চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

৪ মে, ২০১৯ | ১:২৮ অপরাহ্ণ

আবুল কালাম আজাদ

রাঙ্গুনিয়ায় অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর মহোৎসব

রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ইটভাটার ঘনত্ব মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সংরক্ষিত বন, জনবসতি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিবেষ্টিত এলাকায় গড়ে ওঠা ইটভাটাগুলোর কারণে জনজীবন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে।
এক পরিসংখ্যানে জানা গেছে, উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নের মধ্যে তিনটি ইউনিয়ন ব্যতীত অন্যান্য সব কটি ইউনিয়নে ইটভাটা রয়েছে। এসব ইউনিয়নের মধ্যে রাজানগর , দক্ষিণ রাজানগর এবং ইসলামপুর এই তিনটি ইউনিয়নে শতাধিক ইটভাটা রয়েছে। পরিসংখ্যানের তথ্যমতে, উপজেলার সর্বমোট ১৫০টি ইটভাটার মধ্যে কমপক্ষে ১১৩টি ইটভাটা রয়েছে ওই তিনটি ইউনিয়নে।
অভিযোগ পাওয়া যায়, রাঙ্গুনিয়া উপজেলার বিভিন্নস্থানে প্রায় দেড়শত ইটভাটায় ইট পোড়ানোর কার্যক্রম এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে। কয়লার পরিবর্তে অবৈধ জ¦ালানি কাঠের ব্যবহার চলছে অবাধে। শেষ মুহুর্তে ইটভাটাগুলোতে জ¦ালানি কাঠ পাচার বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। অবাধে কাঠ পোড়ানোর উৎসবকে কেন্দ্র করে রাঙ্গুনিয়ায় এখন জমে উঠেছে চোরাই জ্বালানি কাঠের রমরমা ব্যবসা। সংরক্ষিত বনাঞ্চল এবং সামাজিক বনায়নের বাগান উজাড় করে তৈরি করা হচ্ছে জ¦ালানি কাঠ। অসাধু বনকর্মীদের যোগসাজশে বিভিন্নস্থানে ডিপোতে মজুদ করে সেখান হতে কাঠ যাচ্ছে ইটের ভাটায়।
কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী রেঞ্জের আড়াছড়ি, চিৎমরম, রামপাহাড়, সীতাপাহাড় এবং কাপ্তাই পাল্পউড বন বিভাগের রাজস্থলী ও বান্দরবান বনাঞ্চলের বাগানের বৃক্ষ জ¦ালানি কাঠ করে পাচার করা হচ্ছে ইটভাটায়।
সরফভাটার মিরেরখীল, ভুমিরখীল, হাজী রাস্তা, রাইখালী, কোদালা, পুর্ব কোদালা, শিলক এলাকায় কর্নফুলি নদীর তীরে তীরে এবং চন্দ্রঘোনা দেওয়াঞ্জীরহাট খেয়াঘাটের নিকটে কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রকাশ্যে মজুদ করে গড়ে তোলা হয়েছে চোরাই জ্বালানি কাঠের বড় বড় ডিপো। ডিপোগুলো থেকে চাঁদের গাড়িযোগে চোরাই জ্বালানি কাঠ যায় ইটভাটায়।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান বলেন, এলাকার ইট ভাটার সংখ্যা ও সঠিক তথ্য তার অফিসে নেই। ইটভাটার অনুমতি ও ছাড়পত্র দেয়া জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এখতিয়ার। তবে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য এলাকার ইটের ভাটায় মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ ইটভাটা এবং অনিয়ম দুর্নীতির জন্য মালিকদের প্রতি জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা নেয়া হয়।
চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক আজাদুর রহমান মল্লিক জানান, বিভিন্নস্থানে অবৈধ ইটভাটার প্রমাণ পেলেই কারণ দর্শাও নোটিশ দেয়া হয়। এই বিষয়ে শুনানি শেষে বেআইনি ইট ভাটা ঠেকাতে বিভিন্ন অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত রয়েছে। তবে উপপরিচালক ফেরদৌস আনোয়ার তথ্য অধিকার আইনের অজুহাত দেখিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ইটভাটার প্রকৃত তথ্য প্রদানের বিষয়টি এড়িয়ে যান।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 276 People

সম্পর্কিত পোস্ট