চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২০

মুমিনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে না

২৩ মার্চ, ২০২০ | ৬:৪২ অপরাহ্ণ

মুফতি মুহাম্মদ মর্তুজা

মুমিনের আতঙ্ক সৃষ্টি করে না

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে গোটা বিশ্ব শঙ্কিত। অনিশ্চয়তা ও দুর্ভাবনা প্রতিটি মানুষকে ঘিরে ধরেছে। মানুষের এই ভয়কে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু মানুষ নিজেদের ফায়দা লোটার পাঁয়তারায় ব্যস্ত। মানুষকে জিম্মি করে কেউ চাইছেন অধিক মুনাফা অর্জন করতে। আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়িয়ে কেউ চেষ্টা করছেন জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে। প্রযুক্তি এখন সবার হাতের মুঠোয়, কেউ কেউ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে নানা আজব ভিডিও বানিয়ে টাকা উপার্জন ধান্দা করছেন। কেউ আবার এই ভীতিকর পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে তাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নে লিপ্ত।

এ ধরনের কাজে জাতির ও নিজের কোনো কল্যাণ নেই। একজন মুসলিম কল্যাণহীন কোনো কাজে লিপ্ত হতে পারে না। বরং যে কাজে নিজের ও সমাজের কোনো ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে, একজন মুসলিমের দায়িত্ব তা থেকে অবশ্যই বিরত থাকা। বর্তমানে অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়াচ্ছে। গুজব মানেই ভিত্তিহীন

কথার প্রচার। তা মানুষকে হাসানোর জন্য হোক বা মানুষের ভেতর ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য হোক। ইসলাম কোনো অবস্থায়ই গুজব ছড়ানোকে সমর্থন করে না। এগুলো মুনাফিকদের কাজ।

আল্লাতায়ালা বলেন, ‘যদি তারা তোমাদের সঙ্গে বের হতো, তবে শুধু বিভ্রান্তিই বৃদ্ধি পেত। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য তারা তোমাদের ভেতর ছোটাছুটি করত। তোমাদের ভেতর তাদের কথা শোনার (বিশ্বাস করার) লোক রয়েছে। আল্লাহ অত্যাচারীদের সম্পর্কে অবগত আছেন।’ (সুরা : তাওবা, আয়াত : ৪৭)। রাসুল (সা.) বলেন, ‘মুনাফিকের আলামত তিনটি : ১. যখন সে কথা বলে মিথ্যা বলে, ২. ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, ৩. আর যখন তার কাছে আমানত রাখা হয়, সে খেয়ানত করে।’ (বুখারি, হাদিস : ৩৩)

অনেকের মধ্যে নিজের বিশ্বাস প্রচারের প্রবণতা দেখা যায়, যারা প্রচারিত কোনো সংবাদ নিজের মতো, মতবাদ ও দৃষ্টিভঙ্গির অনুকূল হলে যাচাইয়ের প্রয়োজন বোধ করে না। পাওয়া মাত্রই প্রচার শুরু করে। ইসলাম এই প্রবণতা পরিহারের নির্দেশ দিয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সব শোনা কথা প্রচার ব্যক্তির মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য যথেষ্ট।’ (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস : ৪৯৯২)

হাদিসবিশারদরা এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন, কোনো কথা শুনেই প্রচারের প্রবণতা মিথ্যায় লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ায়। ফলে সে পৃথিবীতে লজ্জিত হয় এবং পরকালেও তার জন্য রয়েছে শাস্তির বিধান। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন আজব ভিডিও দেখে কিয়ামত চলে এসেছে, দাজ্জাল চলে এসেছে, আকাশে দাজ্জাল দেখা গেছে, ২০২০ সালেই ইমাম মাহাদি চলে আসবে, এসব ভিডিও শেয়ার করা থেকে বিরত থাকা উচিত। অনেকে আবার ম্যাসেঞ্জারে এক অডিও ক্লিপ ছড়াচ্ছেন, যেখানে শোনা যাচ্ছে একজন লোক তার ছেলেকে সতর্ক করে বলছে তার হাসপাতালে অনেক লোক করোনায় মারা গেছে। এভাবে জনমনে আতঙ্ক ছড়ানো ইসলাম সমর্থন করে না। আমাদের উচিত স্বাভাবিক পরিস্থিতির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া। এভাবে মিথ্যা ছড়ালে আল্লাহ অসন্তুষ্ট হবেন।

মহান আল্লাহ যাচাই-বাছাই না করে কোনো খবর ছড়ানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের কাছে যদি কোনো ফাসেক ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসে, তবে তা যাচাই করো। অজ্ঞতাবশত কোনো গোষ্ঠীকে আক্রান্ত করার আগেই, (না হলে) তোমরা কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হবে।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ৬)।

অন্য আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যে বিষয়ে তোমার কোনো জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয়ই কান, চোখ, অন্তরের প্রতিটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৬)। তাই যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে করোনাবিষয়ক বিভিন্ন অমূলক টিপস দিচ্ছেন (যে ব্যাপারে তারা নিজেই কোনো স্বচ্ছ জ্ঞান রাখেন না) এবং যারা রাজনীতি করছেন তারা কোরআন-বিরোধী কাজে লিপ্ত।

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

The Post Viewed By: 102 People

সম্পর্কিত পোস্ট