চট্টগ্রাম রবিবার, ০৯ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

মাকে রেখে সন্তানকে নিয়ে চলে গেল ট্রেন

১৬ জানুয়ারি, ২০২০ | ৭:২০ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

মাকে রেখে সন্তানকে নিয়ে চলে গেল ট্রেন

আট বছরের সন্তান সিফাতকে নিয়ে ঢাকা যাওয়ার উদ্দেশে কিশোরগঞ্জের গচিহাটা স্টেশন থেকে ট্রেনে চড়েছিলেন মা লিপি বেগম (২৮)। পথে ভৈরব বাজার জংশনে তিনি মোবাইলে রিচার্জ করতে নামলে শিশু সিফাতকে নিয়েই ছেড়ে দেয় ট্রেন। বুধবার (১৬ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এমন ঘটনা ঘটে।

চোখের সামনে সন্তানকে নিয়ে ট্রেনের ছুটে চলার দৃশ্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন লিপি। নিমিষে স্টেশনে অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। এই মা আহাজারি করে বলেন, ‘বুঝতে পারিনি, এত তাড়াতাড়ি ট্রেন ছেড়ে দেবে। আমাকে রেখে আমার ছেলেকে নিয়ে ট্রেন চলে গেল। এমন ভুল আর করবো না।’ ছেলেকে ফিরে পেতে তিনি সবার সহযোগিতা চান।

পরে স্টেশনমাস্টার ও রেলওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় ওইদিন রাতেই শিশুটিকে নরসিংদী স্টেশন থেকে উদ্ধার করা হয়। আন্তঃনগর কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি গতকাল বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে ভৈরব জংশনে পৌঁছায়। ২০ মিনিট পর ৬টা ৫ মিনিটে ট্রেনটি ঢাকার উদ্দেশে ভৈরব ছাড়ে। কিশোরগঞ্জ এক্সপ্রেস এমনিতে এই জংশনে ইঞ্জিন ঘুরিয়ে দিক পরিবর্তন করে। এতে বেশ কিছু সময় লাগে বলে যাত্রীরা অনেক সময় ট্রেন থেকে নেমে জরুরি কাজ সেরে নেন। তাই লিপি বেগমও সে কথা মাথায় রেখেই প্ল্যাটফর্মে নেমেছিলেন। সিট হারানোর ভয়ে সন্তানকে বসিয়ে রেখেছিলেন ট্রেনের কামরাতেই। কিন্তু এর মধ্যেই ট্রেন যে তাকে ছেড়ে চলে যাবে, তা তিনি কল্পনা করতে পারেননি।

ঘটনাটি জানার পর ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফেরদৌস আহমেদ বিশ্বাস নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের কাছে সহযোগিতা চেয়ে বার্তা পাঠান। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ট্রেনের খাবারের কোচ থেকে সিফাতকে উদ্ধার করেন নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ফিরোজ আহমেদ।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘ভৈরব রেলওয়ে পুলিশের মাধ্যমে বার্তা পাওয়ার পর আমরা ট্রেনে কর্তব্যরত পুলিশদের কাছে বার্তা পাঠাই। তখন তারা শিশুটিকে খুঁজে বের করে। ট্রেন থেকে নামিয়ে নিয়ে আসার সময় শিশুটির চোখেমুখে ভয়-আতঙ্ক কাজ করছিল। রাত ১০টার দিকে মা এসে শিশুটিকে নিয়ে যান।’

স্টেশন সূত্র থেকে জানা যায়, লিপির স্বামীর নাম মিজানুর রহমান। বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা গ্রামে।

 

 

পূর্বকোণ-আরপি

The Post Viewed By: 191 People

সম্পর্কিত পোস্ট