চট্টগ্রাম শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৩০ এপ্রিল, ২০১৯ | ২:৫৭ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

পেসার শামির স্ত্রী হাসিন জাহান গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তার হয়েল ভারতীয় ক্রিকেটার মুহম্মদ শামির স্ত্রী হাসিন জাহান। গত রবিবার রাতে ক্রিকেটার শামির উত্তরপ্রদেশের বাড়ি থেকে তাঁর স্ত্রী হাসিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঐদিন ক্রিকেটার শামির উত্তরপ্রদেশের আমরোহার পৈতিক বাড়িতে গিয়েছিলেন হাসিন। সেখানেই শামির পরিবারের সঙ্গে আগ্রাসী মেজাজে কথা কাটাকাটিতে জড়ান বলে অভিযোগ। শামির মায়ের সঙ্গেও দীর্ঘক্ষণ বচসা হয় বলেও অভিযোগ করেছে ক্রিকেটারের পরিবার। এরপরই শামির পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ জানানো হলে হাসিনকে গ্রেপ্তার করে আমরোহারের পুলিশ। জানা গেছে হাসিনের নামে শান্তিভঙ্গের অভিযোগ এনে চার্জশিট গঠন করেছে পুলিশ। ভারতীয় দ-বিধির ১৫১ ধারা অনুযায়ী হাসিন জাহানের নামে চার্জশিট গঠন করা হয়েছে। গতকালই তাঁকে আদালতে পেশ করা হয়। পরে জামিন পান হাসিন জাহান। এই মুহূর্তে আইপিএলে খেলার জন্য কিংস ইলেভেন পঞ্জাব শিবিরে রয়েছেন শামি। শামির অনুপস্থিতিতে তাঁর বাড়িতে ঢুকে অসভ্য আচরণকে প্রতিবেশীরাও ভালো চোখে দেখেনি। হাসিনের বিরুদ্ধে আমরোহাড শামির বাড়ির প্রতিবেশীরাও স্বাক্ষী দিয়েছে বলে জানা গেছে। হাসিনের পাল্টা দাবী প্রভাব খাটিয়ে তাঁকে পথে বসাচ্ছেন ক্রিকেটার। গতকাল বিকেলে আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর তিনি ফোন করেন তাঁর কলকাতার আইনজীবী অনির্বাণ গুহঠাকুরতাকে। তাঁকে গ্রেফতারির বিষয়ে সবিস্তার জানিয়েছেন তিনি। অনির্বাণ বলেন, ‘হাসিন উত্তরপ্রদেশের আমরোহায় শামির পৈত্রিক বাড়িতে গিয়েছিলেন চিকিৎসার প্রয়োজনে। রবিবার বিকেলেই সেখানে নিজের মেয়ে বেবো এবং মেয়ের আয়াকে নিয়ে আমরোহায় পৌঁছান তিনি।’ অনির্বাণকে হাসিন ফোনে জানিয়েছেন, শামির পৈত্রিক বাড়ির চত্বরেই একটি অংশ শামি এবং তিনি নিজেদের টাকায় বানিয়েছিলেন। সেই অংশের চাবিও তাঁর কাছেই রয়েছে। সেখানে তাঁর সমস্ত জিনিসপত্র গয়নাগাটিও রয়েছে। সেখানেই রবিবার সন্ধ্যায় ওঠেন হাসিন। আইনজীবীকে হাসিন জানিয়েছেন, ‘আমরা যাওয়ার পর থেকেই আমার শাশুড়ি আঞ্জুমারা এবং দেবর মুহম্মদ কায়েফ নানা রকম কথা বলতে শুরু করে চিৎকার করতে থাকেন। আমি প্রথমে কোনও পাত্তা দিইনি। আমি আমার মতো ঘরে ছিলাম। ওরা পুলিশে খবর দেয়। পুলিশও আসে। আমি পুলিশকে বুঝিয়ে বলি। ওরা চলে যায়।’ হাসিনের অভিযোগ, তখনকার মতো চলে গেলেও মাঝরাতে ফের হাজির হয় পুলিশ। রাত ১২টা নাগাদ পুলিশ দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করে। আমি দরজা খুলতেই বেশ কয়েক জন পুলিশকর্মী আমার ঘরে ঢুকে পড়েন। আমি নাইট গাউন পরা ছিলাম। ওই অবস্থাতেই আমাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে।’ হাসিনের অভিযোগ, অনেক অনুনয়ের পর পুলিশ পোশাক বদলাতে দেয়। কিন্তু বার বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তাঁর শিশুকন্যা এবং আয়াকে ঘুম থেকে তুলে ডিডৌলি থানাতে নিয়ে আসে পুলিশ। হাসিনের অভিযোগ, থানা থেকে তাঁদের নিয়ে যাওয়া হয় স্থানীয় একটি হাসপাতালে। সেখানে একটি নোংরা ঘরে রাখা হয় সবাইকে। রাতভর মশার কামড় খেতে হয় তাঁর শিশুকন্যাকে।
বিকেলে মহকুমা আদালত থেকে জামিন পান হাসিন। কিন্তু অভিযোগ, ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশকে তাঁদের সবাইকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিলেও, পুলিশ হুমকি দেয় ওই বাড়িতে না যেতে। হাসিন জানিয়েছেন, ‘পুলিশ আমাকে এবং আমার গাড়ির চালককে হুমকি দিচ্ছে।’ হাসিনের অভিযোগ, তাঁর শ্বশুড়বাড়ির লোকজন প্রভাব খাটিয়ে পুলিশকে দিয়ে তাঁর নিজের বাড়িতে ঢুকতে দিচ্ছেন না। তিনি এ নিয়ে আদালতে যাবেন বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 730 People

সম্পর্কিত পোস্ট