চট্টগ্রাম বুধবার, ২৫ নভেম্বর, ২০২০

৩১ ডিসেম্বর, ২০১৮ | ২:৪৩ অপরাহ্ণ

দুঃখ-সুখের ভেলা মুহাম্মদ আবু নাসের

কবির ভাষায় বলা চলে-‘দুখ যদি না পাবে তো, দুঃখ তোমার ঘুচবে।’ সুখ-দুঃখের সমাহারেই মানবজীবন পরিচালিত হয়। মানুষ স্বভাবতই সুখের প্রত্যাশী। দুঃখকে জীবন থেকে দূর করে সুখের পায়রা ধরার চেষ্টাতেই আমরা নিমঘœ থাকি। কিন্তু ভাবুক হৃদয়ের প্রখর চেতনা অনুভব করতে পারে, দুঃখের মাঝেই নিহিত রয়েছে এক অপরিমেয় শক্তি ও নির্যাস। যা মানুষের অন্তর্লোককে করতে পারে দুঃখ জয়ে উদ্বোধিত, আত্মশক্তিতে ভরপুর, আত্মমহিমায় বলিয়ান। কাজেই দুঃখকে অন্ধকারাচ্ছন্ন রজনী ভেবে জীবনকে নিস্ফল মনে করে হাহুতাশ করার কিছু নেই। পরশ পাথর যেমন স্পর্শমান-যার পরশে লোহার ন্যায় সাধারণ ধাতুও সোনার মত মূল্যবান ধাতুতে পরিণত হয়। তেমনি দুঃখ পরশপাথরের ন্যায় জীবনকে মণিময় দ্যুতিতে পরিণত করে। বিপরীতধর্মী বস্তুটি আছে বলেই কাম্য জিনিসটি আমাদের কাছে এত মধুময়, চিত্তাকর্ষক। অন্ধকার ছাড়া যেমন আলোর সার্থকতা নেই, মৃত্যু আছে বলেই জীবন এত মধুর, তেমনি দুঃখ আছে বলেই সুখ আমাদের কাছে সোনার হরিণের ন্যায় আকাঙ্খিত এবং মূল্যবান। দুঃখেই অভিঘাতে যার হৃদয় আন্দোলিত হয় না, সে সুখের মর্ম বুঝবে কি করে? সুখী ব্যক্তির কাছে দুঃখের যন্ত্রণা থাকে অনুদ্ঘাটিত। দুঃখীর দুঃখে তাই তার অন্তর বেদনার্ত হয়না, আর্তের অশ্রুমোচন, দুঃখীর দুঃখ দূরীকরণও তার দ্বারা সম্ভব হয় না, পক্ষান্তরে, যে লোক দুঃখ যন্ত্রণার মাঝে জীবন অতিবাহিত করে এর কষ্টের যন্ত্রণার দিকগুলোকে উপলব্ধি করতে পেরেছে, তার কাছে মানুষের দুঃখের স্বরূপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। জীবনের দুঃখ-দুর্দশা হাহাকার তার হৃদয়-মনকে করে আন্দোলিত। দুঃখের আগুনে পুড়ে তার হৃদয় হয় খাঁটি সোনার মত। জীবন চলার পথে কোন বাধা বিপত্তি, যন্ত্রণা বা দুঃখ এলেও সে চিরসুখীজনের ন্যায় কাতর হয়ে পড়ে না। দুঃখকে সহ্য করে হাসিমুখে, আত্মবিশ্বাসের সাথে সে জীবনের প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে সম্মুুখপানে এগিয়ে যায়। দুঃখ সে মানুষের অন্তরকে সোনায় পরিণত করে তার সর্বোৎকৃষ্ট দৃষ্টান্ত আমাদের প্রিয়নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ)। শৈশব থেকে শুরু করে আজীবন তিনি দুঃখের সাথে বসবাস করে গেছেন। শৈশবের পিতৃমাতৃহীন অনাথ, এতিম নবীজী বড় হয়েও দুঃখ থেকে নিষ্কৃতি পাননি। আজীবন অত্যাচার ও লাঞ্ছনায় নিগৃহীত হয়েছেন। যার ফলে দুঃখী, অনাথ, অসহায়, এতিম, আতুরের প্রতি ছিল তার পরম মায়ামমতা ও অপরিসীম ভালোবাসা, জীবনের এক কণা সুখও আনন্দ প্রাপ্তিতেই তিনি আদায় করতেন হাজারো শুকরিয়া ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্যদিয়ে গড়ে ওঠা জীবনই প্রকৃত জীবন। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে সবার ধারণা এক রকম হয় না। কারো কাছে জীবন দুঃখপূর্ণ, কারো কাছে আনন্দময়। অন্যের দুঃখকে হৃদয় দিয়ে অনুভব করলে নিজের দুঃখ হাল্কা মনে হবে। দুঃখ-সুখের সমাহারেই তো আমাদের জীবন। তাই একে নিয়েই জীবনকে করে তুলতে হয় আনন্দদায়ক মহীয়ান।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 1151 People

সম্পর্কিত পোস্ট