চট্টগ্রাম শনিবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২০

৪ মে, ২০১৯ | ৩:১৬ পূর্বাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎপাদনশীলতা ক্ষতি ৩ দিনের জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে আজ

ফণীর ঝাপটার আশংকায় চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় ৩দিনের উৎপাদনশীলতা মার খেয়েছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি সাপেক্ষে আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে জাহাজ চলাচল শুরু হতে পারে বলে আশা করা যাচ্ছে।
বহির্নোঙরে এখন সারি সারি জাহাজ। কেবল কন্টেইনার জাহাজ রয়েছে ২২টি। এ ছাড়া, সাধারণ পণ্যবোঝাই জাহাজসহ অন্যান্য জাহাজও রয়েছে। ঘূর্ণিঝড় ফণীর ঝাপটার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বন্দর জেটি ফাঁকা করে দেয়া হয়। জেটি থেকে ১৬ টি জাহাজকে বহির্নোঙরে পাঠিয়ে দেয়া হয়। আবহাওয়া অধিদপ্তর ছয় নম্বর বিপদ সংকেতের বিজ্ঞপ্তির প্রচারের পরপরই এই ব্যবস্থা নেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দর কর্তৃপক্ষ নিজস্ব সংকেত এলার্ট-টু থেকে বাড়িয়ে এলার্ট-থ্রি জারি করে তখন। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় এলার্ট থ্রি জারি করা হয়। এরপরপরই জাহাজে পণ্য ওঠানো নামানোর কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। ঘূর্ণিঝড়ে জেটিতে জাহাজের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশংকা থাকে। তাই জেটি থেকে জাহাজ সাগরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক। তবে, শিপিং সংশ্লিষ্টরা ভিন্নমত দিয়েছেন এ প্রসঙ্গে। তারা বলেছেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পুনর্বাসন পরিকল্পনা পর্যালোচনা হওয়া প্রয়োজন। বন্দর কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জাহাজসমূহকে বাইরে পাঠিয়ে দিলেও যে অবস্থা ছিল গত দু’দিনে, তাতে জেটিতে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ না করলেও চলতো।
আশা করা হচ্ছে আজ থেকে আবহাওয়া পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং দুপুরের পর থেকে জাহাজ জেটিতে আসতে শুরু করবে। তবে, ৩দিনের যে উৎপাদনশীলতা মার খেলো তা কাটিয়ে উঠতে বেশ সময় লেগে যাবে। উল্লেখ্য, বন্দরে কন্টেইনার জাহাজের বহির্নোঙরে অবস্থানকাল একেবারে নি¤œ পর্যায়ে নেমে এসেছিল। সেটা আবার বেড়ে যাবে। একইভাবে বহির্নোঙরে মাদার ভেসেলের অবস্থানও বেড়ে যাবে। বহির্নোঙরে অবস্থানরত সব জাহাজে লাইটারিং বন্ধ রয়েছে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। সব লাইটার জাহাজ কালুরঘাটের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের আশংকা তৈরি হওয়ার পর বন্দরে চালু করা হয়েছে দু’টি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। কর্মকর্তারা সেখানে সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত রয়েছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সব ধরনের ছুটিও বাতিল করা হয়।

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 258 People

সম্পর্কিত পোস্ট