চট্টগ্রাম সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

পর্ব-২১ # প্রশিক্ষণের শেষ দিন

৩ জুলাই, ২০২০ | ২:২৬ অপরাহ্ণ

মো.ফারুক ইসলাম

পর্ব-২১ # প্রশিক্ষণের শেষ দিন

সকাল নয়টায় আমরা ইউপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে এসে পৌঁছলাম। আজ এই ক্যাম্পাসে আমাদের শেষ দিন। তার মানে প্রশিক্ষণের সমাপ্তির পরপরই আমরা ইউপি ক্যাম্পাস থেকে বিদায় নিবো। বেনটিজ হলের প্রশিক্ষণ কক্ষে সবাই সমবেত হয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। আজকের দিনটা অন্যদিনের চেয়ে একটু ভিন্নভাবে কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

সকালের প্রথম সেশনটা শুরু হলো মাগানডাং ওমাপা (সুপ্রভাত) দিয়ে। কলেজ অব এডুকেশনের ডিন ডক্টর জেরোম বুয়েজ ভায়েজ হাসিমুখে সবাইকে সুপ্রভাত জানালেন। আমরা যেহেতু প্রথম দিনই এই শব্দটার সাথে পরিচিত হয়েছি তাই আমরা প্রতি উত্তরে সুপ্রভাত বললাম। ড.  জেরোম বুয়েজ ভায়েজ আমাদের আজকের দিনের বিভিন্ন সেশন সম্পর্কে জানালেন। সেসাথে লাঞ্চের পর প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান হবে বলেও জানান। এবার মনটা ভারাক্রান্ত হয়ে গেলো। কারণ ইউপি বিশ্ববিদ্যালয়ের চেনা মুখগুলো কয়েক ঘণ্টা পর আর দেখবো না। শুনবো না প্রফেসরদের কোন লেকচার। তবে বাস্তবতা তো মেনে নিতে হবে। কারণ সময় আর স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। আমাদের সাতদিনের সফরের আজ চতুর্থ দিন শেষ হতে চললো। তাই বাংলাদেশ আস্তে আস্তে হাতছানি দিচ্ছে ফিরে যেতে। প্রিয় মাতৃভূমির টান খুব অনুভব করছিলাম। যেখানেই যাই না কেন আমার প্রিয় মাতৃভূমির তুলনা কোন দেশের সাথে হবে না।

কলেজ অব এডুকেশনের ডিনের বক্তব্য শেষে আমাদের প্রশিক্ষণের প্রথম সেশন আরম্ভ হলো। নন-ফরমাল এডুকেশন এরিয়া নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন প্রফেসর মারিয়া মার্সিডিজ আরজাডন। তিনি ফিলিপাইনের নন-ফরমাল এডুকেশন নিয়ে দেড় ঘণ্টার একটা সেশন পরিচালনা করলেন। সে সাথে ফিলিপাইনের সংবিধানে শিক্ষা ব্যবস্থার অনুচ্ছেদ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করলেন। সকাল এগারোটায় প্রফেসর মারিয়া মার্সিডিজের সেশন শেষ হলো। চারদিনের মধ্যে শুধু লেকচার আর লেকচার শুনতে শুনতে হাফিয়ে উঠেছিলাম। আজকের পর্বেও শুরুতেই বলেছি, শেষ দিনটা ব্যতিক্রমভাবে কাটাবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। পরবর্তী সেশন শুরু হওয়ার আগে মাইক্রোফোনটা হাতে নিয়ে শুরু করলাম গান।পর্ব-২১ # প্রশিক্ষণের শেষ দিন

প্রশিক্ষণের ফাঁকে ফাঁকে একটু বিনোদন না হলে হয় না। আমার সাথে যোগ দিলেন বাকিরাও। এমনকি আমাদের টিম লিডার প্রিয় বাহারুল ইসলাম স্যার এবং ফারুক আলম স্যার। দেশাত্ববোধক গান গেয়ে সবাই প্রশিক্ষণ হল সরব করে তুললাম। ইউপি’র প্রফেসরগণ খুব মজা পাচ্ছিলেন। আমাদের পরিবেশনা দেখে ওনারা হাততালি দিয়ে উৎসাহ জোগাচ্ছিলেন। সর্বশেষ পরিবেশনা ছিলো বিশ্ব সংগীত “আমরা করবো জয়”। এই গানটা বিশ্ব সংগীত হওয়ার কারণে সবার কাছে পরিচিত এবং খুবই জনপ্রিয়। এবার ইউপি’র সবাই যোগ দিলেন আমাদের সাথে। অনেক মজা হচ্ছিল তখন। হাত নেড়ে, শরীর দুলিয়ে সবাই সমবেত কণ্ঠে গাইতে লাগলাম “ উই শেল ওভার কাম”। মনে হচ্ছিল ভেতর থেকে মকেউ একজন বলছিল পেছনে পড়ে থাকা মানে পিছিয়ে পড়া। তাই এভাবেই সামনে আগাতে হবে শত প্রতিকূলতা ডিঙ্গিয়ে। আসলে তাই শত প্রতিকূলতা পেরিয়েই তো আজ এই পর্যায়ে আসা। জীবনটাকে উপভোগ করতে হবে সফলতার মধ্য দিয়ে। ১৫/২০ মিনিটের বিনোদন শেষে ড.  জোয়েল সি. জেভেনিয়ার হাসিমুখে আমাকে বললেন, ‘‘দারুণ গেয়েছেন। আপনি তো ভালো গান করেন। শুভ কামনা।’’

দ্বিতীয় সেশন শুরু করলেন ড. জোয়েল এস. জেভেনিয়ার। তাঁর বিষয় ছিলো স্কুল ম্যানেজমেন্ট ইন এলিমেন্টারি স্কুল। ওনার ক্লাসের প্রতিটা পর্ব মনোযোগ সহকারে শুনছিলাম। ফিলিপাইনের শিক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তিনি খুব সুন্দর করে উপস্থাপন করছিলেন। হাসোজ্জ্বল চেহারায় স্যার আমাদের সাথে আলোচনায় অংশ নিচ্ছিলেন। খুব উপভোগ করছিলাম স্যারের সেশনটা।

পরবর্তী সেশনে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সুপারভিশন নিয়ে আলোচনা শুরু করলেন। কিভাবে একটা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হয়, শিখন শেখানো কার্যক্রম কিভাবে পরিচালিত হয় এসব বিষয়ে খুঁটিনাটি তিনি আমাদের সামনে তুলে ধরলেন। আমাদের দেশে প্রধান শিক্ষকদের লিডারশিপ প্রশিক্ষণের মতোই এই সেশনটা। এই সেশনের মাধ্যমে আমরা ফিলিপাইনের প্রাতিষ্ঠানিক সুপারভিশন সম্পর্কে ধারণা লাভ করলাম। দুপুর একটায় ড. জোয়েল জেভেনিয়ারের সেশন শেষ হলো। এবার লাঞ্চ ব্রেক। প্রজেক্ট এসিসটেন্ট জেসন অর্নিডো, আন্না কারিনা এস. বাতিস্তা এবং ড. জোয়েল জেভেনিয়ার স্যারসহ আমরা রেস্টুরেন্টে দুপুরের খাবার খেতে বের হলাম। (চলবে)

 

 

পূর্বকোণ/এএ

The Post Viewed By: 223 People

সম্পর্কিত পোস্ট