চট্টগ্রাম বুধবার, ০২ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

১ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

পূর্বকোণ স্পোর্টস ডেস্ক

অভিষেক রাঙিয়েও সাদমানের আক্ষেপ

অগ্রহায়ণের মাঝামাঝি সময়। রয়েছে শীতের আমেজ। দিনের রোদটা তাই একটু আমুদেই। কেমন যেন ঘোর লেগে যায়। ঘোর লাগা ওই ভাবের মাঝেই হোম অব ক্রিকেটে অনিন্দ্য সুন্দর সব শটের পসরা নিয়ে বসেছিলেন সাদমান। প্রথম বল থেকেই টেস্ট মেজাজে খেলতে থাকা এই বাঁহাতি ওপেনার খেলছিলেন বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই। হাঁটছিলেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির পথেও। আর তা হলে ১০৮তম ক্রিকেটার ও চতুর্থ বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করার কীর্তি গড়তেন এই তরুণ বাঁহাতি ওপেনার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই সেঞ্চুরি আক্ষেপই হয়ে থাকল ২৪ বছর বয়সী এই ওপেনারের জন্য। ব্যক্তিগত ৭৬ রানে সাজঘরে ফিরেন সাদমান। ইনিংসের ৫৯তম ওভারে দেবেন্দ্র বিশুর করা পঞ্চম বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন সাদমান। আউট হওয়ার আগে ১৯৯ বল খেলে ছয়টি চারের মারে ৭৬ রান করেন বাঁহাতি এই ওপেনার। অভিষেক ইনিংসে হাফ সেঞ্চুরির স্বাদ পাওয়া ১৩তম বাংলাদেশি ক্রিকেটার সাদমান। তবে অভিষেক ইনিংসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় তিনি রয়েছেন সাত নম্বরে। অভিষেক ইনিংসে সর্বোচ্চ ১৪৫ রান আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। তার পরে রয়েছেন ১১৪ রান করা মোহাম্মদ আশরাফুল। এই তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন আবুল হাসান। তার রান ১১৩। ৮৫, ৮৪ ও ৭৮ রান নিয়ে এই তালিকার চতুর্থ-পঞ্চম-ষষ্ঠ স্থানে রয়েছেন যথাক্রমে জাভেদ ওমর, তামিম ইকবাল ও নাজিমউদ্দিন। ২৪ বছর বয়সী এই তরুণের ৭৬ রান অভিষেকে যেকোনো ওপেনারের সর্বোচ্চ। পাশাপাশি টেস্ট অভিষেকে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি বল (১৯৯ বল) খেলা ওপেনারও বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি সময় ব্যাট করা ওপেনারের তালিকায় সাদমান রয়েছেন তৃতীয় স্থানে। অভিষেক ইনিংসে তিনি খেলেছেন ২২০ মিনিট। সাদমানের চেয়ে বেশি সময় ধরে ব্যাট করা ওপেনারের তালিকায় জাভেদ ওমর রয়েছেন শীর্ষে। তিনি খেলেছেন ২৭৭ মিনিট। ২৬৩ মিনিট খেলে এই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন নাজিমউদ্দিন। চোখ আর মনকে প্রশান্তি দেওয়া সাদমানের সব ড্রাইভ ছড়িয়েছে সৌন্দর্যের ছটা, পুল শটে ফুটে উঠেছে শৌর্য। প্রতিটি শটই যেন প্রমাণ দিয়েছে সাহসিকতা ও কার্যকারিতার। শুরু থেকেই দেখে-শুনে খেলছিলেন সাদমান। উদ্বোধনী জুটিতে সৌম্যর সঙ্গে পাল্লা দিয়েই খেলছিলেন। সৌম্যর বিদায়ে অবশ্য ভাঙে ৪২ রানের উদ্বোধনী জুটি। ক্যারিবীয় বোলারদের দারুণভাবেই সামলেছেন এই বাঁহাতি ওপেনার। ছেড়েছেন অনেক বল, কাজে লাগিয়েছেন বাজে বলগুলো। সৌম্যর পর প্রথম সেশনে বিদায় নেন মুমিনুল হকও। দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে বেশ সতর্ক ছিলেন সাদমান। তবে সময় যেতেই বাজে বলগুলো থেকে রান বের করতে থাকেন তিনি। ১৪৭ বলে চার চারে স্পর্শ করেন হাফ সেঞ্চুরি। তৃতীয় উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ার পর বিদায় নেন সঙ্গী মোহাম্মদ মিথুন। মিথুনের বিদায়ের পরপরই প্রতিরোধ ভাঙে সাদমানের। দেবেন্দ্র বিশুর বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে সাজঘরে ফিরে যান সাদমান। আউট হওয়ার আগে ১৯৯ বলে ছয় চারে করেন ৭৬ রান। ইমরুল কায়েসের ইনজুরিতে উইন্ডিজের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে অভিষেক হলো সাদমানের। আর অভিষেক ম্যাচের অভিষেক ইনিংসেই সব আলো কেড়ে নিয়েছেন এর আগে অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে মাঠ কাঁপানো এই তরুণ। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৪২ ম্যাচে ৬৭ ইনিংসে তার ঝুলিতে রয়েছে ৪৬.৫০ গড়ে ৩ হাজার ২৩ রান।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 389 People

সম্পর্কিত পোস্ট