চট্টগ্রাম রবিবার, ১৫ মার্চ, ২০২০

সর্বশেষ:

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত 1

১৫ মার্চ, ২০২০ | ২:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নাওজিশ মাহমুদ

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও ভারত

ভারতের সাথে সম্পর্ক নিয়ে আমাদের দেশে রাজনৈতিক মহলে একধরণের প্রচারণা বা অপপ্রচার আছে। এর ভিত্তি হচ্ছে যুদ্ধকালীন সময়ে ভারতের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় মুক্তিযুদ্ধের সফল সমাপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। মুক্তিযুদ্ধপরবর্তী শাসকদলসমূহের সাথে ভারতের সম্পর্ক যেমন উঠানামা করেছে, তেমনি ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক একধরণের মনস্তাত্বিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়েছে। ১৯৪৭ সালে ভারত ও পাকিস্তানের বিভক্তির পর বাংলাদেশের জনগণের সাথে ভারতের সম্পর্ক বৈরী-অবৈরী এই দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। ১৯৬৫ সালের যুদ্ধে ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ তথা পূর্ব বাংলার বাঙালিরা পাকিস্তানকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করলেও, অরক্ষিত পূর্ব বাংলা নিয়ে বাঙালি মধ্যবিত্তের যে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছিল- বাংলা ভাষার উপর আঘাত, ৫৪ সালের নির্বাচনের পরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের আচরণ, রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূতকরণ এবং অর্থনৈতিকভাবে বাঙালিকে বঞ্চিত করার প্রতিবাদে পাকিস্তান সরকার, পাকিস্তানের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণকারী পাঞ্জাবী এবং অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণকারী স্থানান্তরিত মুসলিম পুঁজির মালিকদের প্রতি ঘৃণা ও ক্ষোভ বৃদ্ধির সাথে সাথে ভারতের প্রতি বৈরী মনোভাব ধীরে ধীরে কমে আসতে থাকে।
৬ দফা আন্দোলন থেকে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত মার্কিনপন্থী সোহরাওয়ার্দীর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অর্থনৈতিক এবং সাংস্কৃতিকভাবে আমূল পরিবর্তন সূচিত হয়। সোহরাওয়ার্দীর বলয় থেকে আওয়ামী লীগকে বের করে আনার ক্ষেত্রে ৬ দফা যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে সোহরাওয়ার্দীর সহকর্মীদের বিরুদ্ধেও সংগ্রাম করতে হয়েছে। এই সংগ্রামে প্রধান সহযোগী ছিলেন তাজউদ্দিন এবং তরুণ ও ছাত্রদের মধ্যে নিউক্লিয়াসের সাথে জড়িত সিরাজুল আলম খান ও আব্দুর রাজ্জাক। আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব ক্রমান্বয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে থাকে। আগরতলা মামলা ও ঊনসত্তরের গণভ্যুত্থানের কারণে দলীয় নেতৃত্ব ও বাঙালির জাতীয় নেতৃত্ব এককভাবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের হাতে অর্পিত হয়।
নতুন নেতৃত্ব ভারতের প্রতি সহনুভূতিশীল হয়ে উঠে এবং পাকিস্তানের শাসকদের সাথে দ্বন্দ্বে ভারতের সাহায্য সহযোগিতার ব্যাপারে প্রত্যাশাও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ছাত্রলীগের মধ্যে ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠিত নিউক্লিয়াসের মাধ্যমে র‌্যাডিক্যাল চিন্তা বিকশিত হওয়ায় বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য ভারতের সহযোগিতা অপরিহার্য হয়ে পড়ে। ভারত সরকারের সাথে গোপন যোগাযোগ গড়ে উঠলেও বঙ্গবন্ধু ও ভারত সরকার উভয়ে ছিল সতর্ক। পরস্পরের প্রয়োজনে একে অপরের সহযোগিতার প্রয়োজন হলেও আনুষ্ঠানিক কোন চুক্তি বা সমঝোতা হয়নি। তবে স্বাধীনতার পূর্বে লন্ডনে ইন্দিরা গান্ধীর সাথে বঙ্গবন্ধু মুজিবের দেখা হলেও বিস্তারিত সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত হয়নি। হয়তো এই কারণেই ২৫ মার্চ রাতে ভারতের আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিতে বঙ্গবন্ধুর অনীহা ছিলো। চিত্তরঞ্জন সুতারের মাধ্যমে ভারতের সাথে একটি যোগাযোগের মাধ্যম গড়ে তুললেও, বিএলএফ এর চার নেতা ও তাজউদ্দীনকে সংযুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের একটি ফ্রন্ট খুললেও নিজেকে সরাসরি ভারতে আশ্রয় নেয়ার মতো আস্থার ক্ষেত্র হয়তো বা নিশ্চিত হতে পারেননি।
ভারত বাংলাদেশের পরিস্থিতির উপর নজর রাখলেও পাকিস্তানিদের বাঙালিদের উপর অতর্কিত হামলা ও গণহত্যা, বাঙালি সেনাবিদ্রোহ ও প্রতিরোধ যুদ্ধ ভারতের কাছে ছিল অপ্রত্যাশিত। তার উপর ব্যাপকহারে শরণার্থীর চাপও ভারতকে এক কঠিন পরীক্ষায় ফেলে দেয়। এই অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে তাজউদ্দীনের দিল্লীতে এসে ভারতের সাহায্য কামনা ভারতকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করেছিল। ১৯৬২ সালে চিনের সাথে পরাজয়, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ, চিনের তিব্বত দখল, মার্কিনিদের সাথে পাকিস্তানের দহরম মহরম, চিনের সাথে মার্কিনিদের বৈরী সম্পর্ক অবসানে নতুন সম্পর্ক, চিনের সাথে স্ট্যালিন পরবর্তী সোভিয়েত সম্পর্কের টানাপোড়নের মধ্য দিয়ে বিশ^ এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি একটি জটিল আকার ধারন করেছিল। জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের উদ্যোক্তা হিসেবে ভারত মূলত ছিল দুই বৃহৎ শক্তির বাইরে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে সমর্থন করার অর্থ হলো আরেকটি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া। যেখানে প্রতিবেশী পাকিস্তান ও চীনের সাথে বৈরী সম্পর্ক যেমন গুরত্বপূর্ণ, তেমনি মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশসমূহের বিরাগভাজনও একটি ঝুঁকির ব্যাপার। ভারত একটি পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন একটি সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র। ভারতের বিরোধী দলে বামপন্থীদের প্রাধান্য। সুতরাং সোভিয়েতের সাথে সম্পর্ক বামদের উত্থানকে ত্বরান্বিত করলে ক্ষমতার ভারসাম্য একটি ঝাঁকুনি আসতে পারে। পশ্চিম বঙ্গে মাওপন্থী নক্সালদের দাপট। সবকিছু চুলচেরা বিশ্লেষণ করেই ঝুঁকি নিয়েই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে সহযোগিতা করার প্রশ্ন বিবেচনায় এনে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।
সেই সাথে ভারত দক্ষিণ-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন যাতে এই সুযোগে মাথা চাড়া দিয়ে না উঠে সে ব্যাপারেও সতর্ক ছিল। আরো সতর্ক ছিল বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলন যাতে ভারতে অন্যান্য্য প্রদেশে ছড়িয়ে না পড়ে। বাংলাভাষীদের নিয়ে ভবিষ্যতে কোন রাষ্ট্র গড়ে উঠার আন্দোলন যাতে শুরু না হয় প্রভৃতি সবকিছু বিবেচনা যেমন করতে হয়েছে, তেমনি বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ভবিষ্যতে এই ধরনের আন্দোলন উদ্যোগ নিবে না, তার নিশ্চয়তাও চেয়েছে। বাংলাদেশ যাতে ভবিষ্যতে ভারতের বৈরী রাষ্ট্র হিসেবে পরিণত না হয়, সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হয়েছে।
তাজউদ্দীন বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে ভারতের সাথে একবার যোগাযোগ ছাড়াও অন্যকোনভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে মনে হয় না। মার্চের প্রথম সপ্তাহে ঢাকাস্থ ভারতীয় ডেপুটি হাই কমিশনার বি. কে সেনগুপ্তের সাথে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেখা করে ভারতের সাহায্য-সহযোগিতা কতটুক পাওয়া যেতে পারে সে ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন। তখন ভারত সাধারণ নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় পরিপূর্র্ণ নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। মার্চের ২৪ তারিখে বি. কে সেনগুপ্তের সাথে পরবর্তী বৈঠকের কথা থাকলেও দ্রুত পরিস্থিতির পরিবর্তন হওয়ায়, সমাধানের জন্য পাকিস্তানের সাথে আলোচনার ফলাফল অনিশ্চিত থাকায় কোন পক্ষই সময় ও সুযোগ যেমন পাওয়া যায় নি, তেমনি আলোচনার বিষয়বস্তু নির্ধারণ করা সম্ভব ছিল না।
তবু তাজউদ্দীন ভেবেছিলেন হয়তো বঙ্গবন্ধু ভারতের সাথে কোন আগাম ব্যবস্থা করে রেখেছেন। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে বুঝলেন এই ধরনের কোন আগাম ব্যবস্থা করা হয়নি। দিল্লী পৌঁছে তিনি পরিস্থিতি দ্রুত বুঝে ভারতের সাথে সম্পর্ক নির্ধারণে সচেষ্ট হন। এর পূর্বে অন্য কোন সিনিয়র নেতা ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করেননি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও সকল গেয়েন্দা তথ্য ও কূটনৈতিক মহল থেকে জানতে পারেন, তাজউদ্দিন থেকে আর কোন যোগ্যলোক ভারতের উচ্চমহলে যোগাযোগ করেনি। এম আর সিদ্দিকী দিল্লীতে পৌঁছেন তাজউদ্দীনের পূর্বে। যদিও ব্যবসায়ী হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্বস্থানীয় ব্যাক্তি হলেও রাজনীতিবিদ হিসেবে তিনি ছিলেন চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগের সভাপতি। এম এ আজিজ বেঁচে থাকা পর্যন্ত তিনি দলের সাংগঠনিক বিষয়ে মাথা ঘামাতেন বলে মনে হয় নি।
ভারত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সরকার গঠনের সুযোগ প্রশিক্ষণ, শরণার্থীদের আশ্রয়, প্রচার বেতার এবং বহির্বিশ^ বিষয়ক সহযোগিতা করেছে। কিন্তু অস্ত্র সরবরাহের ব্যাপারে ভারত ছিল খুবই সতর্ক। কারণ পশ্চিম বঙ্গের নক্সাল আন্দোলন, পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনকারীদের কাছে যদি এ সকল অস্ত্র চলে যায় তা হলে ভারতকে এর খেসারত দিতে হবে। তাই চূড়ান্ত যুদ্ধের পূর্বে অস্ত্র সরবরাহের প্রতিকূলতা ও সীমাবদ্ধতায় বাংলাদেশ সরকার ও সেনাবাহিনীকে ভুগতে হয়েছে প্রচুর। যুদ্ধে আগ্রহী যুবকদের সান্তনা দিতে শুধু কয়েকটি গ্রেনেড নিয়ে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। অথচ তাঁদের কাছে আত্মরক্ষার কোন অস্ত্র ছিল না। প্রশিক্ষণের জন্য বাছাইয়ে কোন বামপন্থী সদস্য এবং রাজনৈতিক কর্মী সে আওয়ামী লীগের করলেও প্রশিক্ষণের বাছাইয়ের ব্যাপারে দ্বিধায় থাকতো। কারণ আওয়ামী লীগের যুবকদের মধ্যে নিউক্লিয়াসের প্রভাবে একটি অংশ বাম দিকে ঝুঁকে পড়েছিল। ভারত যেমন চেয়েছিল, তেমনি তাজউদদ্দীন সরকারও চেয়েছিল এই যুদ্ধ যাতে তাঁদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়। ভারতের এককোটি শরণার্থীকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হলে এই আগ্রহী যুবকদের প্রশিক্ষণ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য না করলে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। এই বাধ্যবাধকতা থেকে ভারত দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে অস্ত্র সরবরাহের ধীরগতির মনোভাব থেকে সরে আসে।
ভারতের ধীরগতির কারণ হচ্ছে যুদ্ধ যাতে জনযুদ্ধ থেকে সৃষ্ট নেতৃত্বের কাছে চলে না যায়। পরিপূর্ণ জনযুদ্ধের মাধ্যমে একটি জাতি বিজয় অর্জন করলে প্রচলিত রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং উপনিবেশ ধাঁচের প্রশাসন যেমন কঠিন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। তেমনি জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ভিত্তিতে একটি জনযুদ্ধ ভারতের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। সেই সাথে বাংলাভাষী বা অখ- বাংলা গড়ে উঠার প্রেক্ষাপট তেরী হওয়ার কোন সম্ভাবনা যাতে দেখা না দেয়, সেজন্য বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ হলেও যুদ্ধের নেতৃত্ব ছিল সামরিক কর্তৃত্বের হাতে।
এই যুদ্ধের নেতৃত্ব যুদ্ধের ভিতর থেকে গড়ে উঠলে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতো। কারণ আওয়ামী লীগ একটি জনযুদ্ধের নেতৃত্ব প্রদান করার মতো আদর্শ, ত্যাগী, নির্লোভ দৃঢ়সংকল্প কোন রাজনীতির প্রতি নিবেদিত সংগঠন ছিল না। ছিল না কোন সুনির্দিষ্ট কোন আদর্শ। বঙ্গবন্ধুর ব্যাক্তিগত ক্যারিশমা, ৬ দফা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে, আগরতলা মামলাবিরোধী আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণাঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে যে সকল যুবক সম্পৃক্ত হয়েছিল তারা তখনও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে উঠে আসতে পারে নি। অধিকাংশই ছিল বাঙালি উঠতি মধ্যবিত্ত থেকে আগত শিথিল সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মুসলিম লীগের নেতৃত্বকে চ্যলেঞ্জ জানিয়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করার প্রবণতা নিয়ে গড়ে উঠা। অধিকাংশই ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত নয়। কিন্তু সুবিধা নেয়ার ব্যাপারে একপায়ে খাড়া। এই ধরণের একটি সংগঠন দিয়ে জনযুদ্ধভিত্তিক সামরিক সংগঠন যেমন সম্ভব ছিল না। তেমনি ভারত সরকারও অনুমোদন দিত বলে মনে হয় না।
(আগামী রবিবার সমাপ্য)

নাওজিশ মাহমুদ রাজনীতি বিশ্লেষক ও কলামিস্ট।

The Post Viewed By: 7 People