চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট, ২০২০

সর্বশেষ:

এবার পাঁচ নির্বাচন কর্মকর্তাকে তলব

১০ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ৪:৪২ পূর্বাহ্ণ

ইমাম হোসাইন রাজু

এবার পাঁচ নির্বাচন কর্মকর্তাকে তলব

সম্পদ বিবরণী ও স্ত্রী-সন্তানের বিভিন্ন তথ্য চেয়েছে দুদক হ কাল চারজন ও রবিবার একজনকে হাজির হওয়ার নির্দেশ

সম্পদ বিবরণীর তথ্য চেয়ে চট্টগ্রাম জেলা নির্বাচন অফিসের সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুনীর হোসাইন খানসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক। একই সাথে এই পাঁচ কর্মকর্তা ও তাদের স্ত্রী-সন্তানদের বিভিন্ন নথিও চাওয়া হয়েছে। এছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুর বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য জানতে পৃথকভাবে তলব করা হয়েছে দুই কর্মকর্তাকে। গতকাল সোমবার দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের পক্ষ থেকে পৃথক পৃথকভাবে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। দুদক ও নির্বাচন কমিশনের সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তলবকৃতদের মধ্যে চারজনকে আগামীকাল বুধবার ডাকা হলেও একজনকে আগামী ১৫ ডিসেম্বর রবিবার হাজির হতে বলা হয়।

মুনীর হোসাইন খান ছাড়া বাকি চার কর্মকর্তা হলেন অতিরিক্ত জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল আলম, পাঁচলাইশ থানার সাবেক নির্বাচন কর্মকর্তা (বর্তমানে পাবনায় কর্মরত) আব্দুল লতিফ শেখ, সীতাকু- উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আশরাফুল আলম, ডবলমুরিং থানা নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমা।
এদের মধ্যে চারজনকে আগামীকাল বুধবার নগরীর আগ্রাবাদস্থ দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক, সমন্বিত জেলা কার্যালয়,চট্টগ্রাম-২ এ হাজির হতে বলা হয়। তবে শুধুমাত্র আব্দুল লফিত শেখকে আগামী ১৫ ডিসেম্বর একই কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে নথিপত্রসহ বক্তব্য উপস্থাপন করতে বলা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রোহিঙ্গা ইস্যু এবং একই ইস্যুতে এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার হওয়া নির্বাচন কমিশনের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জানতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আব্দুল লতিফ শেখ ও ডবলমুরিং নির্বাচন কর্মকর্তা পল্লবী চাকমাকে তলব করা হয়। বাকীদের সম্পদ বিবরণীর তথ্য চেয়ে তলাব করা হয়েছে বলেও জানায় দুদক সূত্র। এছাড়া তাদের স্ত্রী-সন্তানদের বিষয়েও বিভিন্ন তথ্য চাওয়া হয়েছে।

দুদকের একই চিঠিতে নির্বচান কমিশনের এই পাঁচ কর্মকর্তাকে তাদের স্ত্রী-সন্তানদের জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল ও ফটোকপি, পাসপোর্টের কপি এবং শুরু থেকে ২০১৮-২০১৯ কর বর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথি (যদি থাকে) সঙ্গে নিয়ে যেতেও বলা হয়। এছাড়া তাদের অর্জিত স্থাবর/অস্থাবর সম্পদ ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের ফটোকপি এবং তাদের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা হিসাবের হিসাব বিবরণীর তথ্যা চাওয়া হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদকের প্রধান কার্যালয়ে পরিচালক ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে দুদকের গঠিত টিম লিডার মো. জহিরুল ইসলামের স্বাক্ষরিত পৃথক নোটিশে বলা হয়, ‘নির্বাচন কমিশন অফিসের বিভিন্ন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আপনার বক্তব্য শ্রবণ ও গ্রহণ করা একান্ত প্রয়োজন। নিম্মবর্ণিত রেডকর্ডপত্র/কাগজপত্রসহ দুদক কার্যালয়ে হাজির হওয়ার অনুরোধ করা হলো। নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়ে বক্তব্য প্রদানে ব্যর্থ হলে বর্ণিত অভিযোগ সংক্রান্ত বিষয়ে আপনার কোন বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে’।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদক প্রধান কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ইসির এই পাঁচ কর্মকর্তা ছাড়াও আরও একাধিক কর্মকর্তার বিষয়ে তথ্য চাওয়া হবে। তাদের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গাদের জাতীয় পরিচয়পত্র দেয়ার অভিযোগে রয়েছে। অবৈধবাবে এ পরিচয়পত্র দিতে তাদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য ইতোমধ্যে দুদকের কাছে এসেছে। বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্যই তাদের ঢাকা হবে’।

The Post Viewed By: 341 People

সম্পর্কিত পোস্ট