চট্টগ্রাম শনিবার, ১৬ জানুয়ারি, ২০২১

৫ জানুয়ারি, ২০২০ | ২:৪৯ পূর্বাহ্ণ

এম.এম আহমদ মনির হ লোহাগাড়া

পাটি বুনে জীবন নির্বাহ কুঠির শিল্পীদের

লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পাটি বুননের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন কুটির শিল্পীরা। পুরুষদের পাশাপাশি পারিবারিক কাজের ফাঁকে-ফাঁকে পাটি বুনন কাজে সময় ব্যয় করছেন মহিলারা। বিশেষ করে উপজেলার চুনতি, কলাউজান, চরম্বা ও পুটিবিলা ইউনিয়নে পাটি বুননের কাজ চলে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, পাটি এক প্রকার কুটির শিল্প। সম্প্রতি আদারচর হিন্দুপাড়ায় পাটি তৈরির কাজে ব্যস্ত কয়েকজনের সাথে আলাপকালে তারা জানান, বহু আর্থিক দুঃখ-দৈন্যতায় জর্জরিত সংসারের ব্যয়ভার নির্বাহ বর্তমানে খুবই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। নানা প্রতিকূলতার মাঝে তারা আজও আদি পেশার সহিত জড়িত রয়েছে। এতে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে সংসারের ব্যয়ভার কোনমতে চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রতিকূল অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে পাটি তৈরি পেশায় জড়িত কুসুম রাণী নাথ জানান, প্রায় ১৫/১৬ বছর যাবত তার পরিবার এ পেশার সাথে জড়িত। পাটি বিক্রিতে যা উপার্জন হয় তা দিয়ে তার সংসারের ব্যয়ভার নির্বাহ হয়। সংসারের কাজের ফাঁকে-ফাঁকে পাটি বুননের কাজ চলে। একটি পাটি তৈরি করতে কতদিন সময় লাগে উপকরণসমূহ কিভাবে সংগ্রহ করা হয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, টেকসই সুন্দর ও নকশাযুক্ত একটি বড় পাটি তৈরি করতে তার কমপক্ষে ৭/৮ দিন সময় লাগে। পাটি তৈরির মূল উপকরণ হল একপ্রকার জলজ উদ্ভিদ। যাকে প্রচলিত ভাষায় পাটির জাং বলা হয়। বর্তমানে মৎস্য চাষের কারণে তাও বিলুপ্তির পথে। বিভিন্ন এলাকার জলাশয় বা পুকুর থেকে ক্রয় করে বাড়িতে এনে চিকন আঁশ করে তুলতে হয়।

এরপর রোদে শুকিয়ে বুনন কাজে ব্যবহার করা হয় ওইসব চিকন আঁশ। একটি পাটি তৈরির আয়-ব্যয় সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে জবাবে তিনি জানান, বড় ধরনের ভাল পাটি তৈরি করতে আানুমানিক ৪-৫ শত টাকা ব্যয় হয় এবং তা বিক্রি করে ৮-৯ শত টাকা আয় হবে।
গ্রাম এলাকায় এখনো যারা এ শিল্পকে টিকিয়ে রেখেছেন তাদের জন্য সহজ উপায়ে ক্ষুদ্র ঋণের ব্যবস্থা করা সরকারের উচিত বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এতে পাটি তৈরি পেশায় জড়িতরা আরো বেশি উৎসাহিত হবেন।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 122 People

সম্পর্কিত পোস্ট