চট্টগ্রাম বুধবার, ২০ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

২৮ নভেম্বর, ২০২০ | ১২:৪৩ অপরাহ্ণ

হুমায়ুন কবির কিরণ 

চিরঘুমে ফুটবলের মহানায়ক

যে কোন মৃত্যুই কষ্টের, দিয়াগো ম্যারাডোনার মতো বর্ণিল চরিত্রের একটি মানুষের চলে যাওয়া তাই পুরো বিশ্বের মানুষকে ব্যাথিত করেছে। এই পৃথিবী ছেড়ে ম্যারাডোনা পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন তিনদিন হলো, আজও চলছে শোকের মাতম, সেটা যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ায় যেমন, তেমনটি এই বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, তাঁর মাতৃভূমি আর্জেন্টিনাসহ পুরো বিশ্বে। যে কারণে গতকাল আর্জেন্টিনার বুয়েনস আয়ারসের বেল্লা ভিস্তা সমাধিক্ষেত্রে চিরঘুমের বন্দোবস্তের করুণ আয়োজনের আগে ভক্তরা জড়িয়েছেন মারামারিতে। বিষয় ছিল, ম্যারাডোনাকে কেউ যেতে দিতে রাজি নয়। তবু যেতে দিতে হয়, এটাই মহাকালের নিয়ম। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের ক্ষেত্রে এত সব যুক্তিতর্ক, নিয়মকানুন চলে! ম্যারাডোনার শেষ বিদায়ে ঢল নেমেছিল ভক্তদের। পড়েছিল কান্নার রোল। চোখের জলে ভিজেছেন সবাই। এর মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনার প্রেসিডেনশিয়াল প্যালেস কাসা রোসাদা থেকে সমাধিক্ষেত্র বেল্লা ভিস্তার দিকে যাত্রা করে ম্যারাডোনার কফিনবহনকারী গাড়ি। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে হয়েছে তাঁর শেষকৃত্য অনুষ্ঠান। এরপর সমাহিত করা হয় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তিকে। তার আগে বুয়েনস এইরেস শহরে সিটি স্কয়ার প্লাজা দে মায়ো থেকে সারি বেঁধে ম্যারাডোনাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে দাঁড়িয়ে যান ভক্তরা। তখন লোকে লোকারণ্য ছিল পুরো এলাকা। সাধারণ জনতার জন্য ম্যারাডোনাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। সবার আগে ম্যারাডোনাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠরা। এরপর জনতাকে সুযোগ দেওয়া হয়। তবে ততক্ষণে ঢল নামা ভক্তদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেয়েছে বুয়েনস আয়ারসের পুলিশ। হট্টগোল ও উত্তেজনা প্রশমনে প্রস্তুত ছিল দাঙ্গা পুলিশ।

গতকাল বাংলাদেশ সময় সকালে আর্জেন্টিনার বেল্লা ভিস্তায় সমাহিত করা হয় ফুটবলের মহানায়ককে। ম্যারাডোনার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত ছিলেন না ভক্তদের কেউ। পরিবার-পরিজন ও ঘনিষ্ঠ বন্ধু-বান্ধবরা পারিবারিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাকে চিরবিদায় জানিয়েছেন। পরিবার ও বন্ধুমহল থেকে সব মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ২৪ জন। শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে যোগ দেন দুই কন্যা ডালমা ও জিয়ান্নিনা এবং প্রথম স্ত্রী ও শৈশবের প্রিয়তমা ক্লদিয়া ভিল্লাফেন। তার আগে ১০ নম্বর জার্সি ও আর্জেন্টিনার পতাকায় মোড়ানো ম্যারাডোনার কফিনে ফুলেল শ্রদ্ধা জানানো হয় প্রেসিডেন্সিয়াল প্যালেসে।

পরশু রাত থেকেই বেল্লা ভিস্তা অভিমুখে ছিল শোকার্ত জনতার ঢল। লাখো লাখো মানুষ আর্জেন্টিনার রাজধানীতে সমবেত হয়েছিলেন ম্যারাডোনাকে বিদায় জানাতে। করোনাভাইরাসের ভয় দূরে ঠেলে গণ জমায়েতে সামিল হয়ে অনুসারীরা চোখের জল, উড়ন্ত চুমু, প্রার্থনা ও ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন ১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ী মহাতারকাকে। আর্জেন্টিনার মতো শোকে মুষড়ে পড়েছে নেপলসও। ইতালির এই শহরের ক্লাব নাপোলিতে টানা ৭ বছর খেলেছেন ম্যারাডোনা। ইউরোপা লিগে রিয়েকার বিপক্ষে ম্যাচে নাপোলির খেলোয়াড়রা সবাই মাঠে নেমেছিলেন ম্যারাডোনার দশ নম্বর জার্সি গায়ে চাপিয়ে। ম্যারাডোনা ১৯৯১ সালে নাপোলি ছাড়ার পর থেকে তার সম্মানে দশ নম্বর জার্সিটি তুলে রেখেছে নাপোলি। এতোদিন পর সেই জার্সি ফিরল ম্যারাডোনার প্রয়াণে।

উল্লেখ্য. ৬০ বছর বয়সে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে গত বুধবার বাংলাদেশ সময় প্রায় মধ্যরাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন ম্যারাডোনা। দুই সপ্তাহ আগে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি।

পূর্বকোণ/এএ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 170 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট