চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

২৯ এপ্রিল, ২০১৯ | ১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব ক্রীড়া প্রতিবেদক

ইস্পাহানি প্রিমিয়ার ক্রিকেটে রানার্স আপ পাইরেটস

নতুন চ্যাম্পিয়ন বন্দর

ফুটবলের ব্যর্থতা ক্রিকেট দিয়ে ঢাকলো অফিস দল চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি। এবারের ইস্পাহানি প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট তারা চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। রানার্স আপ হয়েছে নবাগত পাইরেটস অব চিটাগাং। গতকাল এ লিগের খেলা শেষ হলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি ও পাইরেটস অব চিাটাগাং দলের পয়েন্ট সমান (১১ খেলায় ৯ জয়ে ২৭) হয়ে যায়। কিন্তু শিরোপার ক্ষেত্রে দু-দলের নিয়মানুসারে দু-দলের খেলায় যারা জিতেছে তাদেরকেই এগিয়ে রাখার সুবাদে বন্দর কর্তৃপক্ষ ক্রীড়া সমিতি চ্যাম্পিয়ন ও পাইরেটস অব চিটাগাং রানার্স আপ হয়। উল্লেখ্য গেল বছর ফুটবলে দলটি রেলিগেটেড হতে হতে কোনমতে ভাগ্যের জোরে বেঁচে যায়। ফুটবলের ইতিহাসে সীমাহীন এ ব্যর্থতা যত তাড়াতাড়ি ভোলা যায় ততই মঙ্গল। গতকাল তারা সেরকম একটা উপলক্ষ পেয়ে যায়। এ লিগে নিজেদের শেষ ম্যাচে গতকাল এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় তারা ইতিমধ্যে রেলিগেটেড হওয়া শতদল ক্লাবকে ১৪০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এ উপলক্ষ খুজে পায়। একই দিনে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের খেলায় সিটি কর্পোরেশন একাদশ ৯ উইকেটের শোচনীয় ব্যবধানে এফএমসি স্পোর্টসকে হারিয়েছে। সংক্ষিপ্ত স্কোর: বন্দর: ২৫৭/১০/৪৮.৫ ওভার ও শতদল ক্লাব: ১১৭/১০/৩০/১ ওভার এবং এফএমসি: ১২৫/১০/৪৩ ওভার ও সিটি কর্পোরেশন: ১২৬/১/২৬.৫ ওভার। বন্দরের ইনিংসে অল্পের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন ৯৪ রান করা সাদিকুর রহমান।তিনি ১০টি চার ও ২টি ছক্কার মার মারেন। ্এছাড়া নুরুল হাসান ৫২ (৬চার), আল আমিন ২৪, তন্ময় পাটোয়ারী ২২ ও রুবেল ১৫ রান করেন। অতিরিক্ত খাতে ১৯ রান যোগ হয়। শতদলের মিনহাজুল আফ্রিদি ৩০ রানে ৩টি, জায়েদ ৫০ রানে ২টি এবং ফয়সাল ৪৮, সাকিব ৪২ ও শওকত ৩৫ রানে ১টি করে উইকেট নেন। জবাবে আল আমিন ১৬ রানে ৪টি ও ইফতেকার সাজ্জাদ ৩৩ রানে ৩টি উইকেট নিলে ৩০.১ ওভারে ১১৭ রানে গুটিয়ে যায় শতদল ক্লাবের ইনিংস। অন্যান্যের মধ্যে রুবেল হোসেন ১৬ রানে ২টি ও বেলাল ১০ রানে ১ উইকেট নেন।
অপর ম্যাচে মাত্র ১২৫ রানে অল-আউট হওয়া ম্যাচে এফএমসি’র হয়ে ইমরুল করিম ৪৫, রতন ২০, আরমান ১৫, ইয়াছিন ১৪ ও খাইরুল ১১ রান করেন। সিটি কর্পোরেশনের হারুন ২১ রানে ৪টি, মনজু ১১ রানে ২টি, রনি ১৯ রানে ২টি এবং শহীদ ৩৭ রানে ১ উইকেট নেন। সিটি কর্পোরেশন সহজ জয়ের লক্ষ্যে যাওয়ার পথে আশরাফুলের অপ: ৫২ ও মাহিদুলের অপ ২০ রান মোটামুটি যথেস্ট ছিল। এর মাঝে আউট হওয়ার আগে ৪৫ রানের এক ইনিংস খেলে যান মইনুল। এফএমসি’র সাইফুল ১৯ রানে ১ উইকেট নেন।
এদিকে প্রিমিয়ার ক্রিকেটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বন্দর দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে নিরলস পরিশ্রম করেছেন কোচ রাশেদ খান ও ম্যানেজার কুদরত-ই-খুদা মিল্লাত। দলের ক্রিকেট কমিটির সভাপতি কাজী মেরাজ উদ্দিন ও চীফ কোর্ডিনেটর সুলতান মাহামুদ খান শাহীন সব সময় দলের খবরা খবর নিয়েছেন। এছাড়া সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল জুলফিকার আজিজ এবং সহযোগিতায় ছিলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (এডমিন ও প্ল্যানিং) জাফর আলম। গতকাল খেলা শেষে প্রধান অতিথি চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সভাপতি আলহাজ আলী আব্বাস চ্যাম্পিয়ন এবং সিজেকেএস অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সৈয়দ শাহাবুদ্দিন শামীম রানার্স আপ ট্রফি বিতরণ করেন। এতে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন স্পন্সর ইস্পাহানি গ্রুপের জিএম শান্তুনু বিশ^াস ও সিজেকেএস যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল ইসলাম। সিজেকেস নির্বাহী সদস্য ও ক্রিকেট কমিটির সম্পাদক আব্দুল হান্নান আকবরের পরিচালনায় এ সময় অন্যান্যের মধ্যে সিজেকেএস নির্বাহী সদস্য আ.ন.ম ওয়াহিদ দুলাল, সিজেকেএস কাউন্সিলর ও ক্রিকেট কমিটির যুগ্ম সম্পাদক শওকত হোসাইন, সিজেকেএস কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন ও মো. এনামুল হক এবং পাইরেটস অব চিটাগাং এর স্বত্ত্বাধিকারী আহসান ইকবাল চৌধুরীসহ সংশ্লিস্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 389 People

সম্পর্কিত পোস্ট