চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০

সর্বশেষ:

বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়

২ মার্চ, ২০২০ | ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

হুমায়ুৃন কবির কিরণ

অধিনায়ক মাশরাফির শততম উইকেট, লিটন দাসের সেঞ্চুরি

বাংলাদেশের রেকর্ড গড়া জয়

প্রায় দেড় বছর পর লিটন দাসের শতক, মাশরাফি বিন মুর্তজার অধিনায়ক হিসাবে শততম উইকেট লাভ-জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটিতে স্বাগতিকদের অর্জন আছে আরো একটি, গতকাল জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ১৬৯ রানের জয়টি টাইগারদের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগে সর্বোচ্চ ১৬৩ রানের ব্যবধানে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়েছিল টাইগাররা ঢাকায়। এরপর এই জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ১৪৫ রানে জিতেছিল বাংলাদেশ। লিটন দাসের ক্যারিয়ার সেরা অপরাজিত ১২৬ রানের সুবাদে টাইগাররা ৬ উইকেট হারিয়ে প্রতিপক্ষের সামনে ৩২২ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয়। জবাব দিতে নেমে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের প্রথম ১০ ওভারে ২৮ রান তুলতেই টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটসম্যানকে হারিয়ে ফেলে। পাঁচ নম্বরে নামা ব্রেন্ডন টেইলর মাত্র ৮ রান তুলতেই তাইজুল ইসলামের শিকার হলে ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় জিম্বাবুয়ে। এরপর সদ্য সমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে ডাক পাওয়া উইসলে মাদেভেরেকে সঙ্গে নিয়ে ৩৫ রানের জুটি গড়েন সিকান্দার রাজা। মিরাজের শিকার হওয়ার আগে ৪৪ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলেন ইয়াং ক্রিকেটার মাদেভেরে। এরপর মুস্তাফিজের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দিয়ে মাত্র ১৮ রানেই সাজঘরে ফিরেন সিকান্দার রাজা। মুতুম্বামি ১৭ রানেই রান আউটের শিকার হলে আর কাউকেই দাঁড়াতে দেয়নি টাইগার বোলাররা। বল হাতে ৭ ওভারে ২২ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। মেহেদী মিরাজ ও মাশরাফি নেন দুটি করে উইকেট। চামু চিবাবাকে ফিরিয়ে দীর্ঘ ৯ মাসের উইকেট খরা গুছান মাশরাফি বিন মুর্তজা। চাকাবাকে ফিরিয়ে অধিনায়ক হিসেবে মাশরাফি পূর্ণ করেন ৯৯ উইকেট। ৯৯ উইকেটে আটকে থাকা মাশরাফি জিম্বাবুয়ের শেষ উইকেট টিনোটেন্ডা মুতুমবদজিকে ফিরিয়ে পূর্ণ করেন ১০০তম উইকেট। অধিনায়ক হিসেবে ইমরান খান, ওয়াসিম আকরাম, শন পলক ও জেসন হোল্ডারের সঙ্গে এক কাতারে নাম লেখালেন টাইগার অধিনায়কও।

এর আগে, ব্যাট করতে নেমে উদ্বোধনী জুটিতে ধীর গতিতে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের প্রথম আঘাত আসে দলীয় ৬০ রানের মাথায়। ১২.৫ ওভারের মাথায় মাদেভেরে বলে এলবিডব্লিউ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তামিম ইকবালকে। আউট হওয়ার আগে ৪৩ বলে ২৪ রান করেন তিনি। পরে নাজমুল হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে বড় সংগ্রহের দিকেই এগিয়ে যেতে থাকেন লিটন কুমার দাস। কিন্তু বিতর্কিত আউট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয় শান্তকে। লিটন-শান্ত জুটি থেকে আসে ৮০ রান। শান্তর পর মুশফিকুর রহিমকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে থাকে বাংলাদেশ শিবির। কিন্তু লিটনকে খুব বেশি সময় দিতে পারেননি ডিপেন্ডেবল মুশফিক। যদিও এর মাঝে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিটন দাস। ১০৫ বলে ব্যক্তিগত ১২৬ রানের মাথায় আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়েন এই আলো ছড়ানো ব্যাটসম্যান। মিথুন-মাহমুদউল্লাহর ঝড়ো ইনিংস থেকেও আসে ৬৮ রান। এরমাঝেই ক্যারিয়ারের চতুর্থ অর্ধশতক পূর্ণ করেন মোহাম্মদ মিথুন। তবে এই ম্যাচের শেষ দিকে দর্শকদের আনন্দ দিয়েছেন দীর্ঘদিন পর জাতীয় দলে ফেরা সাইফউদ্দিন। ৩ ছক্কায় মাত্র ১৫ বলে ২৮ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি। গতকালের ম্যাচের সিঙ্গেল ডিজিট করা একমাত্র ব্যাটসম্যান মেহেদী হাসান মিরাজ। ৪ বলে তিনি করেন ৭ রান। জিম্বাবুয়ের হয়ে বল হাতে দুই উইকেট শিকার করেন এমপোফো।

The Post Viewed By: 196 People

সম্পর্কিত পোস্ট