চট্টগ্রাম রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

সর্বশেষ:

১৫ মে, ২০১৯ | ১:২১ পূর্বাহ্ণ

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ

চন্দনাইশ দক্ষিণ জোয়ারা হাতপাখা বিক্রি করে সচ্চলতা সহস্রাধিক পরিবারের

যখন বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং ও গ্রীষ্মের প্রচ- খরতাপ মিলে দুর্বিষহ হয়ে ওঠে জনজীবন, তখন একটু শীতল বাতাস পেতে তালপাতার হাতপাখার বিকল্প নেই। তীব্র তাপদাহ ও বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে হাত পাখার চাহিদাও বেড়ে চলেছে। শহর কিংবা গ্রামে হাতপাখার চাহিদা পূরণে কাজ করছে উপজেলার দক্ষিণ জোয়ারার ২ গ্রামের সহস্রাধিক পরিবার।
দক্ষিণ জোয়ারার বাদশার পাড়ার প্রবীণ কারিগর আনোয়ারা বেগম (৫৫) বলেন, এ বছর তিনি সহস্রাধিক পাখা তৈরি করেছেন। প্রতিশত হাতপাখা ৮ হাজার টাকা থেকে ১২ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন বলে জানান তিনি। আরেক পাখার কারিগর আহমদ নবীর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৬৫) জানান, ৪০ বছর পূর্বে তিনি গৃহবধূ হয়ে আসার পর স্বামীর কাছ থেকে হাতপাখা তৈরির কলাকৌশল শিখে নেন। সেই থেকে শুরু করে এখনো চলছে হাতপাখা তৈরির কাজ। তিনি ছাড়া পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও তৈরি করে হাতপাখা। চলতি মৌসুমে তার পরিবারের টার্গেট ৩ হাজার হাতপাখা তৈরি করবেন। প্রতিশত পাখা ৮ হাজার টাকা দরে বিক্রি করেন তিনি।
জিহস ফকিরপাড়া এলাকার কারিগর সিরাজুল ইসলাম জানান, শীত মৌসুম ছাড়া সারাবছর হাতপাখার চাহিদা থাকে। বিশেষ করে চৈত্র-বৈশাখ মাসে এর চাহিদা ৩/৪ গুণ বেড়ে যায়। এ গ্রামের প্রতিটি পরিবার চৈত্র-বৈশাখ মাসে কম করে হলেও গড়ে লক্ষাধিক টাকার হাতপাখা বিক্রি করেন। একজন কারিগর দিনে ৫/৬টি পাখা তৈরি করতে পারেন বলে জানালেন তিনি।
হাতপাখা তৈরির প্রধান উপকরণগুলো হলো তালপাতা, বাঁশ, বেত ও রং। পরিবারের প্রধানকর্তা এসব উপকরণ সংগ্রহ করে দেয়ার পরই বাড়ির নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোর একযোগে নেমে পড়ে পাখা তৈরিতে। হাতপাখার কারিগর সেলিম উদ্দীন জানান, ধোপাছড়ি ও বান্দরবানের বনাঞ্চল থেকে বাঁশ ও বেত সংগ্রহ করতে হয়। আর হাতপাখা তৈরির প্রধান উপকরণ তালপাতা সংগ্রহ করতে হয় পার্শ্ববতী উপজেলা পটিয়ার ভাইয়েরদীঘি ও কেলিশহর থেকে। এছাড়াও নোয়াখালী ও কুমিল্লা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এ উপকরণগুলো সংগ্রহ করেন তারা।
পাখার কারিগররা জানান, তারা মূলত ৭ তারী, ৯ তারী, ১১ তারী, ১৩ তারী ও ১৫ তারী হাতপাখা তৈরি করেন। এরমধ্যে ৯ ও ১১ তারী পাখার চাহিদা বেশি থাকে। চাহিদাসম্পন্ন হাতপাখাগুলো তালগাছের ডিগ পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। এটি মজবুত ও টেকসই হওয়ায় দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যায়।
কারিগর হাসিনা বেগম বলেন, ভবিষ্যতে এ শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। সরকারিভাবে আর্থিক ঋণ পেলে তাদের তৈরিকৃত হাতপাখা বাণিজ্যিকভাবে বিদেশে রপ্তানিও সম্ভব।

বিজ্ঞাপন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 380 People

সম্পর্কিত পোস্ট