চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৩ জুলাই, ২০২০

সর্বশেষ:

বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছে না রাজশাহীর সেই কোরআনের হাফেজ!

৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ | ১০:২৯ অপরাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

বিশ্ববিদ্যালয়ে সুযোগ পেয়েও ভর্তি হতে পারছে না রাজশাহীর সেই কোরআনের হাফেজ!

কোরআনের হাফেজ নূরনবী চাঁদ মানিক হতদরিদ্র ভ্যানচালকের মেধাবী ছেলে। সে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছে। তা সত্ত্বেও লেখাপড়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে অর্থাভাবে। রাজশাহীর বাঘা উপজেলার উত্তর গাঁওপাড়া গ্রামের হতদরিদ্র ভ্যানচালক আসমত আলীর ছেলে নূরনবী চাঁদ মানিক। পারিবারিক অস্বচ্ছলতার জন্য মাঝে মধ্যে বাবার সঙ্গে ভ্যান চালালেও মনোবল না হারিয়ে এতদিন চালিয়ে গেছেন লেখাপড়া।

২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে নূরনবী চাঁদ মানিক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সি-ইউনিটে, গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ে ডি-ইউনিটে, রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডি-ইউনিটে, পাবনার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এ-ইউনিটে ও ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েও হতদরিদ্র ভ্যানচালক বাবার ছেলের লেখাপড়া একেবারে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

তার মুখ এখন ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে। ছেলেকে উচ্চতর লেখাপড়া শিখিয়ে দেশের সেবা করাবে এই ছিল বাবার ইচ্ছা। কিন্তু  যার নুন আনতে পানতা ফুরায় তার আশা কে করবে পূরণ? ভ্যান চালিয়ে সামান্য উপার্জন দিয়ে ছেলের দু’মুঠো খাবার জোগানোই যার দূরহ ব্যাপার। সে কিভাবে ছেলেকে শহরে পড়াবে।

এ ব্যাপারে নূরনবী চাঁদ মানিকের বাবা আসমত আলী বলেন, এতদিন ভ্যান চালিয়ে খেয়ে না খেয়ে কিস্তিতে ঋণ নিয়ে ছেলেকে স্কুল-কলেজে পড়িয়েছি। এখন কি করে শহরে পড়াবো। ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাই। আমার ১ ছেলে ও ৩ মেয়ে। এর মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দেয়া হয়েছে। খুব কষ্টে দিন পার করছি। এ অবস্থায় ছেলেকে লেখাপড়া করানো আমার পক্ষে হয়তো সম্ভব হবে না। ছেলে ৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছে।

নূরনবী চাঁদ মানিক বলেন, এতদিন বাড়ির কাছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় খেয়ে না খেয়ে স্কুলে-কলেজে পড়িয়েছি। কিন্তু এখন শহরে পড়ানোর মতো বাবার অর্থ নেই। ফলে খুব চিন্তায় আছি। স্থানীয় জায়গায় লেখাপড়া করতে গিয়ে আমার বাবা অনেক কষ্ট করেছে। আমি নিজে বাবার ভ্যান চালিয়ে কোন্ কোন্ সময় খরচ চালিয়েছি। এখন শহরে পড়ানো আমার বাবার পক্ষে সম্ভব না। তবে বাঘা ফাজিল মাদ্রাসার লিপি ম্যাডাম ও তার স্বামী প্রভাষক মুক্তি মাহমুদ সহযোগিতা না করলে  অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যেত লেখাপড়া।

পূর্বকোণ/রাশেদ

The Post Viewed By: 150 People

সম্পর্কিত পোস্ট