চট্টগ্রাম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

জিম্বাবুয়ের ম্যাচকে কঠিন করে সিরিজ জয় টাইগারদের

৪ মার্চ, ২০২০ | ২:৪৩ পূর্বাহ্ণ

হুমায়ুন কবির কিরণ

রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে ৪ রানে হার

জিম্বাবুয়ের ম্যাচকে কঠিন করে সিরিজ জয় টাইগারদের

৩২১ রানের জবাবে ১৫২ রানে অল-আউট হয়ে ১৬৯ রানে রেকর্ড ব্যবধানে প্রথম ওয়ানডেতে হার মেনেছিল অতিথি দল জিম্বাবুয়ে। গতকাল দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একই দলের বিরুদ্ধে তামিম ইকবালের ১৫৮ রানের বাংলাদেশ রেকর্ডের উপর ভর করে এবং দলগত স্কোরের (৩২২) রেকর্ড গড়েও টাইগাররা জিতলো মাত্র ৪ রানে। এক তিরিপানোই বাংলাদেশের সিরিজ জেতার ম্যাচটিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। লড়াই করেছে শেষ বল পর্যন্ত। শুধু কি লড়াই? আরেকটু হলে তো টাইগারদের হারিয়েই দিয়েছিল। শেষ ৪৮ বলে জিম্বাবুয়ের দরকার ছিল ৯৮ রান, হাতে মাত্র ৩ উইকেট। তখন পর্যন্ত তো হেসেখেলেই জেতার পথে বাংলাদেশ। কিন্তু পরের দিকে হঠাৎ স্বাগতিকদের মনে ঢুকে গেল ভয়। জিম্বাবুয়ের লোয়ার অর্ডারের ডোনাল্ড তিরিপানো আর তিনোতেন্দা মুতুমবজি যে চালিয়ে খেলে ম্যাচ প্রায় ঘুরিয়েই দিচ্ছিলেন! শেষ ওভারে দরকার ছিল ২০ রান, খুবই সম্ভব। আল আমিন হোসেন আসেন শেষ ওভারটি করতে, যিনি আবার ৯ ওভারে কোনো উইকেট না নিয়ে ৭০ রান দিয়ে বসেছিলেন আগে। ওভারের ৩য় ও ৪র্থ বলে ছক্কা হাঁকানো তিরিপানো হার মানেন আল আমিনের করা শেষ বলে, ছয়ের লক্ষে ব্যাট হাঁকিয়েও লং অফ থেকে নিতে পারেন ১টি রান, ৪ রানের জয়ে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

বড় লক্ষ্য অতিক্রমের লক্ষে জিম্বাবুয়ের হয়ে ইনিংস উদ্বোধনে নামেন তিনাশে কামুনহুকাময়ে ও রেগিস চাকাভা। চতুর্থ ওভারেই টাইগারদের প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন গতকালের ম্যাচে সুযোগ পাওয়া শফিউল ইসলাম। মাত্র ২ রান করে লিটন দাসের ক্যাচ হয়ে ফেরেন চাকাভা। শফিউলের ওভারেই দ্বিতীয় উইকেট হারায় সফরকারীরা। মেহেদী মিরাজের দুর্দান্ত এক থ্রো-তে ১১ রানে সাজঘরে ফেরেন ব্রেন্ডন টেইলর। ম্যাচে দলে ফেরা জিম্বাবুয়ে ক্যাপ্টেন শন উইলিয়ামসকে ১৪ রানের বেশি করতে দেননি মিরাজ। ক্রমেই ভয়ংকর হতে থাকা কামুনহুকাময়েকে বোল্ড করে টাইগারদের জয়ের পথ সুগম করেন তাইজুল ইসলাম। তবে এরপর ওয়েসলে মাধভেরে ও সিকান্দার রাজার জুটিতে ম্যাচে ফেরে জিম্বাবুয়ে। ৫৬ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি পূর্ণ করেন মাধভেরে। ৫২ রানে তাইজুলের বলে তিনি ফিরলে ভাঙে দু’জনের ৮১ রানের জুটি। এরপর ঝড় শুরু করেন রাজা। মাঝে ১৯ রানের ইনিংস খেলেন রিচমন্ড মুতুম্বামি। রাজার ব্যাটে জয়ের আশা বেশ ভালোভাবেই দেখছিল শন উইলিয়ামসের দল। কিন্তু ৫৭ বলে ৬৬ রানের ইনিংস খেলে মাশরাফির বলে আউট হন তিনি। এরপর টিনোনেন্দা মুতোম্বোদজি ও ডোনাল্ড তিরিপানোর ঝড়ে বেশ দ্রুত লক্ষ্য পূরণের কাছাকাছি যেতে থাকে জিম্বাবুয়ে। শেষ পর্যন্ত কাছে পৌছেও তরী ভেড়াতে পারেনি অতিথিরা। তিরিপানো মাত্র ২৮ বলে ৫৫ রান করেন।

এর আগে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে ৩২২ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ। প্রথম ওডিআইতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৩২১ যা জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টাইগারদের সর্বোচ্চ দলীয় রান ছিল। আর দ্বিতীয় ওয়ানডেতে সেই রেকর্ড টপকে টাইগারদের সংগ্রহ ৩২২। টস জিতে একাদশে দুই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচের একাদশ থেকে বাদ পড়েন অল রাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এবং মুস্তাফিজুর রহমান, তাদের বদলে দলে সুযোগ পান পেসার আল-আমিন এবং শফিউল ইসলাম। ম্যাচে প্রায় দু’বছর পর শতকের দেখা পান তামিম ইকবাল। আর শতক হাঁকিয়ে নিজেকে নিয়ে গেলেন অনন্য উচ্চতায়। বাংলাদেশের হয়ে এর আগে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান ছিল ১৫৪। অবশ্য সেই ইনিংসটিও ছিল তামিমের আর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই। আর নিজের রেকর্ড ভেঙে গতকাল বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রান করলেন ১৫৮। আউট হওয়ার আগে ২০টি চার আর ৩টি ছয়ে ১৩৬ বলে তামিম ইকবাল করেন ১৫৮ রান। মুশফিকুর রহিম ৫০ বলে ৫৫ রান করেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ডোনাল্ড তিরিপানো এবং কার্ল মুম্বা ২টি করে উইকেট নেন আর ১টি করে উইকেট নেন ওয়েসলি মাধেভেরে এবং চার্লটন শুমা।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 144 People

সম্পর্কিত পোস্ট