চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর, ২০২০

৩ মে, ২০১৯ | ১২:৫৮ পূর্বাহ্ণ

সাইমুম চৌধুরী

বনের জায়গায় জাহাজ-ভাঙ্গা কারখানা

দেশে সরকারি জমি, নদী, খাল-বিল, পাহাড়-টিলা দখল করে ব্যবসা বাণিজ্য, ঘরবাড়ি ও স্থাপন নির্মাণ করে ভোগদখলের ঘটনা নতুন নয়। এসব অনিয়মের সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকা যে নেই তা বলা যাবে না। সে রকমই একটি ঘটনা অতি সম্প্রতি পত্রিকার পাতায় নজরে এসেছে। ‘বনের জায়গা জাহাজ ভাঙ্গা কারখানার জন্য ইজারা’- শিরোনামে একটি সংবাদ এক জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। সীতাকুন্ডের উত্তর ছলিমপুরে ৭ দশমিক ১০ একর উপকূলীয় ভূমি গত ২৪ ডিসেম্বর/১৮ জাহাজ ভাঙ্গা কারখানার জন্য বি বি সি স্টিল নামের জাহাজ-ভাঙ্গা প্রতিষ্ঠানের নামে ইজারা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। পরিবেশিত সংবাদে জানা যায় যে, জায়গাটি জাহাজ ভাঙ্গার জন্য দেয়া হয়েছে, তা হলো ঘন বন। পত্রিকায় এও এসেছে ইজারা দেয়া জায়গাটি বন আইনের ১৯২৭ এর ২০ ধারা অনুযায়ী সংরক্ষিত বন ঘোষণার লক্ষে ৪ ধারায় বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। ইজারা দেয়া ভূমিটি বন বিভাগের মালিকানাধীন ৪০০ একর বনভূমির অংশ।
উপকূলীয় বনাঞ্চলের বিভাগীয় এক কর্মকর্তা পত্রিকার সংবাদদাতাকে এ বিষয়ে বলেন, যে ভূমি ইজারা দেয়া হয়েছে, আইনত সেটি বন বিভাগের জায়গা। সেখানে ঘন বন রয়েছে। আমরা আশঙ্কা করছি এতে বনভূমি ধ্বংস হতে পারে। এজন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা করা হয়েছে। ইজারা দেয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে বন বিভাগ আপত্তি জানিয়েছে। অন্যদিকে, ইজারা পাওয়া প্রতিষ্ঠান বিবিসি স্টিল মালিক বলছেন, ‘ওখানে বনের কোনো জায়গা নেই। বন শ্রেণির জায়গা নয় সেটি, গাছও নেই। বনবিভাগ শুধু নিজেদের জমি দাবি করছে।
সম্প্রতি পত্রিকার প্রতিবেদক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখতে পেয়েছেন বাঁধের ভেতরের অংশে সাগরের দিকে কেওড়া বন রয়েছে। ইজারা যিনি পেয়েছেন তিনি ইতিমধ্যে ওই এলাকায় খনন যন্ত্রের সাহায্যে মাটি উত্তোলন করে কেওড়া বনের মাঝ দিয়ে আসা যাওয়ার জন্য ২টি রাস্তা তৈরি করেছেন। জানা যায়, আলোচিত স্থানের ইজারা বাতিলের জন্য বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি ( বেলা) জেলা প্রশাসকের কাছে নোটিশ দিয়েছে।
শিল্পসচিব, বনসচিব, প্রধান বন সংরক্ষক, বিভাগীয় কমিশনার এবং আলোচিত বন দখলকারীকে ওই নোটিশের অনুলিপি দেয়া হয়েছে। পত্রিকায় প্রকাশ, ১৯৯৬ এর ৩০ অক্টোবর ভূমি মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক সার্কুলারে বলা হয়েছে, বনায়নের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ ও বন-মন্ত্রণালয়ের মতামত ছাড়া কোন প্রকার ইজারা বা বন্দোবস্তি দেয়া যাবে না। তাছাড়া, ২০০৯ সালে বেলার জনস্বার্থে করা এক মামলায় হাইকোর্ট উপকূলীয় বন এলাকাকে জাহাজ ভাঙ্গন শিল্পে বরাদ্দ দেয়া অবৈধ ঘোষণা করে রায় দেয়।
এখন প্রশ্ন কিভাবে ওই এলাকায় জাহাজ ভাঙ্গার জন্য ইজারা দেয়া হল? তাছাড়া, উল্লেখিত জাহাজ ভাঙ্গা স্ক্রেপগুলো নেয়ার জন্য বনভূমির কেওড়া বন কেটে যে রাস্তা তৈরি করা হয়েছে এসব দেখার কি কেউ নেই?
বলার অপেক্ষা রাখে না, সমুদ্রের উপকূলে বাঁধ নির্মাণ এবং কেওড়া বন লাগানোর হয়েছিলো সাগরের জলোচ্ছ্বাস থেকে উপকূলবাসী ও তাদের ঘরবাড়ি রক্ষার্থে। তাই, প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ কেওড়া বন ধ্বংসকারীদের আইনের আওতায় শাস্তি প্রদান করা হোক, কেওড়া বন তৈরি করা রাস্তায় পুনরায় কেওড়ার চারা লাগিয়ে পূর্বের অবস্থায় নিয়ে আসা হোক।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 431 People

সম্পর্কিত পোস্ট