চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

জয়ের ধারাতেই বাংলাদেশ

১০ মার্চ, ২০২০ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

স্পোর্টস ডেস্ক

টি-টোয়েন্টিতেও টাইগারদের রেকর্ড

জয়ের ধারাতেই বাংলাদেশ

সৌম্য সরকার, লিটন দাস ও তামিম ইকবাল, টাইগারদের এই ত্রয়ীর যে কোন একজনের ব্যাট হাসলেই হেসে উঠে পুরো বাংলাদেশ। তিনজনই যদি একই ম্যাচে জ্বলে উঠেন তাহলে প্রতিপক্ষের যে অবস্থা হওয়ার কথা গতকাল মিরপুরে ২ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে জিম্বাবুয়ের হলো তাই-ই। সুবাদে ৪৮ রানে জিতে ১-০ তে এগিয়ে গেলো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের বাংলাদেশ। উদ্বোধনী জুটিতে স্কোর বোর্ডে ৯২ রান যোগ করেন তামিম ও লিটন। ২০১৮ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিম-লিটনের ৭৪ রানের জুটিটাই এতদিন ছিল টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ জুটি। গতকাল সেটি ভাঙলেন সেই তামিম-লিটনই।
ম্যাচে উড়ন্ত সূচনার পর সাজঘরে ফেরেন দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল। ক্যাচ তুলে দেয়ার আগে ৩৩ বলে তিন চার ও দুই ছক্কায় ৪১ রান করেন তিনি। তামিম আউট হওয়ার পর ১৪ রানের ব্যবধানে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন অন্য ওপেনার লিটন। তার আগে ৩৯ বলে ৫টি চার ও তিন ছক্কায় ৫৯ রান করেন তিনি। তাদের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নেমে দ্রুত রান করতে গিয়ে বিপদে পড়েন মুশফিকুর রহিম। মাত্র আট বল খেলে ২ ছক্কায় ১৭ রান করে আউট হন জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক। তবে মুশফিক ফিরে গেলেও ব্যাটিং তা-ব অব্যাহত রাখেন সৌম্য সরকার। সম্প্রতি বিয়ে করেছেন তিনি। বিয়ের ছুটি কাটিয়ে দলে ফিরেই ব্যাটিংয়ে রীতিমতো ঝড় তুলেন সৌম্য। ইনিংসের শেষ দিকে একের পর এক বাউন্ডরি হাঁকিয়ে মাত্র ৩২ বলে দৃষ্টিনন্দন ৫টি ছক্কা ও চারটি চারের সাহায্যে অপরাজিত ৬২ রান করেন তিনি। তাতে করে ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার আগের রেকর্ডে ভাগ বসান সৌম্যের সাথে লিটন দাস ও তামিম ইকবাল। ২০১৮ সালে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। লিটন দাস ৫টি ও মুশফিকুর রহিমের ৪ ছক্কার মারে টাইগারদের এক ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড গড়তে সাহায্য করেছিলো ওই ম্যাচে। এতদিন ধরে সেটিই ছিল এককভাবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ম্যাচে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। গতকালও এক ডজন ছক্কা মেরেছে বাংলাদেশ। ভাগ বসিয়েছে নিজেদেরই রেকর্ডে। সুবাদে নির্ধারিত কুড়ি ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে টাইগারদের সংগ্রহ ছিল ২০০ রান। টি-টোয়েন্টির সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগাদের এটা দলীয় সর্বোচ্চ রান। তবে সবমিলিয়ে টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ। শ্রীলংকার বিপক্ষে ছক্কার রেকর্ডের সেই ম্যাচে কলম্বোয় স্বাগতিক লংকানদের করা ২১৪ রানের পাহাড় ডিঙাতে নেমে ২ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করেছিল মাহমুদউল্লাহ বাহিনী। একই বছর ঢাকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৪ উইকেটে ২১১ রান করেছিল টাইগাররা।
টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া জিম্বাবুয়ের লক্ষ্য ছিল ভাগ্য বদল। কিন্তু আমিনুল ইসলামের লেগ স্পিন আর মুস্তাফিজের গতিতে বিভ্রান্ত হয়ে ইনিংসের ৬ বল বাকি থাকতেই ১৫২ রানে অল-আউট হয় তারা। আমিনুল ও মুস্তাফিজ উভয়ে ৩টি করে উইকেট লাভ করেন। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ২৮ রানের ইনিংস খেলেন ওপেনার তিনাশে কামুনহুকামাওয়ে। এছাড়া সমান ২০ রান করে নেন শন উইলিয়ামস, রিচমন্ড মুতুম্বামি ও ডোনাল্ড তিরিপানো। শেষদিকে কার্ল মুম্বার ১৬ বলে ২৫ রানের ইনিংস শুধু রানের ব্যবধানটাই কমিয়েছে।

The Post Viewed By: 45 People

সম্পর্কিত পোস্ট