চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২১

৮ বছর পর সন্তানের সামনে কারাফটকে মা-বাবার বিয়ে

৫ ডিসেম্বর, ২০২০ | ৯:২৫ অপরাহ্ণ

নিজস্ব প্রতিবেদক

৮ বছর পর সন্তানের সামনে কারাফটকে মা-বাবার বিয়ে

রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে ৮ বছরের ছেলের সামনেই কারাফটকে বিয়ে হল বাবা-মায়ের। ধর্ষণ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দিলীপ খালকো (৩০) গত ৮ বছর ধরে কারাগারে আছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে কারাফটকে শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ধর্ষণের শিকার ওই নারীর (২২) বিয়ে দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১২ সালে ধর্ষণ মামলায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়। সম্প্রতি উচ্চ আদালতে দিলীপের আইনজীবী তার জামিনের আবেদন করেন। ধর্ষণের শিকার ওই নারী আদালতকে বলেন, তারা বিয়ে করবেন। আসামিকে জামিন দিলে তার আপত্তি নেই। জামিন শুনানি শেষে আদালত কারাফটকেই তাদের বিয়ের আদেশ দেয়। পরে শনিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে নিজ ধর্মীয় রীতিতে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক থাকা দিলীপের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ধর্ষণের ফলে জন্ম নেয়া ভুক্তভোগী নারীর আট বছরের ছেলে। এছাড়া কনেসহ দুই পরিবারের সদস্যরা কারাগারের সামনে আসার পর তাদের কারা ফটকে ঢোকানো হয়। সেখানে আগে থেকেই উপস্থিত হয়েছিলেন হিন্দু বিবাহ রেজিস্ট্রার কৃষ্ণা দেবী এবং পুরোহিত পরিমল চক্রবর্তী।

দিলীপ কয়েদি হিসেবে এখনও কারাবন্দি থাকার কারণে বিয়ের ছবি নিতে দেয়া হয়নি। তবে দিলীপ তার মতামত ও প্রতিক্রিয়ায় জানায়, বিয়ে করে ভালোই লাগছে। সবাই আশীর্বাদ করবেন যেন সুখে-শান্তিতে সংসার করতে পারি।

কনে বলেন, খালকোর সঙ্গে যেন বাকি জীবনটা ভালোভাবে কাটাতে পারি সেই আশীর্বাদ করবেন। আমার সন্তানের জন্যও আশীর্বাদ দিবেন।

সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা বলেন, দিলীপের বিয়ে সম্পন্ন করার জন্য উচ্চ আদালত থেকে নির্দেশ আসে। ৩ দিন আগে আদেশের কপি পাওয়ার পরই দুই পক্ষকে ডাকা হয়। আজ শনিবার দুপুরে সুষ্ঠুভাবে বিয়েও সম্পন্ন হল। এখন যত দ্রুত সম্ভব বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে পাঠানো হবে। এরপর দিলীপ খালকোকে কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া হবে।

জানা গেছে, দিলীপ কুমার এবং ভিকটিম সম্পর্কে খালাতো ভাইবোন। তাদের ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল। এর সূত্র ধরে ভিকটিমকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার সঙ্গে ২০১১ সালে দৈহিক মেলামেশা করেন দিলীপ। এতে ভিকটিম গর্ভবতী হয়ে পড়েন কিন্তু দিলীপ আর বিয়ে করতে রাজি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সালিশ করার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করা হয়। শেষ পর্যন্ত সালিশ বৈঠক না হওয়ায় ভিকটিম ওই বছরের ২৩ অক্টোবর প্রেগন্যান্সি পরীক্ষা করেন। এরপর ২৫ অক্টোবর গোদাগাড়ী থানায় হাজির হয়ে দিলীপ খালকোর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি মামলায় আসামির বিরুদ্ধে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ গঠন করা হয়। এরপর বিচার শেষে ওই বছরের ১২ জুন এক রায়ে দিলীপ খালকোকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন আদালত। আদালতের রেকর্ড অনুযায়ী যখন ভিকটিম ধর্ষণের শিকার হন তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। কিন্তু সেই বয়সেই এক ছেলে সন্তান তার কোলে আসে। মেয়েটির আর পড়াশোনা করা হয়নি। সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা আদিবাসী ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের এই মেয়েটি কৃষিশ্রমিক হিসেবে নতুন জীবন শুরু করেন। দিনে দিনে বড় হতে থাকে তার সন্তান। তার সন্তানের বয়স এখন আট বছর।

দিলীপেরও ৮ বছর জেল খাটা হয়ে গেছে। এতদিন পর দুই পরিবারের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। আদালত কনের সম্মতিতেই তাদের বিয়ের আদেশ দেয়। এখন বিয়ের কাগজপত্র উচ্চ আদালতে গেলে তার সাজা মওকুফ করলে মুক্তি পাবেন দিলীপ খালকো।

 

 

 

 

পূর্বকোণ/আরপি

শেয়ার করুন
The Post Viewed By: 134 People

মন্তব্য দিন :

সম্পর্কিত পোস্ট