চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

প্রতি গ্রামে নিরাপদ পানি
প্রতি গ্রামে নিরাপদ পানি

১৫ মার্চ, ২০২০ | ২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

মো. দেলোয়ার হোসেন, চন্দনাইশ

নতুন প্রকল্পের আওতায় চন্দনাইশ

প্রতি গ্রামে নিরাপদ পানি

প্রতিটি গ্রামের সাধারণ গ্রামবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহে নতুন একটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছে বর্তমান সরকার। সারাদেশে প্রায় ছয় লাখ গভীর-অগভীর নলকূপ বসানো হবে এ প্রকল্পের আওতায়। পাইপ লাইনেও পানি যাবে কোন কোন এলাকায়। এছাড়া বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে তিন হাজার ২১০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ইউনিট স্থাপনসহ আরও কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।
চলতি মাসেই ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ’ নামের এ প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। এ জন্য ৮ হাজার ৮৫১ কোটি টাকার প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে অর্থের মাধ্যমে ২০২৫ সালের জুন মাসে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে। জাতীয় নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন নীতিমালা অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিরাপদ পানির উৎস স্থাপনের মাধ্যমে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে সরকারের। বর্তমানে দেশে ৮৭ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি সুবিধার আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
নীতিমালা অনুযায়ী পানি সরবরাহের জন্য প্রতি ৫০ জনে একটি পানির উৎস বা নলকূপ স্থাপন করা হবে। সেই হিসাবে গ্রামাঞ্চলে নলকূপের সংখ্যা বাড়ানোর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রতিটি নলকূপের জন্য ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০৫ থেকে ৫০ জনে কমিয়ে আনা হয়েছে।
সূত্র মতে, বর্তমানে সারাদেশে চালু নলকূপ রয়েছে ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৬০টি থাকার পরও ১৩ শতাংশ মানুষ নিরাপদ পানি পাচ্ছে না। দূরবর্তী বিভিন্ন উৎস থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হয় তাদের।
এ প্রকল্পে ৯০ হাজার ৬৩৬ অগভীর, ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৭৭টি গভীর নলকূপ, ২ লাখের বেশি সাবমার্সিবল পাম্প ও জলাধারসহ অগভীর নলকূপ, প্রায় ২ লাখ সাবমার্সিবল পাম্প, জলাধারসহ গভীর নলকূপ স্থাপন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা যায়। এছাড়া ৩ হাজার ৩৭৯ রিংওয়েল স্থাপন, ৩ হাজার ২১০ রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং ইউনিট, ৪৯১ রুরাল পাইপড ওয়াটার সাপ্লাই স্কিম, ৩২০ সোলার পিএসএফ স্থাপন করা হবে। পানিকে আর্সেনিক ও আয়রনমুক্ত করতে ২৯ হাজার ৫৭০ আর্সেনিক আয়রন রিমুভাল প্লান্ট এবং প্রায় ৯ হাজার কমিউনিটি ভিত্তিক পানি সরবরাহ ইউনিট স্থাপন করা হবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেশের ১২টি উপজেলায় অফিস ভবন নির্মাণ, উন্নয়ন, গবেষণামূলক কার্যক্রম চালানো হবে। চন্দনাইশে গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ দফায় ১৭৮টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। এ সকল নলকূপ স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ নজরুল ইসলাম চৌধুরীর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বরাদ্দ পেয়ে তার মাধ্যমে নলকূপগুলো বিতরণ করা হয়। এ সকল নলকূপ ইতিমধ্যে স্থাপন করার মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষ পানীয় জলের সুবিধা ভোগ করছে।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী ফরহাদ হোসেন বলেন, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২ দফায় ১৭৮টি গভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়েছে। নতুন প্রকল্পটি একনেকে পাস হয়েছে; তবে এখনো উপজেলা পর্যায়ে বরাদ্দের তালিকা পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 144 People

সম্পর্কিত পোস্ট