চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২০

৩০ আগস্ট, ২০১৯ | ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

শাহিদা আক্তার জাহান

রক্তাক্ত ২১ আগস্ট

কি ছু কিছু ঘটনা চির কাল মানু ষের মনে শোকের দাগ কাটে। আর কিছু ঘটনা চিরকাল সুখের অর্থ খোঁজে। সুখ-দুঃখের সেই ঘটনা ইতিহাস হয়, ইতিহাসের পাতায় লিখিত হয়ে যায়। তেমনি আওয়ামী লীগকে নিশ্চিন্ন করার যড়যন্ত্রের আরেক দফা হলো ভয়াল ২১ আগস্ট ২০০৪। এই দিনের কথা মনে পড়লে পৃথিবীর সবকিছু যেন বিষাদ লাগে। ইতিহাসের পাতায় এমন জগন্য ঘটনা থাকতে পারে তা ভেবে।

দিনটি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট। নিহতদের মধ্যে ছিলেন মহিলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমান। আহতদের মধ্যে অনেকের জীবনযাপন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। তখনকার বিরোধী দলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আক্রমণ থেকে রক্ষা পেলেও, কানে আঘাত পান, যার প্রভাবে আজ পর্যন্ত তিনি ভুগছেন।
শেখ হাসিনাকে হত্যা করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে নির্মূল করাই ছিল এ হামলার উদ্দেশ্য। এটি বাংলাদেশের মাটিতে সবচেয়ে ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলা। কারণ এটি রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট ও রাজনৈতিক বিরোধীদের নির্মূল করার জন্যই এই হামলা। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শেখ হাসিনার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে আকস্মিক গ্রেনেড বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলে মারাত্মক বিশৃঙ্খলা, ভয়াবহ মৃত্যু ও দিনের আলো মুছে গিয়ে এক ধোঁয়াচ্ছন্ন অন্ধকার পরিবেশ সৃষ্টি হয়। কে কোন দিকে যাবে বুঝা যাচ্ছিল না। হাসপাতালেও রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল না। মামলা না নিয়ে মামলার আলামত নষ্ট করায় ব্যস্ত ছিল প্রশাসনের লোকজন। গোয়েন্দা তথ্য থাকার পরও বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নিরাপত্তার কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। মামলা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেছিল তৎকালীন সরকার। আওয়ামী লীগের কর্মবীর নেতা ঢাকা’র তৎকালীন মেয়র মোহাম্মদ হানিফ, সাবের হোসেন চৌধুরী এবং শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত দেহরক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব) মাহাবুবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ তাৎক্ষণিকভাবে এক মানব বলয় তৈরি করে নিজেরা অনেক আঘাত সহ্য করে নেত্রীকে গ্রেনেডের হাত থেকে রক্ষা করেন। তবে গ্রেনেড থেকে রক্ষা করা গেলেও তার শ্রবণশক্তি নষ্ট হয়ে যায়। সবচাইতে বর্বরোচিত হামলা হলো ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা। এই হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ সকল নেতাকর্মীদেরকে নেতৃত্ব শূন্য করা। বিএনপি-জামাত জোট সরকারের বড় বড়, এমপি, মন্ত্রীরা এ জঘন্য হামলাকে আওয়ামী লীগের পরিকল্পিত হামলা বলে দাবি করেছিল এবং জজ মিয়া নামের এক ভবঘুরে ছাত্র ও আওয়ামী লীগের অনেক কর্মীদেরকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তে তাদের কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। নতুন করে তদন্ত শুরু হলে জানা যায়, তৎকালীন বিএনপির প্রভাবশালী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফজ্জামান বাবর ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বড় পুত্র তারেকের কথা মত এ হামলা হয়েছে এবং এ হামলার ব্যাপারে মামলার কোন পদক্ষেপ না নেওয়ার জন্য কঠোর নির্দেশও দিয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, হামলার সাথে জড়িত ব্যক্তিদের রক্ষা করতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে হুজি প্রধান মুফতি হান্নানসহ ১৪ জন হুজি কর্মী, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখন কারাগারে রয়েছে, আর তারেক জিয়া এখন বিদেশে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আজ বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা বেঁচে আছেন বলেই বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে।
১৫ আগস্ট পরিবারের সবাইকে হারিয়ে ইতিহাসের পালাবদলের সাথে নেতাকর্মীদেরকে নিয়ে জীবনবাজি রেখে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গুরুত্বপুর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দলের দুঃসময়ে উপদেশ, পরামর্শ ও নানা ধরনের সমর্থনে যুক্ত থেকেছেন সমকালীন ঘটনার সঙ্গে। বাঙালি জাতির মুক্তির জন্য ক্ষুধা, দারিদ্র্য, সন্ত্রাস, জঙ্গিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য অবিরাম পথ চলছে। আজ জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা শুধু বাংলাদেশের নেত্রী নয় তিনি বিশ্বের নন্দিত নেত্রী। আন্তর্জাতিক বিশ্ব আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে মাদার অব হিউমিনিটি উপাধিতে ভূষিত করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ-বিদেশে জননন্দিত নেত্রী তাঁর অসাধারণ নেতৃত্বে বাংলাদেশকে বিশ্ব পরিম-লে অন্যরকম উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে উন্নত দেশে পরিণত করতে তাঁর অদম্য শক্তি, সাহস ও নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বিশ্ব নেতৃবৃন্দ। আজ এতকিছু সম্ভব হয়েছে তার চৌকশ দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অভিজ্ঞা, সততা ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের কারণে।

লেখক : সদস্য, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 300 People

সম্পর্কিত পোস্ট