চট্টগ্রাম বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০

সর্বশেষ:

প্রতিটি মানুষ হয়ে উঠুক মানবিক

১৩ এপ্রিল, ২০২০ | ১:০১ পূর্বাহ্ণ

আমিনুল হক বাবু

প্রতিটি মানুষ হয়ে উঠুক মানবিক

এই দুঃস ময়ে মানুষের পাশে ফেরে শতা হয়ে ডাক্তার, মানবিক হয়ে পুলিশ, তদারকিতে সেনাবাহিনী, সেকেন্ডের খবর বাতাসে ছড়িয়ে দিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে চলেছে সাংবাদিকসমাজ। দ্বিধাহীন চিত্তে বলা যায়, এঁরা সবাই নিঃস্বার্থ করোনাযোদ্ধা। আর এসব নিঃস্বার্থ মানবিক যোদ্ধার বিপরীতে দেখা যাচ্ছে কিছু ত্রাণচোরের খবরও। জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে অসহায়দের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যথেষ্ট পরিমাণ ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন। অথচ কিছু কুলাঙ্গার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সে মানবিক উপহারও চাল চুরিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের প্রতি চরম ধিক্কার। সময় এসেছে এসব কুলাঙ্গারদের প্রতিহত করার। এদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার। এটি সময়ের দাবি। যেখানে বঙ্গবন্ধুকন্যার আহবানে সাড়া দিয়ে জাতির জনকের আদর্শের অনুসারীরা অসহায় মানুষদের কল্যাণে সবকিছুই উজাড় করে দিচ্ছেন, সেখানে গুটিকয় নেতা নামধারী নিজেদের আখের গোছাতেই ব্যস্ত। জাতির ক্রান্তিলগ্নে এমন তৎপরতা মেনে নেয়া যায় না। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে সিটি মেয়র তৈকে শুরু করে প্রায় সব রাজনীতিকই অসহায় মানুষদের জন্যে অকাতরে সহায়তা করছেন। সিটি মেয়র নিয়মিত দায়িত্বের পাশাপাশি কখনো জীবাণুনাশক পানির ট্যাংক থেকে নিজ হাতে রাস্তায় ছিটিয়ে আবার কখনো ত্রাণ নিয়ে নিম্ন ও নিম্নমধ্যবিত্তের ঘরে, কিংবা চট্টলাবাসীর জন্য করোনা হাসপাতাল তৈরিতে ব্যস্ত। বসে নেই শিক্ষাউপমন্ত্রীও। মন্ত্রীর দায়িত্বের পাশাপাশি কখনো করোনা কিট নিয়ে চট্টগ্রামের পথে, আবার শুকনা খাবার নিয়ে অসহায়ের পাশে আছেন তিনি। তবে এই মহাদুর্যোগে এমপিসহ অনেককেই মাঠে দেখা যাচ্ছে না। অথচ এখন তাদের উচিত ছিলো অসহায় মানুষদের পাশে থাকা, জনগণকে সচেতন কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন তদারক করা। বিশে^র অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশও বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে অদৃশ্য শত্রু করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে যাচ্ছে। এখন করোনা বিস্তারের পিক টাইম চলছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, করোনা এখন মরণছোবল দেবে। এ সময়টাতে সবাইকে ঘরে থাকতে হবে। অসহায়দের সাহায্য করতে হবে। অভাবী লোকজন যাতে ঘরের বাইরে না যেতে হয়, সে জন্যে পর্যাপ্ত সরকারি ত্রাণ দেয়া হচ্ছে। একইসঙ্গে সামর্থ্যবানদেরও গরীব জনগোষ্ঠীর সহায়তায় এগিয়ে আসার জন্যে তিনি আহবান জানিয়েছেন। আমাদের সবার উচিৎ বঙ্গবন্ধুকন্যার আহবানে সাড়া দিয়ে করোনাযুদ্ধে জয়ের পথ প্রশস্ত করা।
করোনাযুদ্ধে চিকিৎসাকর্মীদের ভূমিকা স্যালুটযোগ্য। ডাক্তাররা তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েে যাচ্ছেন। তবে অভিযোগ আছে, করোনার এই দুঃসময়ে অনেক ডাক্তার চেম্বার করছে না। তারা ঘরে বসে আছেন। ফলে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। চিকিৎসা না পেয়ে অনেকের মৃত্যুর অভিযোগও আমরা গণমাধ্যমে জানতে পেরেছি। এটি কাম্য নয়। প্রকৃত চিকিৎসক জাতির ক্রান্তিকালে কখনো ঘরে বসে থাকতে পারেন না। আমরা আশা করবো তাদের বোধোদয় হবে। করোনাকাল থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের চিকিৎসাব্যবস্থাও আরো আধুনিক ও স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগ নিতে হবে। আর এখন করোনাযুদ্ধকালে ডাক্তারসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিধান করতে হবে। চিকিৎসকদের পাশাপাশি জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে সাহসী এবং যথোপযুক্ত ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী। এই দুঃসময়ে পুলিশ বাহিনীর ভূমিকাও চমৎকার জনবান্ধব। পুলিশের মহাপরিদর্শক থেকে কনস্টেবল পর্যন্ত প্রতিটি সদস্য দায়িত্বের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। তারা জনগণকে সচেতন করছেন, শৃঙ্খলা বজায় রাখছেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করছেন, বাজার করে দিচ্ছেন, এমনকি অসহায়দের ঘরে খাবারও পৌঁছে দিচ্ছেন। এতে জনগণের কাছে পুলিশের ভাবমূর্তি ও আস্থা বাড়ছে। আর গণমাধ্যমকর্মী তথা সাংবাদিকরা তো সর্বদা জাতির কল্যাণে নিয়োজিত। জাতির যে কোনো ক্রান্তিকালে তারা জনগণের পাশে থাকেন। জাতিকে পথ দেখান। করোনাযুদ্ধেও তারা শুরু থেকেই নিজেদের জীবন বিপন্ন করে হলেও মানুষের পাশে আছেন। মানুষকে সচেতন করছেন। সর্বশেষ ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য দিয়ে সরকারকে সাহায্য করছেন। গুজবের বিরুদ্ধে জনগণকে সতর্ক-সাবধান করছেন। করোনাযুদ্ধ মোকাবিলায় সরকারকে নানাভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করছেন। সালাম তাদের। এর বাইরে ব্যাংকার, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, সমাজকর্মীসহ আরো অনেকে মাঠে থেকে করোনাযুদ্ধে সরকারকে সাহায্য করছেন। জেলাপ্রশাসনও বিরামহীন কাজ করে যাচ্ছে করোনা প্রতিরোধে। এসব ইতিবাচক আশা জাগানিয়া খবর। তবে ত্রাণচুরির যেসব খবর আসছে, তা খুবই দুঃখজনক। অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে করোনাযুদ্ধ কঠিন হয়ে পড়বে। এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। আমাদের দৃঢ় বিশ^াস, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আঁধার কাটবে একদিন। আলো আসবেই। সেই আলোয় পৃথিবী হয়ে উঠুক সাম্যের, ভালোবাসার। প্রতিটি মানুষ হয়ে উঠুক মানবিক।

আমিনুল হক বাবু ডেপুটি গভর্নর, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 358 People

সম্পর্কিত পোস্ট