চট্টগ্রাম শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০২০

৩০ জুন, ২০২০ | ১২:২৯ অপরাহ্ণ

মো. ফারুক ইসলাম

পর্ব-১৮ঃ নিউ এরা ইউনিভার্সিটি ভ্রমণ

বিকাল চারটার দিকে আমরা নিউ এরা ইউনিভার্সিটির উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম। এবার কিছুটা ক্লান্তিবোধ করছিলাম। কারণ আমাদের প্রতিদিনের জার্নি শুরু হয় সকালে। রাতে হোটেলে ফিরে ঘুমাতে ঘুমাতে রাত ১ টা, দেড়টার কম হয় না। তাই ঘুমের ব্যাঘাত হচ্ছিল। যতই ক্লান্তি চেপে ধরুক না কেন, আমরা ক্লান্তিকে পরাহত করে অবিরাম ছুটছিলাম। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করে একটু বিশ্রাম নেয়ার চেষ্টা করছিলাম। আবার কিছুটা সময়ের জন্য ঘুমিয়েও পড়তাম। সাড়ে চারটার দিকে আমরা নিউ এরা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসে পৌঁছলাম। এটি ফিলিপাইনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। এটিকে অসাম্প্রদায়িক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। গাড়ি থেকে নেমে মূল ক্যাম্পাসটা দেখছিলাম। সুন্দর আর আকর্ষণীয় ক্যাম্পাস। নিউ এরা ইউনিভার্সিটি সম্পর্কে পরবর্তী পর্বে বিস্তারিত আলোচনা করবো। এদিকে, আমাদের জন্য ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তারা অপেক্ষা করছিলেন। অভ্যর্থনা পর্ব শেষে ছোট একটা রুমে আমাদের বসতে দেয়া হলো। আলোচনা শুরু করার আগে আমাদের ফটোসেশন চলছিল। যথারীতি ফটোগ্রাফারের কাজটা আমার কাঁধে। সবার ছবি তোলার পর্ব শেষে আমরা আলোচনায় অংশ নিলাম। ইউনিভার্সিটির কর্মকর্তারা একে একে সবার পরিচয় তুলে ধরলেন। আমরাও নিজেদের পরিচিতি পর্ব শেষ করলাম। আলোচনায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের ধারণা দিলেন। পরবর্তীতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের নিয়ে কাজ করা একজন শিক্ষক তার উপস্থাপনার মাধ্যমে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা সম্পর্কে আমাদের সামনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরলেন। আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে পোঁছলাম তখন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ। তাই মূল ক্যাম্পাসের সবকিছু ঘুরে ঘুরে দেখা আমাদের পক্ষে সম্ভব হয়নি। বাহির থেকে যতটুকু দেখার ততটুকুই দেখেছি। অনেকেই ক্যাম্পাসের বাইরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলে দুধের স্বাদ ঘোলে মিটিয়েছেন।

এরপরও তো ক্যাম্পাসের স্মৃতি থাকলো মনকে এইটুকু সান্ত্বনা দেয়া ছাড়া আর কোন কাজ ছিলো না। সন্ধ্যা নামছে। ফিলিপাইনের আকাশটা আলো আঁধারিতে ঢেকে যাচ্ছিল। এবার ফেরার পালা। ফেরার আগে পার্শ্ববর্তী রেস্টুরেন্ট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমাদের আপ্যায়ন করা হলো। আপ্যায়ন পর্ব শেষে ফেরার মুহূর্তে পরিচয় হলো ব্রাইন সরকার(নরেশ) নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তার সাথে। পরিচিত হতে গিয়ে তিনি আমাকে বললেন, বাংলাদেশের মানুষের প্রতি তার অসম্ভব শ্রদ্ধা কাজ করে। কারণ তার বাবার বাড়ি বাংলাদেশে। ঢাকায় তার পিতৃ নিবাস। অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ওনার বাবা এখন কোথায়? তিনি বললেন, তার বাবা বর্তমানে ফিলিপাইনে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন। অনেক আগেই তিনি বাংলাদেশ থেকে ফিলিপাইনে এসে স্থায়ী বসতি গড়েছেন। বাংলাদেশে কখনো আসা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে বললেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে তার বাবার মুখ থেকে অনেক কিছুই জেনেছেন। কিন্তু বাংলাদেশে কোন সময় যাওয়া হয়নি। তবে সুযোগ হলে কোন এক সময় পিতার দেশটা দেখবেন বলে আশা পোষণ করে আছেন মনে। আসার সময় ওনার ই-মেইল আইডিটা দিয়ে বললেন, ওনি ফেসবুক ব্যবহার করেন না। তাই যোগাযোগের জন্য মেইল আইডি দিলেন। গত কিছুদিন আগে ওনার মেইলে ওনার সাথে তোলা কিছু ছবি পাঠিয়েছিলাম। তবে তার কাছ থেকে ফিরতি কোন মেইল পাইনি। সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে গাড়িতে উঠে পড়লাম। এবার যাত্রা শপিংমলে। প্রতিদিনই ফাঁকে ফাঁকে আমাদের শপিং চলে। সবাই কিছু কিছু কেনাকাটা করলাম। যেহেতু তিনদিন শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাই হাতে সময় থাকতে কেনাকাটার কাজটাও সেরে ফেললাম। কেনাকাটার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় শপিংমলের সুপার শপগুলোতে ঢুকলে। জিনিসপত্র বাছাই করে যখন বিল পেমেন্ট করতে আসতাম ট্রলি নিয়ে তখন দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকাটা ছিলো বিরক্তিকর। এই একটি কারণ ছাড়া শপিংমলের বাকি কাজগুলোতে ঝামেলা পোহাতে হয়নি। বরং যেখানেই গেছি নির্বিঘ্নে শপিং করেছি। যেহেতু ম্যানিলার নামকরা শপিংমলগুলোতে আমাদেরও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তাই শপিংয়ের পাশাপাশি একেকটা শপিংমলও দেখার সুযোগ হচ্ছিল। আমরা শপিংমল থেকে যখন বের হলাম তখন রাত নয়টা। হোটেলে ফিরতে ফিরতে দশটা বেজে গেছে। সারাদিনের জার্নি শেষে মনে হলো এবার একটু স্বস্তি। এবার ফ্রেশ হয়ে ঘুমিয়ে পড়া আর পরবর্তী সকালের জন্য অপেক্ষা করা।
পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 380 People

সম্পর্কিত পোস্ট