠকছে, তেমনি করোনা ছড়ানোর আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে। কারণ তারা স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। স্থানীয় বাজারে প্রতি’শ লিচু ১ শ টাকা থেকে আড়াই’শ টাকায় ও প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১ শ টাকা দরে।
রাঙামাটি জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পবন কুমার চাকমা বলেন, গতবারের চেয়ে এবার লিচু ও আমের ফলন ভাল হয়েছে। এ মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ হাজার ৮’শ ৮২ হেক্টর বাগানে লিচু ও ৩ হাজার ৩’শ ৭০হেক্টর বাগানে আমের চাষ করা হয়েছে। প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে উৎপাদন ৯ মেট্রিক টন লিচু এবং প্রতি হেক্টর জমিতে ১৫ মেট্রিক টন আম। এতে মৌসুমী ফল চাষিরা এবার কমবেশি আড়াই কোটি টাকার লিচু ও আম বিক্রি করবে বলে আমাদের ধারণা। করোনাভাইরাসের জন্য সাধারণ ছুটির কারণে চাষিরা কাঁঠাল ও আনারসে তেমন লাভবান না হলেও আম আর লিচুতে তা পুষিয়ে নিতে পারবে।
তিনি আরো বলেন, মৌসুমী ফল নিয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রদর্শনী হয়। ওইসব প্রদর্শনীতে কৃষি বিভাগ চাষিদের ভাল ফলনের জন্য পুরস্কৃত করে থাকে। এছাড়াও মৌসুমী ফল চাষীদের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গাছের ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় দমন ও ফলন বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তাসহ বীজ, সার ও কীটনাশক দিয়ে সহযোগিতা করে বলে যোগ করেন এ কর্মকর্তা।

পূর্বকোণ/আরআর

The Post Viewed By: 197 People

সম্পর্কিত পোস্ট