চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০

৬ মে, ২০১৯ | ২:২৮ পূর্বাহ্ণ

জুলাইয়ের মধ্যে শেষ হবে ই-মিউটেশন: ভূমিমন্ত্রী

আগামী জুলাই মাসের মধ্যে সারাদেশে জমির ই-মিউটেশন (নামজারি) সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী। ইতোমধ্যেই ঢাকার ই-মিউটেশন শেষ হয়েছে বলেও জানান তিনি। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে ‘নগরায়ন ও বিকেন্দ্রীকরণে আবাসন খাতের চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। তিনি বলেন, সরকার অটোমেশনের মাধ্যমে ই-মিউটেশনের ডেডলাইন দিয়েছে জুন ও জুলাই মাস। এই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশকে ই-মিউটেশনের আওতায় আনা হবে। আমরা ঢাকা শহরকে সিস্টেমেটিক টাউন হিসেবে দেখতে চাই। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে চলেছে। প্রমোশনালি উন্নয়ন হচ্ছে সারাদেশে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেই ছিল গ্রাম হবে শহর, সে অনুযায়ী আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জমির দাম বেড়ে যাওয়ার জন্য

রিয়েল স্টেট কোম্পানিকে দায়ী করে তিনি বলেন, জমির দাম সরকার নয়, আপনারা বাড়াচ্ছেন। ল্যান্ড ওনারদের জমি নিয়ে ফ্ল্যাট তৈরি করে ৫০ শতাংশ বা অনেক স্থানে ৬০ শতাংশ ফ্ল্যাট দিচ্ছেন। শুধু তাই নয়, এর সঙ্গে নগদ ক্যাশও আপনারা দিচ্ছেন। এভাবে আপনারাই জায়গার দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। ‘নগরায়ন বিকেন্দ্রীকরণ করতে প্রাইভেট সেক্টরকে রোল প্লে করতে হবে। ইন্টারেস্ট রেট কমিয়ে আনতে হবে এবং দামি নয়, সাশ্রয়ী মূল্যে ফ্ল্যাট তৈরি করতে হবে।’
সেমিনারে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, গার্মেন্টস সেক্টরকে আমরা যেভাবে নিরাপদে নিয়ে গেছি ঢাকা শহরকে সেভাবেই নিরাপদ করবো। প্ল্যান অনুযায়ী ঢাকা শহরে বিল্ডিং উঠলেও মনিটরিং সিস্টেম নেই। তিনি আরো বলেন, রানা প্লাজা থেকে আমরা ঘুরে দাঁডড়য়েছি। অনেকেই বলেছিলো আমাদের দেশে কোনো গার্মেন্টস ফিরবে না। আমরা সবাই মিলে কাজ করেছি এবং ঘুরে দাঁড়িয়েছি। ঠিক তেমনিভাবেই ঢাকা শহরকে নিরাপদ বাসযোগ্য করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করবো।
ঢাকাকে স্যাটেলাইট সিটি করতে হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের মানসিকতার পরিবর্তন করতে হবে। ঢাকা শহরকে কীভাবে কন্ট্রোল করা যায় এ নিয়ে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। খালকে ডাস্টবিন বানিয়ে ফেললে চলবে না। খালকে খালি রাখতে হবে, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।
২৭টি মাঠ খেলাধুলার জন্য ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। অত্যাধুনিক টয়লেট সুবিধাসহ ২৪ ঘণ্টা খেলাধুলার ব্যবস্থা করা হবে এখানে। মানুষ রাতে হাঁটাহাঁটি করতে পারবে এই মাঠে। এছাড়াও অটোমেশনের কাজ চলছে। ঢাকা শহরের নাগরিকরা আগামীতে অটোমেশনের মাধ্যমে তাদের ট্যাক্স দিতে পারবেন।
সেমিনারে রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, আমাদের সদস্যরা নিজস্ব সম্পদ, নিজস্ব অর্থায়নে কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা দুই লাখ ফ্ল্যাট এবং ৭০ হাজার প্লট হস্তান্তর করেছি।
ডিসিসিআই সভাপতি ওসামা বিন তাসির বলেন, আবাসনখাতে একটি স্বাধীন স্ট্যান্ডার্ড রেটিং পদ্ধতি চালু করা প্রয়োজন। আর্থিক স্বচ্ছলতা, নির্মাণের গুণগত মান, জনবলের অভিজ্ঞতা, ভোক্তা সেবার মান, ডিজাইন, স্বচ্ছতা প্রভৃতির উপর ভিত্তি করে এই রেটিং পদ্ধতি চালু করা যেতে পারে।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গৃহায়ন ও গণর্পূত মন্ত্রণালয়ের প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম নাসির।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 310 People

সম্পর্কিত পোস্ট