চট্টগ্রাম শুক্রবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০২০

৬ নভেম্বর, ২০২০ | ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ

অনলাইন ডেস্ক

পদ্মা সেতুতে বসল ৩৬তম স্প্যান, দৃশ্যমান হল ৫ হাজার ৪০০ মিটার

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার মাওয়া প্রান্তে পদ্মাসেতুর ‘ওয়ান-বি’ পিলারের ওপর ৩৬তম স্প্যান বসানোর মাধ্যমে দৃশ্যমান হলো সেতুর ৫ হাজার ৪০০ মিটার।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকাল পৌনে ১০টার দিকে সেতুর ২ ও ৩ নম্বর পিলারের উপর  ‘১-বি’ নামের স্প্যানটি বসানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প ব্যবস্থাপক (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের।

আর মাত্র ৫টি স্প্যান বসানো বাকি থাকলো।  

এদিকে বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের মাওয়ায় অবস্থিত কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডের স্টিল ট্রাস জেটি থেকে স্প্যানটি বহন করে ভাসমান ক্রেন তিয়ান-ই রওনা দেয়। বেলা ১২টার দিকে কাঙ্ক্ষিত পিলারের কাছে পৌঁছে ৩ হাজার ৬০০ টন সক্ষমতার ক্রেনটি। নদী তীরবর্তী পথে কোথাও কোথাও পর্যাপ্ত গভীরতা না থাকায় বেশি সময় লেগেছে গন্তব্যে পৌঁছাতে। এরপর নোঙর সম্পন্ন করে ভাসমান ক্রেনটি পিলারের কাছেই অবস্থান করে। ওই দিন পর্যাপ্ত সময় না থাকায় আর স্প্যানটিকে পিলারের ওপর তোলা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, শুক্রবার বেলা পৌনে ১০টায় স্প্যান বসানো শেষ হয়।

পদ্মাসেতুতে বাকি থাকলো আর ৫টি স্প্যান বসানো। এগুলো- ১১ নভেম্বর পিলার ৯ ও ১০ নম্বরে ৩৭তম স্প্যান (২-সি), ১৬ নভেম্বর পিলার ১ ও ২ নম্বরে ৩৮তম স্প্যান (১-এ), ২৩ নভেম্বর পিলার ১০ ও ১১ নম্বরে ৩৯তম স্প্যান (২-ডি), ২ ডিসেম্বর পিলার ১১ ও ১২ নম্বরে ৪০তম স্প্যান (২-ই) ও ১০ ডিসেম্বর সর্বশেষ ৪১ নম্বর স্প্যান (২-এফ) বসবে ১২ ও ১৩ নম্বর পিলারের উপর।
এছাড়া সেতুর ২ হাজার ৯১৭টি রোডওয়ে স্লাবের মধ্যে ১ হাজার ৪১টির বেশি রোড স্ল্যাব বসানো হয়েছে। আর ২ হাজার ৯৫৯টি রেলওয়ে স্ল্যাবের মধ্যে এখন পর্যন্ত বসানো হয়েছে ১ হাজার ৫০০টির বেশি।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ৩৭ ও ৩৮ নম্বর খুঁটিতে প্রথম স্প্যান বসানোর মধ্য দিয়ে দৃশ্যমান হয় পদ্মা সেতু।

এরপর একে একে বসানো হয় ৩৪টি স্প্যান। ৪২টি পিলারে ১৫০ মিটার দৈর্ঘ্যের ৪১টি স্প্যান বসিয়ে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হবে।

পদ্মাসেতুতে মোট ৪২টি পিলারে বসানো হবে ৪১টি স্প্যান।  সেতু দৈর্ঘ্য ৬, ১৫০ মিটার (৬.১৫ কিলোমিটার)। মূল সেতু নির্মাণের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ কোম্পানি লিমিটেড (এমবিইসি) ও নদীশাসনের কাজ করছে চীনের আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিনো হাইড্রো করপোরেশন। দুটি সংযোগ সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশের আবদুল মোমেন লিমিটেড।

পূর্বকোণ/পিআর

শেয়ার করুন
  • 38
    Shares
The Post Viewed By: 100 People

সম্পর্কিত পোস্ট